3 Answers
হিক্কা বা হেঁচকি বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে যেমন :-
# পেট ফাঁপা।
# রক্ত স্বল্পতা।
# অধীক মানসিক পরিশ্রম।
# ভয়, আতংক ।
# ক্রোধ, রাগ চেপে রাখলে।
# শরীরের পটাসিয়ামের অভাব হলে।
# মসিত্মষ্কের কোন জটিল রোগ (টিউমার, প্রদাহ, ব্রেইন স্ট্রোক, মাথায় আঘাত ইত্যাদি)।
# হার্টের রোগ- মায়োকার্ডিয়াল ইনর্ফাকশন।
# ভ্যাগাস স্নায়ু (পেটের ভিতরের স্নায়ু) উত্তেজিত হলে।
# খাদ্য নালী সংকোচন হলে।
# হেপাটাইটিস।
# কিডনী অকেজো হলে।
অনেক সময় উপরের কারণগুলো ছাড়াও অজানা কারণে হিক্কা বা হেঁচকি হতে পারে। এই রোগের ভোগকাল বা স্থায়ীকাল ১০/১২ দিন বা আরও বেশি।
প্রাথমিক চিকিৎসা :-
১। স্বাবাভিক পানি পান করতে হবে।
২। বরফ জল বা শীতল পানি পানে উপকার হয়।
৩। ডাবের পানি গরম করে খাওয়ালে হিক্কা বা হেঁচকি বন্ধ হয়।
৪। এক মুঠো খই গোলাপ জলে ভিজিয়ে এর সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে খেলে হিক্কার উপশম হয়।
৫। সর্বোৎকৃষ্ট চিকিৎসা হচ্ছে – একটি কাগজের ব্যাগের মধ্যে নাক-মুখ ঢুকিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। এই পদ্ধতি আপনার
রোগ না হলেও, এটি বেশ বিরক্তিকর একটি সমস্যা।
চিকিৎসা শাস্ত্রে হেঁচকি ‘সিঙ্ক্রোনাস ডায়াফ্র্যাগমাটিক ফ্লাটার বা সিংগাল্টাস’ নামে পরিচিত।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে হেঁচকি ওঠার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানানো হয়।
কারণ
সাধারণত অতিরিক্ত ভরা পেটে হেঁচকি ওঠার প্রবনতা বেশি থাকে। অতিরিক্ত পেট ভরার কারণগুলো হচ্ছে:
১। অল্প সময়ে একসঙ্গে অনেক খাবার খেলে।
২। বেশি পরিমাণ অ্যালকোহল পান করলে।
৩। প্রয়োজনের বেশি শ্বাস নিলে।
৪। ধূমপানের কারণে।
৫। হঠাৎ পেটের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে, যেমনঃ গরম পানীয় পান করার পরপরই ঠাণ্ডা পানীয় পান করলে এমনটা হতে পারে।
৬। মানসিক চাপ বা উত্তেজনার কারণে।
প্রতিকার
কিছু সাধারণ পন্থা অবলম্বন করলেই বিরক্তিকর হেঁচকির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
১। বড় করে একটি শ্বাস নিয়ে যতক্ষণ সম্ভব শ্বাসটি চেপে ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে নাক চেপে ধরতে ভুলবেন না।
২। একটি কাগজের ব্যাগে মুখ ঢুকিয়ে শ্বাস নিতে হবে। তবে কাগজের ব্যাগ দিয়ে পুরো মাথা ঢেকে ফেললে চলবে না।
৩। মুখের উপরিভাগ ভালোভাবে মালিশ করতে হবে। এক্ষেত্রে খুব সাবধানে একটি তুলা দিয়ে ম্যাসাজ করতে হবে। সম্ভব হলে গলার পিছনে মালিশ করতে পারেন।
৪। হেঁচকি বন্ধে এক চামচ চিনি খেলে উপকার পাওয়া যাবে।
৫। কাশি, ঢেকুর বা হাঁচি যে কোন একটি দেওয়া গেলে হেঁচকি ওঠা কমে যাবে। ধারণা করা হয় এতে বুক ও পেটের অংশ ভাগ করার মাঝে যে পর্দা থাকে তা সংকুচিত হয়ে হেঁচকি ওঠা রোধ করতে সাহায্য করে।
৬। কিছু গেলার সময় (বা ঢোক গেলার সময় হতে পারে) নাকে হালকা করে চাপ দিতে হবে।
৭। বুকে মৃদু চাপ দিলে উপকার পাওয়া যাবে। এছাড়া বুকের কাছাকাছি হাঁটু এনে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করলে উপকারও পাওয়া যাবে।
৮। হেঁচকি ওঠা রোধ করতে পাতলা করে কাটা এক টুকরা লেবু জিহ্বার উপর নিয়ে ক্যান্ডির মতো চুষে খেলে কাজে দেবে।
৯। অনেক সময় কোমল পানীয় পান করে ঢেকুর তুললে হেঁচকি ওঠা বন্ধ হয়। তবে, সোডা-পানি পান থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ এতে করে হেঁচকি ওঠার সম্ভবনা বেড়ে যায়
হেঁচকি বা হিক্কা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। অনেক সময় এই বিরক্তিকর হেঁচকি অনবরত চলতেই থাকে, শেষ হতে চায় না। কেন হয় এই হেঁচকি, এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?
আমাদের বুকের খাঁচাকে পেট থেকে আলাদা করেছে একটি মাংসপিণ্ড। যার নাম ডায়াফ্রাম বা বক্ষচ্ছদা। শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে এই ডায়াফ্রামের। এই ডায়াফ্রামের আকস্মিক সংকোচনের ফলেই হঠাৎ হেঁচকি শুরু হয়। প্রতিবার সংকোচনের ফলে ভোকাল কর্ড সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় বলে হিক শব্দ তৈরি হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টারও বেশি স্থায়ী হতে দেখা যায় মাঝে মাঝে, আর তা হলে দুশ্চিন্তার বিষয় বৈকি।
ডায়াফ্রামের স্নায়ুতে ব্যাঘাত হলেই এমনটি হতে পারে। স্ট্রোক, মস্তিষ্কে টিউমার ও আঘাত বা প্রদাহ হলেও হেঁচকি হয়। ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায়, রক্তে লবণের তারতম্য ঘটলে, অ্যানেসথেশিয়ার পর এবং নানা রকম ঘুমের ওষুধ বা স্টেরয়েড ওষুধ সেবনেও এটি হতে পারে।
অধিকাংশ হেঁচকি আপনাতেই সেরে যায়, কোনো চিকিৎসা লাগে না। চলতেই থাকলে একটি কাগজের ব্যাগের ভেতর জোরে জোরে শ্বাস ছাড়ুন ও নিন। খুব ঠান্ডা পানি খেলে বা ঠান্ডা পানি দিয়ে গড়গড় করলেও থেমে যাবে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy