মোটরসাইকেল কিভাবে চালাব দক্ষ কেহ উওরটা দিবেন?
3 Answers
সহজে বাইক চালানো শিখতে হলে প্রথমে সাইকেল চালানো শিখুন এরপর বাইক চালানো শেখা কয়েক ঘন্টার ব্যাপার মাত্র। কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই আপনাকে অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিতে হবে কারন ড্রাইভিং হাতে-কলমে শেখার জিনিস। যদি সাহায্য করার কেউ না থাকে তাহলে ড্রাইভিং স্কুলগুলোতে বাইক চালানো শেখানো হয় তাদের কাছ থেকে শিখে তারপর বাইক কিনুন। সবমিলিয়ে আপনার সময় লাগবে এক সপ্তাহ তবে বাইক চালানোর সময় খুব সাবধান থাকবেন বিশেষ করে মোড় ঘুড়ার সময়, ভেজা রাস্তায় আর যে সকল রাস্তা ভাঙাচোড়া আর বালি আছে সেখানে খুবই সাবধানে চালাবেন। সর্বদা হেলমেট পড়বেন। মনে রাখবেন দূর্ঘটনা ঘটার জন্য কয়েক সেকেন্ডের ভুলই যথেষ্ট আর বাইক দূর্ঘটনা মানে সারা জীবন বিকলাঙ্গ হয়ে ঘরে বসে থাকা।
১ । আপনার বুন্ধর মোটর সাইকেল দিয়ে চালানো শিখা থেকে বিরত থাকুন । কারন সবার মোটর সাইকেল ই নিজের পছন্দের একটি জিনিস । আপনি চালানো শিখতে গিয়ে ডানে বায়ে পড়তে ই পারেন সাইকেল এর মতো । কিন্তু আপনার বন্ধুর মোটর সাইকেল টির একটু ক্ষতিগ্রস্ততা ই আপনার বন্ধুর সাথের আপনার সম্পর্কের একটু টানা পোরা তৈরি করতে পারে । তাহলে কি দরকার বন্ধুর সাথে সম্পর্ক টি হালকা করা । কিন্তু মামা , চাচা , বাবার , টা দিয়ে শিখতে পারেন । ২। আপনি যদি মোটর সাইকেল চালানো শিখতে চান তাহলে যেকোনো একটি ড্রাইভিং স্কুল এ ভর্তি হয়ে যান । আপনার যে এলাকাতে সুবিধা হয় ঐ এলাকাতে ই যান । কোথায় ভর্তি হবেন টা নিয়ে চিন্তা করবেন না । ড্রাইভিং স্কুল প্রায় সব গুলো ই এক । ৩। আচ্ছা ধরুন আপনি মোটর সাইকেল চালানো শিখলেন কিন্তু এখনি কি রাস্তায় নেমে যাবেন ?? না তেমন টি করবেন না । আগে নুনতম ১৫ দিন থেকে ১ মাস আপনার এলাকায় মোটর সাইকেল চালান , কোনও মহাসড়ক বা ঢাকার বড় রাস্তায় ওঠবেন না মোটর সাইকেল নিয়ে । নিজের এলাকায় ২০-৩৫ কিমি বেগে মোটর সাইকেল চালান । ৪। আপনি যদি হটাত করে মহাসড়কে বা ঢাকার রাস্তায় ওঠেন , তাহলে আপনি ভয় পেয়ে যাবেন । কারন অন্যান্য যানবাহন গুলোর চালানোর সম্পর্কে ধারনা পেতে আপনাকে সময় লাগবে । আর যদি তারা হুড়ো করেন তাহলে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকেন । বা কাও কে দুর্ঘটনায় ফেলতে প্রস্তুত থাকেন । কারন আপনার অজ্ঞতা আরেক জনের জন্য বিপদ ডেকে আনবে । ৫। আচ্ছা ১ মাস হয়ে গেল , তা এখন কি করবেন ? টান দিয়ে হাই ওয়ে তে গিয়ে টপ স্পীড ওঠাবেন ??? নাকি ঢাকার বা শহরের ব্যাস্ত রাস্তায় নেমে শা শা করে মোটর সাইকেল চালাবেন ?? না কিছু ই করার প্রয়োজন নেই । আগামি ৩-৬ মাস এই ব্যাস্ত রাস্তায় ৪৫ কিমি গতি তে মোটর সাইকেল চালান । রাস্তা যতো ফাকা ই হোক ৪৫ কিমি গতিতে মোটর সাইকেল চালান । দেখবেন আস্তে আস্তে আপনি এই গতি তে আপনার মোটর সাইকেল সরবোচ্চ পরিমান নিয়ন্ত্রন বাড়বে । এবং আস্তে আস্তে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে । আপনি রাস্তার সকল যানবাহনের চাল চলন বুঝতে পারবেন । যদি এই সময়ে মহাসড়কে ওঠেন তাহলে ৬০কিমি এর বেশী গতি তুলবেন না । কারন আপনি অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য ৪৫ কিমি গতি তে এতো দিন মোটর সাইকেল চালিয়েছেন । তাই হটাত আপনি ৬০ কি মি গতি নিয়ন্ত্রন করা আপনার জন্য কঠিন হয়ে যাবে । আর তাছাড়া মহাসড়কের গাড়ির চাল চলন সম্পর্কে আপনার অভিজ্ঞতা ও অনেক কম । তাই রাস্তা যতো ই ফাকা থাকুক গতি ৬০ কিমি এ ই রাখুন । ৬। রাস্তায় যতো স্পীড ব্রেকার থাকবে সব গুলো ব্যাবহার করবেন , স্পীড ব্রেকার এর একদম পাশের একটু যে খালি জায়গা থাকা ঐ দিক দিয়ে টান দিবেন না । এই ছোট্ট স্পীড ব্রেয়াকার দিয়ে ই আপনি মোটর সাইকেল চালানোর সময় আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে পারেন । এই স্পীড ব্রেয়াকার টির জন্য আপনার মোটর সাইকেল এর গতি কমাতে এবং ওটা পার হয়ে আবার আগের গতিতে যেতে ৮-১৫ সেকেন্ড লাগবে । কিন্তু যদি এই ১৫ সেকেন্ড ই ধৈর্য না ধরতে পারেন তাহলে কিভাবে ৪০ মিনিট বা ৫০ মিনিট এর পুরো যাত্রা টি আপনি ধৈর্য ধরে থাকবেন ?? মোটর সাইকেল চলানোর জন্য অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয় , কারন আপনার ছোট্ট একটি দুর্ঘটনার ফলাফল টা ও আপনার শরীরের ওপর দিয়ে ই যাবে ।
এটা কঠিন কিছু না । আপনি তারাতারি শিখতে পারবেন তবে তা আপনার ইচ্ছা ও আগ্রহের উপর নির্ভর করছে । সাইকেল চালাতে না পারার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই । মোটর সাইকেল চালাতে পারে এমন যে কারও সহযোগিতায় প্রথম দিন থেকেই আপনি চালাতে পারবেন । তবে ঢাকা শহর বা ব্যাস্ত রাস্তায় চালানোর পুর্বে কমপক্ষে ২০০ কিঃ মিঃ ফাকা রাস্তা বা মাঠে চালানোর অনুশীলন করাটা উত্তম হবে । এর ফলে লাইসেন্স পাওয়াটাও অনেক সহজ হবে ।