2 Answers
অনিয়মিত পিরিয়ড প্রায় নারীদেরই একটি অতিপরিচিত শারীরিক সমস্যা। সাধারণত ৩৫ দিনের বেশী সময় পর পিরিয়ড শুরু হওয়াকে অনিয়মিত পিরিয়ডের অন্তর্ভুক্ত করা যায়, কেননা স্বাভাবিক পিরিয়ড ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে শুরু হয়। একজন নারী সাধারণত বছরে ১১ থেকে ১৩ টি পিরিয়ড পেয়ে থাকে কিন্তু যাদের অনিয়মিত পিরিয়ড জনিত সমস্যায় ভোগেন তারা পান বছরে মাত্র ৬ থেকে ৭ টি পিরিয়ড। আমরা চাইলে ঘরোয়াভাবে আমাদের অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যার সমাধান করতে পারি।
- আদা (Ginger): আদা অনিয়মিত পিরিয়ড ও পিরিয়ডের ব্যথার অন্যতম নিরাময় হিসেবে কাজ করে। দেড় চা চামচ তাজা আদা এক চাপ পানির সাথে ৫ থেকে ৭ মিনিট ফুটান, এরপর এতে সামান্য চিনি মেশান। এরপর এই মিশ্রণ তিনবেলা খাবার পর গ্রহণ করুন। এভাবে একমাস খেয়ে দেখুন আপনার পিরিয়ড নিয়মিত হবে।
- অ্যালোভেরা (Aloe Vera): অ্যালোভেরা ন্যাচারালি শরীরের হরমোনের মাত্রা সঠিক রেখে অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা সমাধান করে। একটি অ্যালোভেরা কাণ্ড থেকে সরাসরি জেল সংগ্রহ করুন, এতে সামান্য পরিমাণ মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে নাশতার পর এটা গ্রহণ করুন। এভাবে ৩ মাস খাওয়া চালিয়ে যান আশা করা যায় আপনার সমস্যার সমাধান হবে। তবে মনে রাখবেন পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে কখনোই এটি গ্রহণ করবেন না।
- কাঁচা পেপে (Unripe Papaya): কাঁচা পেঁপের পুষ্টিমান আপনার পিরিয়ড নিয়মিত করতে সাহায্য করে। কাঁচা পেঁপের জুস বানিয়ে কয়েকমাস ধরে প্রতিদিন খেতে থাকুন। দেখবেন আপনার অনিয়মিত পিরিয়ড আবার নিয়মিত হচ্ছে, তবে অবশ্যই পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে এই জুস পান করবেন না।
- হলুদ (Turmeric): হলুদ গ্রহণ করার ফলে আপনার শরীরের হরমোন ও পিরিয়ডের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। হাফ চা চামচ হলুদের গুঁড়ার সাথে একটু দুধ ও মধু মিশিয়ে পর পর কয়েক সপ্তাহ পান করুন। দেখবেন আপনার পিরিয়ডজনিত সমস্যার সমাধান হয়ে যাচ্ছে।
- গাজরের জুস (Carrot Juice): গাজরের জুসের অফুরন্ত আইরন উপাদান অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন একটানা ৩ মাস গাজরের জুস গ্রহণ করার ফলে আপনার পিরিয়ডের সমস্যা কমে যাবে।
- পুদিনাপাতা (Mint): শুকনা পুদিনা পাতা আর মধুর কম্বিনেশন আপনার অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা সমাধের অন্যতম ভেষজ চিকিৎসা। শুকনা পুদিনা পাতার গুঁড়ার সাথে মধু মিশিয়ে দিনে দুই বার করে পর পর ৩ সপ্তাহ খেয়ে দেখুন কাজ হয়ে যাবে।
পিরিয়ডের সমস্যাতে আতঙ্কিত না হয়ে ঘরোয়াভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন। ক্ষতির সম্ভাবনা ছাড়ায় আপনার সুস্থতার শতভাগ গ্যারান্টি এতে নিশ্চিন্তে দেওয়া যায়।
অনেক নারীই অনিয়মিত মাসিকের সমস্যায় ভোগেন। আর এ বিষয়ে তারা চিকিৎসকের কাছে যেতেও সঙ্কোচ বোধ করেন। তাই এর ঘরোয়া সমাধানের খোঁজ করেন অনেকেই। আমাদের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় যেসব খাদ্য উপাদান থাকে সেগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর সমাধান। অনিয়মিত মাসিকের চিকিৎসায় যুগ যুগ ধরে চলে আসছে নানা ভেষজ পদ্ধতি, এটা বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত। মাসিক নিয়মিত করার একটি সহজ ভেষজ হলো কাঁচা পেঁপে। নিয়মিত কাঁচা পেপে খেলে অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা উপশমে তা অনেক উপকারী। নিয়মিত খেলে একসময় আর মাসিক অনিয়মিত হবে না।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy