5 Answers

আপনি সূর্য দিয়ে উদাহরণ দিতে পারেন । সূর্য তো আমাদের থেকে ওনেক দূরে, তবে কীভাবে তার আলো সারা পৃথিবীকে কীভাবে আলোকিত করে ?? বলতে পারে রাতে তো সূর্য দেখা যায় না? সূর্য না দেখা গেলেও কি আমরা অন্ধকারে থাকি । সূর্য থেকে প্রাপ্ত ইলেকট্রিসিটি দিয়ে আমরা রাতের অন্ধকার নিবারণ করি ।

3538 views

আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান

কথিত আহলে হাদীস সম্প্রদায় প্রচার করে থাকে, আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান নয়। তারা দলিল হিসেবে পেশ করে থাকে সূরা হাদীদের ৩ নং আয়াত। যেখানে ঘোষিত হয়েছে আল্লাহ তায়ালা আরশে সমাসিন। ওরা কিছু আয়াত দিয়ে আরো অসংখ্য আয়াতকে অস্বিকার করে নাউজুবিল্লাহ। যেই সকল আয়াত দ্বারা বুঝা যায় আল্লাহ তায়ালা আরশসহ সর্বত্র বিরাজমান।
কিছু আয়াতকে মানতে গিয়ে আরো ১০/১২টি আয়াত অস্বিকার করার মত দুঃসাহস আসলে কথিত আহলে হাদীস নামী ফিতনাবাজ বাতিল ফিরক্বাদেরই মানায়।
অসংখ্য আয়াতে কারীমাকে অস্বিকার করে আল্লাহ তায়ালাকে কেবল আরশে সীমাবদ্ধ করার মত দুঃসাহস ওরা দেখাতে পারলেও আমরা পারি না। আমরা বিশ্বাস করি-আল্লাহ তাআলার কুরসী আসমান জমিন সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। তিনি স্থান কাল থেকে পবিত্র। আল্লাহর গোটা রাজত্বের সর্বত্র তিনি রয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা আরশে রয়েছেন একথা আমরা অস্বিকার করি না। তিনি আরশে রয়েছেন। তিনি এছাড়াও সর্বত্র রয়েছেন। তাহলে আমরা সকল আয়াতকেই মানি। আর ওরা শুধু আরশ সংশ্লিষ্ট কিছু আয়াত মানে, বাকিগুলোকে অস্বিকার করে।

কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকা দেহধারী সত্তার বৈশিষ্ট। আল্লাহ তায়ালার মত নিরাকার সত্তার জন্য এটা শোভা পায় না। এই আহলে হাদীস বাতিল ফিরক্বাটি এতটাই বেয়াদব যে, আল্লাহ তায়ালার দেহ আছে বলে বিশ্বাস করে। দেহ থাকাতো সৃষ্টির বৈশিষ্ট। সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সকল সৃষ্টির স্রষ্টার জন্য দেহ সাব্যস্ত করা এক প্রকার সুষ্পষ্ট শিরক। এই শিরকী আক্বিদা প্রচার করছে ইংরেজ সৃষ্ট কথিত আহলে হাদীস সম্প্রদায়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের এই ভয়াবহ মারাত্মক বাতিল ফিরক্বার হাত থেকে আমাদের দেশের সরলমনা মুসলমানদের হিফাযত করুন। বক্ষমান প্রবন্ধে আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান নিয়ে একটি দলিল ভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করা হল। পরবর্তী প্রবন্ধে আল্লাহ তায়ালা যে দেহ থেকে পবিত্র, আল্লাহ তায়ালার দেহ সাব্যস্ত করা সুষ্পষ্ট শিরকী, এই ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা প্রকাশ করা হবে ইনশাআল্লাহ।

১-

ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ
অতঃপর তিনি আরশের উপর ক্ষমতাশীল হোন। {সূরা হাদীদ-৩}

২-

قوله تعالى {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ}

আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। {সূরা বাকারা-১৮৬}

৩-

قوله تعالى {وَنَحنُ أَقرَبُ إِلَيهِ مِن حَبلِ الوَرِيدِ} [ق 16] আর আমি বান্দার গলদেশের শিরার চেয়েও বেশি নিকটবর্তী। {সূরা কাফ-১৬}

৪-

فَلَوْلا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ (83) وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ (84) وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لا تُبْصِرُونَ (85)
অতঃপর এমন কেন হয়না যে, যখন প্রাণ উষ্ঠাগত হয়। এবং তোমরা তাকিয়ে থাক। এবং তোমাদের চেয়ে আমিই তার বেশি কাছে থাকি। কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা {সূরা ওয়াকিয়া-৮৩,৮৪,৮৫}

৫-

{ وَللَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ } [البقرة-115] পূর্ব এবং পশ্চিম আল্লাহ তায়ালারই। সুতরাং যেদিকেই মুখ ফিরাও,সেদিকেই রয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সর্বব্যাপী সর্বজ্ঞাত {সূরা বাকারা-১১৫}

৬-

قوله تعالى { وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَمَا كُنتُمْ } [ الحديد – 4 ] তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন {সূরা হাদীদ-৪}

৭-

وقال تعالى عن نبيه : ( إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا (التوبة من الآية40
যখন তিনি তার সাথীকে বললেন-ভয় পেয়োনা, নিশ্চয় আমাদের সাথে আল্লাহ আছেন {সূরা হাদীদ-৪০}

৮-

قوله تعالى مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلاثَةٍ إِلاَّ هُوَ رَابِعُهُمْ وَلا خَمْسَةٍ إِلاَّ هُوَ سَادِسُهُمْ وَلا أَدْنَى مِن ذَلِكَ وَلا أَكْثَرَ إِلاَّ هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ( المجادلة – 7
কখনো তিন জনের মাঝে এমন কোন কথা হয়না যাতে চতুর্থ জন হিসেবে তিনি উপস্থিত না থাকেন, এবং কখনও পাঁচ জনের মধ্যে এমন কোনও গোপন কথা হয় না, যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি উপস্থিত না থাকেন। এমনিভাবে তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি, তারা যেখানেই থাকুক, আল্লাহ তাদের সঙ্গে থাকেন। অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে অবহিত করবেন তারা যা কিছু করত। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু জানেন {সূরা মুজাদালা-৭}

৯-

وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ
আল্লাহ তায়ালার কুরসী আসমান জমিন ব্যাপৃত {সূরা বাকারা-২৫৫}

3538 views

এধরনের হাস্যকর মন্তব্য কেবল মহামুর্খরাই করবে কারন বিষয়টা অত্যন্ত সহজ কিন্তু কিছু মুর্খ ও জ্ঞান পাপীরা বুঝে-নাবুঝে সহজ বিষয়টাকে জটিল করার চেষ্টা করে। যেমন স্কুল, কলেজ বা যে কোন প্রতিষ্ঠানের যিনি প্রধান তিনিতো তার প্রতিষ্ঠানের ছোট-বড় সকল বিষয়ে অবগত থাকনে, প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি বিষয়ে তাকে নজর দিতে হয় আর এটা তিনি করেন তার একাধীক সহকারির মাধ্যমে। আবার একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীকেও দেশের সকল বিষয়ে অবগত থাকতে হয় কিন্তু তিনি কি দেশের প্রতিটা স্থানে সকল ঘটনা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে পারেন? তাকে সকল বিষয়ে অবগত করার জন্য একাধীক দপ্তর, মন্ত্রী, সহকারি ও মাধ্যম রয়েছে। তুলানামুলক আল্লাহর ক্ষমতা অসীম তাই তিনি পৃথিবী থেকে অনেক দূরে থেকেও সব কিছু শুনেন, দেখেন ও জানেন আর তাঁর আদেশ পালন করার জন্য অসংখ্য ফেরেস্তা রয়েছে। 

3538 views

প্রথমত...আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান নন। আল্লাহর গুন, ক্ষমাতা ও প্রজ্ঞা সর্বত্র বিরাজমান। মুমিনের দিলই আল্লাহর আরশ নয়। মুমিনের দিল হলো আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা আর আনুগত্যের স্থান।  আর আল্লাহ তায়ালা সাত আসমানের উপর তার আরশে সমাসীন রয়েছেন। দেখুন- আরাফ ৫৪, ইউনুস ৩, রাদ ২, ত্বহা ৫, ফুরকান ৫৯, সাজদাহ ৪, হাদীদ ৪।


দ্বিতীয়ত...আল্লাহ নিরাকার নন। আল্লাহর আকার আছে। তবে তা কেমন, সে বিষয়ে কেউ জানে না। স্বতন্ত্রভাবে আল্লাহর হাত, পা, চোখ সবই আছে। তবে এসবের কোনো সাদৃশ্য নেই। আল্লাহর তুলনা কেবল একমাত্র এক আল্লাহই। দেখুন- ইখলাস ৩, তূর ৪৮, মায়িদাহ ৬৪, ত্বহা ৩৯, সাদ ৭৫, কাসাস ৮৮, রহমান ২৭, যুমার ৬৭।

3538 views

সর্বেশ্বরবাদী মুসলমানরা যে আয়াত দেখিয়ে আল্লাহর সবজায়গায় উপস্থিত থাকার প্রমাণ দেয় তা হলো–

১-

ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ
অতঃপর তিনি আরশের উপর ক্ষমতাশীল হোন। {সূরা হাদীদ-৩}

২-

قوله تعالى {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ}

আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। {সূরা বাকারা-১৮৬}

৩-

قوله تعالى {وَنَحنُ أَقرَبُ إِلَيهِ مِن حَبلِ الوَرِيدِ} [ق 16]

আর আমি বান্দার গলদেশের শিরার চেয়েও বেশি নিকটবর্তী। {সূরা কাফ-১৬}

৪-

فَلَوْلا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ (83) وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ (84) وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لا تُبْصِرُونَ (85)

অতঃপর এমন কেন হয়না যে, যখন প্রাণ উষ্ঠাগত হয়। এবং তোমরা তাকিয়ে থাক। এবং তোমাদের চেয়ে আমিই তার বেশি কাছে থাকি। কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা {সূরা ওয়াকিয়া-৮৩,৮৪,৮৫}

৫-

{ وَللَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ } [البقرة-115]

পূর্ব এবং পশ্চিম আল্লাহ তায়ালারই। সুতরাং যেদিকেই মুখ ফিরাও,সেদিকেই রয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সর্বব্যাপী সর্বজ্ঞাত {সূরা বাকারা-১১৫}

৬-

قوله تعالى { وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَمَا كُنتُمْ } [ الحديد – 4 ] তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন {সূরা হাদীদ-৪}

৭-

وقال تعالى عن نبيه : ( إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا (التوبة من الآية40

যখন তিনি তার সাথীকে বললেন-ভয় পেয়োনা, নিশ্চয় আমাদের সাথে আল্লাহ আছেন {সূরা হাদীদ-৪০}

৮-

قوله تعالى مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلاثَةٍ إِلاَّ هُوَ رَابِعُهُمْ وَلا خَمْسَةٍ إِلاَّ هُوَ سَادِسُهُمْ وَلا أَدْنَى مِن ذَلِكَ وَلا أَكْثَرَ إِلاَّ هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ( المجادلة – 7

কখনো তিন জনের মাঝে এমন কোন কথা হয়না যাতে চতুর্থ জন হিসেবে তিনি উপস্থিত না থাকেন, এবং কখনও পাঁচ জনের মধ্যে এমন কোনও গোপন কথা হয় না, যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি উপস্থিত না থাকেন। এমনিভাবে তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি, তারা যেখানেই থাকুক, আল্লাহ তাদের সঙ্গে থাকেন। অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে অবহিত করবেন তারা যা কিছু করত। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু জানেন {সূরা মুজাদালা-৭}

৯-

وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ

আল্লাহ তায়ালার কুরসী আসমান জমিন ব্যাপৃত {সূরা বাকারা-২৫৫}

—————————————————————

আমি বলতে চাই যারা এরকম বিশ্বাস করে ফেলেছে তারা ভ্রান্ত বিশ্বাস গ্রহণ করেছে। আরো বুদ্ধি খাঁটিয়ে চিন্তা করলে বুঝা যাবে যে আল্লাহর ক্ষমতা-গুণ-প্রজ্ঞা সব জায়গায় বিদ্যমান। এই আয়াত ও হাদিসগুলো দেখুন:

নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি আসমান সমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। [সূরা আরাফ, আয়াত ৫৪]

.

নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশে সমুন্নত হন। [সূরা ইউনুস, আয়াত ৩]

.

আল্লাহ যিনি আসমান সমূহ উপরে স্থাপন করেছেন খুঁটি ছাড়া, তোমরা তা দেখছো। অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। [সূরা রাদ, আয়াত ২]

.

উল্লেখিত আয়াতগুলো দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তায়ালা আরশে সমুন্নত আছেন। কিভাবে সমুন্নত আছেন, এ কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। ইমাম মালেক রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ “কাইফিয়াত বা (সমুন্নত হওয়ার) পদ্ধতি অজ্ঞাত আর ইসতাওয়া বা সমুন্নত হওয়াটা জ্ঞাত। এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন করা বিদআত”। [ইমাম বাইহাক্বীর আল আসমা ওয়াস সিফাত, পৃষ্ঠা ৪০৮ ।। তামহীদ ৭/১৫১]

.

আল্লাহ তায়ালা আসমানের উপর আছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছো যে, যিনি আকাশের উপর রয়েছেন তিনি তোমাদের সহ ভূমিকে ধসিয়ে দিবেন না? আর তখন ওটা আকস্মিকভাবে থরথর করে কাঁপতে থাকবে। অথবা তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছো যে, আকাশের উপর যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদের উপর পাথর বর্ষণকারী ঝঞ্ঝা বায়ু প্রেরণ করবেন না? তখন তোমরা জানতে পারবে কিরূপ ছিল আমার সতর্কবাণী”। [সূরা মুলক, আয়াত ১৬-১৭]

.

মু’আবিয়া বিন আল হাকাম আস সুলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমার এক দাসী ছিল। সে উহুদ ও জাওওয়ানিয়্যাহ এলাকায় আমার বকরীপাল চড়াতো। একদিন আমি হঠাৎ সেখানে গিয়ে দেখলাম তার বকরীপাল থেকে বাঘে একটি বকরী নিয়ে গিয়েছে। আমি তো অন্যান্য আদম সন্তানের মত একজন মানুষ। তাদের মত আমিও ক্ষোভ ও চপেটাঘাত করলাম। এরপর আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে আসলাম (এবং সব কথা বললাম) কেননা বিষয়টি আমার কাছে খুবই গুরুতর মনে হলো। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল, আমি কি তাকে মুক্ত করে দিবো? তিনি বললেনঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। সুতরাং আমি তাকে এনে রসূলুল্লাহর কাছে হাজির করলাম। তিনি তাকে (দাসীকে) জিজ্ঞেস করলেনঃ আল্লাহ কোথায়? সে বললঃ আকাশে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি কে? সে বললঃ আপনি আল্লাহর রসূল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ তুমি তাকে মুক্ত করে দাও, সে একজন মুমিনাহ নারী। [সহীহ মুসলিম, অনুচ্ছেদঃ মসজিদ ও সালাতের স্থান সমূহ, হাদিস নং ১০৮৬]

.

আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ যয়নব (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অন্যান্য স্ত্রীগণের উপর গর্ব করে বলতেন যে, তাঁদের বিয়ে তাঁদের পরিবার দিয়েছে আর আমার বিয়ে আল্লাহ সপ্তম আসমানের উপর থেকে সম্পাদন করেছেন। [সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ তাওহীদ, হাদিস নং ৭৪২০]

.

আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যমীনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করা, আকাশে যিনি আছেন (আল্লাহ) তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। [তিরমিযী, হাদিস নং ১৮৪৭ ।। আবু দাউদ, হাদিস নং ৪২০৯]

.

ইমাম আবু হানীফা রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ যে ব্যক্তি বলবে আল্লাহ আসমানে আছেন নাকি যমীনে আছেন আমি তা জানি না, সে কুফরী করবে। অনুরূপভাবে যে বলবে আল্লাহ আরশে আছেন কিন্তু তাঁর আরশ আসমানে নাকি যমীনে আমি তা জানি না, সেও কুফরী করবে। [আল ফিকহুল আবসাত, পৃষ্ঠা ৪৬ ।। মাজমুউ ফাতওয়া ইবনু তাইমিয়্যাহ, ৫/৪৮ পৃষ্ঠা]

.

ইমাম আবু হানীফা রহিমাহুল্লাহ আরো বলেনঃ আল্লাহ তায়ালা উপর থেকে বান্দার আহ্বানে সাড়া দেন, নিচ থেকে নয়। কেননা নিচ রুবুবিয়্যাহ ও উলুহিয়্যাতের কোন গুণের মধ্যে পড়ে না। [আল ফিকহুল আবসাত, পৃষ্ঠা ৫১]

.

ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহ বলেছেনঃ আল্লাহ হচ্ছেন আসমানে আর তাঁর জ্ঞান সব জায়গায় বিরাজমান। [মাসায়িলি ইমাম আহমাদ, পৃষ্ঠা ২৬৩ ।। ইবনু আব্দিল বার বর্ণনা করেছেন আত তামহিদ, ৭/১৩৮]

.

ইমাম শাফেঈ বলেছেনঃ ঐ সুন্নাহ বা রীতির ব্যাপারে কথা হলো যে সুন্নাহ বা রীতির উপর আমি আছি এবং আমার সাথীদেরকে দেখেছি তার উপর। আর আহলে হাদিসদেরকে দেখেছি যাদের কাছ থেকে আমি ইলম গ্রহণ করেছি যেমন সুফইয়ান, মালিক এবং অন্যান্যরা তারা ঐ বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আর তা হল এ স্বীকৃতি দেয়াঃ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল। এবং আল্লাহ তায়ালা আসমানে আরশের উপর রয়েছেন। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তার সৃষ্ট জীবের নিকটবর্তী হন এবং আল্লাহ যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই দুনিয়ার আসমানে নামেন। [ইজতিমাউল জুউশিল ইসলামী, পৃষ্ঠা ১৬৫ ।। ইসবাতুল উলু, পৃষ্ঠা ১২৪]

.

ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ তায়ালা যেভাবে তিনি চান সেভাবেই তিনি আরশে রয়েছেন। আমরা এর প্রতি বিশ্বাস আনবো এর কোন সীমা বা সিফাত বর্ণনা করা ব্যতীত। কেননা আরশে সমাসীন হওয়া আল্লাহর একটি সিফাত। আর আল্লাহর সিফাত ঐ ভাবেই বর্ণনা করতে হবে যেভাবে তিনি নিজের জন্য বর্ণনা করেছেন। যেখানে কোন চোখের পৌছা সম্ভব নয়। [আদ দূরউ তায়ারুযিল আকলি ওয়ান নাকলি, ২/৩১]

আশা করি বুঝেছেন।

3538 views

Related Questions