আমি অনেক চাপা স্বভাবের। কারও সাথে সহজে বন্ধুত্ব করে উঠতে পারি না। তাই আমার বন্ধু সংখ্যা খুব কম। বন্ধু বলতে ৩ জন বন্ধু আছে যারা আমার স্কুল লাইফের ফ্রেন্ড। কিন্তু আজকাল তারা ব্যাস্ত থাকে অনেক বেশি। যার জন্য আমাদের মাঝে দুরত্বের সৃষ্টি হয়। তাই ইদানিং খুব একা হয়ে পড়েছি। বাইরে প্রয়োজন ছাড়া যাইনা। আমি সবসময় ফেসবুকিং করেই সময় কাটাই।  কিন্তু সেটাও আর ভালো লাগছেনা। এখন আমি কি করতে পারি?
3016 views

3 Answers

আপনার বয়স উল্লেখ করেন নি, এবং আপনি কি করেন তাও উল্লেখ করেন নি। তবে এটুকু পড়ে যা মনে হল তাতে আপনি পড়াশুনা আপাতত করছেন না কিংবা চাকুরির প্রস্তুতি জাতীয় কিছু করছেন হয়ত। আপনি লিখেন ফেসবুকে আপনি অনেক সময় ব্যয় করছেন। পৃথিবীতে সব মানুষ সমান না, কেউ হইহুল্লোড় ভাল বাসে - যাদের বলে এক্সট্রোভার্ট, কেউ বা এগুলো থেকে দূরে থাকে, মেলামেশাতে ভয় করে - ইন্ট্রোভার্ট টাইপের হয়। আপনি দ্বিতীয় প্রকারের ব্যক্তি, আপনার ছোটবেলার ঘটনা, পারিবারিক ইতিহাস বা কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা থেকেও মানুষের মধ্যে এই ধরনের সামাজিক মেলামেশায় বাধার মত ঘটনা দেখা যায়। যেমন টি আপনি বলেছেন তাতে আপনি বন্ধু-বান্ধব বা আমতীয় স্বজন থেকে নিজেকে বিশেষ কোনো কারনে দূরে সরিয়ে রেখেছেন, নিজের মধ্যে কোনো জাত্যাভিমান পুষে রেখেছেন তাই হয়ত অন্যদের সাথে মিশতে পারছেন না কিংবা বাড়ী থেকে আপনাকে প্রথম থেকেই মিশতে দেওয়া হয় নি বা বাইরে অন্য কারো সাথে মেশার ব্যপারে বিধি নিষেধ ছিল তাই আপনি বাইরের লোকেদের সাথে মিশতে ভয় পাচ্ছেন। আপনি লিখেছেন, আপনি ফেসবুকে সময় ব্যয় করেন, মনে হয় অনেক টায় সময় ব্যয় করেন। আপনার সমস্ত চিন্তা ভাবনা, যোগাযোগকে ফেসবুক হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে তাই আপনি অন্য লোকের সাথে মেলামেশার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন না। আপনাকে আপনার একাকীত্ব কাটাতে গেলে প্রথমেই আপনাকে ফেসবুকে ব্যায়িত সময়ে ব্যাপক কাটছাট করতে হবে, সময় নির্দিষ্ট করুন, নিজের টাইম টেবিল চেঞ্জ ও পরিবর্তন করুন, বাইরে বেড়াতে বের হওয়া অভ্যাস করুন, পার্কে বা কোন সামাজিক অনুষ্ঠান গুলিতে নিজেকে ধীরে জড়াতে থাকুন, আর কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যাস্ত রাখুন সেটা পড়াশুনা, বাড়ীর কাজ যা কিছুই হতে পারে। আশাকরি আপনার একাকীত্ব কেটে যাবে ইনশা আল্লাহ

3016 views

আপনি প্রথমত একটি জিনিস করতে পারেন মানুষের সাথে মেলামেশা। একাকিত্ব দূর করার জন্যে এটিই সর্বশ্রেষ্ট পন্থা। আপনি আপনার আশেপাশের মানুষের সাথে মেলামেশা করুন। নিজেকে আবার নতুনভাবে তৈরি করুন। মানুষের সাথে আপনি মানসিকভাবে ভালো ফিল করবেন। আপনার আত্মীয় স্বজনের খোঁজ খবর নিতে পারেন। তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। 
আপনি যদি তাদের সাথে অনেকটা সময় ব্যয় করতে পারেন তাহলে আপনার একাকিত্ব দূর হয়ে যাবে। 


'আপনি বাইরে প্রয়োজন ছাড়া বের হন না' কিন্তু আপনি একাকিত্ব দূর করার বাইরে যেতে পারেন। বাইরে একা হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। বাইরের পরিচিত লোকের সাথে কথা বলতে পারেন। হতে পারে আপনি ছোটবেলায় একা থেকেছেন বা আপনার সামাজিকীকরণ সঠিকভাবে হয়নি। এরজন্যে আপনি অন্যদের সাথে মিশতে পারেননি। এছাড়া ফেসবুকিং ছাড়া আমরা অন্যান্য জিনিস যেমন ফানি ভিডিও, টিকটক, গান শোনা। আপনি এগুলোর মাধ্যমে আপনার সময় পার করতে পারেন। 
3016 views

বিবিসি একাকীত্বের উপর একটি জরিপ চালিয়েছে। জরিপে তারা সাধারণ মানুষের কাছে একাকীত্ব কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে জানতে চেয়েছিল।


সাধারণ মানুষের উত্তর থেকে বাছাই করে একাকীত্ব দূর করার ৯টি উপায় তুলে ধরেছে, যা আপনারও একাকীত্ব দূর করতে পারে।

১. এমন কিছু করুন যাতে মনোযোগ সরে যায়: 

একাকীত্ব একটি অস্থায়ী অনুভূতি। জীবনের বিভিন্ন পট পরিবর্তনে আমরা একাকী বোধ করি। সেটা হতে পারে নতুন কলেজ জীবন শুরু করা বা সম্পূর্ণ নতুন কোন স্থানে বসবাস শুরু করা।

বিভিন্ন সৃজনশীল কাজ একাকীত্বের কষ্ট থেকে আমাদের দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

তাছাড়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একাকীত্ব বোধ ফিকে হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে এমন কোন কাজ করুন যেটা আপনি পছন্দ করেন।

বিশেষ করে সেই কাজটি, যেটা আপনার মনোযোগ এতোটাই কেড়ে নেবে যে সময় কিভাবে কাটছে আপনি ভুলে যাবেন।

সেটা হতে পারে বই পড়া, কোন শখের চর্চা বা পছন্দের কোন কাজ করা। এই কাজগুলো আপনার শরীর ও মন দুই-ই ভাল রাখবে।

২) সামাজিক কর্মকাণ্ডে যোগ দেওয়া

এই সমাধানের বিষয়টি শুনতে একটু গতানুগতিক ঠেকবে। যদি আপনার একাকীত্বের কারণ আপনার আশেপাশে লোকজনদের সঙ্গে দেখা না করার জন্য হয় তবে এটি আপনার জন্য ভাল সমাধান হতে পারে। তবে এই সমাধান সবার জন্য নয়।

অচেনা কোনও স্থানে অচেনা কোন মানুষের সঙ্গে হঠাৎ কথা বলা শুরু করা সব সময় এতোটা সহজ নয়। এই কারণে একাকীত্বে ভোগা মানুষের জন্য এই উপায়টিকে জরিপের সর্বনিম্ন সহায়ক পরামর্শগুলোর একটি ধরা হয়।

যদি অপরিচিতদের সাথে কথা বলার বিষয়টি আপনাকে ভীত বা অপ্রস্তুত করে তাহলে, এমন একটি সংগঠন বেছে নিন যেখানে আপনি কাজের পাশাপাশি উন্নয়নমূলক বা সৃজনশীল কিছু করতে পারবেন।

হয় কোন গানের দলে যোগ দিন অথবা কিছু তৈরি করা শিখুন। এতে করে, ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারো সঙ্গে কথা বলার চাপে থাকতে হবে না। সেইসঙ্গে নিজের পছন্দের কোন কাজ বেছে নেয়ায় আপনি হয়তো সেখানে এমন কাউকে পেয়ে যাবেন, যার সঙ্গে আপনার চিন্তা ভাবনা মিলে যাবে।

৩) ভাবনায় বদল

এই সমীক্ষায় মানুষের সহানুভূতির মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, যারা নিজেদের একাকী দাবি করেন, তারা সমাজের অন্য মানুষের প্রতি অনেক বেশি সহানুভূতিশীল থাকেন।

বিশেষ করে তাদের প্রতি যারা কোন কষ্টকর সময় পার করছেন। সামাজিক দক্ষতা পরিমাপ করে দেখে গেছে যে, একজন একাকী মানুষ আর দশটা মানুষের মতোই দক্ষ ও সামর্থ্যবান।

তাই বিষয়টা এমন নয় যে যারা একাকীত্ব বোধ করেন তাদের নতুন করে সামাজিক দক্ষতা শিখতে হবে। তবে তারা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া বা মানসিক চাপ কাটিয়ে ওঠার বিভিন্ন কৌশল শিখে নিতে পারেন। এটা তাদের জন্য সহায়ক হবে।

৪. কথোপকথন শুরু করুন

অপরিচিতদের কারো সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করার জন্য এক ধরণের মানসিক শক্তির প্রয়োজন।

কিন্তু এজন্য আপনাকে শুরুতেই গভীর কোন কথা বলতে হবে, এমনটা নয়। যুক্তরাজ্যে কথোপকথন শুরুর সবচেয়ে জনপ্রিয় বিষয় হল আবহাওয়া। কেননা একেকজনের কাছে আবহাওয়ার ব্যাখ্যা একেক রকম।

আপনি দোকানে বা বাস স্টপে যে কারও সঙ্গে কথা শুরু করার জন্য বলতে পারেন যে আজকের আবহাওয়া বেশ "গরম / ঠাণ্ডা / আর্দ্র অথবা সুন্দর। তাই না?"

তবে এ উপায়টি কারো সঙ্গে গাঢ় বন্ধুত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কাজ করবে না। এটা আপনাকে শুধুমাত্র অন্য মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে সাহায্য করবে। প্রতিবার যখন আমরা কারো সঙ্গে কথা বলি, সেটা যদি অপ্রাসঙ্গিকও হয় তারপরও আমরা এটা বুঝতে পারি যে আমরা সবাই একই বিশ্বে পাশাপাশি থাকছি।

৫) অনুভূতি বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সঙ্গে শেয়ার


কিন্তু জরিপে দেখা গিয়েছে যে, মানুষ সাধারণত একাকীত্বে আক্রান্তদের ব্যাপারে খারাপ কিছু ভাবেন না। যারা একাকী নন, তাদেরকেও একাকীত্ব থেকে বেরিয়ে আসার সমাধান খুঁজতে এই জরিপে সময় ব্যয় করতে দেখা গিয়েছে।

৬)  প্রতিটি মানুষের ইতিবাচক দিকটি দেখার চেষ্টা করুন

আপনি যদি মনে করেন যে কেউ আপনাকে তিরস্কার করেছে বা কটু কথা বলেছে। তাহলে ভেঙ্গে না পড়ে, ইতিবাচক-ভাবে ভাবুন। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আপনার বিরুদ্ধে তার কথাগুলো সত্য কিনা। সে ব্যাপারে কোন প্রমাণ আছে কিনা। না হলে ভিন্নভাবে ভাবুন। সম্ভবত তারা ব্যস্ত বা ক্লান্ত ছিল অথবা তাদের মন খারাপ বা মানসিক চাপের মধ্যে ছিল। আপনার হয়তো এক্ষেত্রে কিছুই করার ছিল না।

৭) আপনি কেন একাকীত্ব বোধ করেন সে ব্যাপারে জানু 

একাকীত্ব থেকে বেরিয়ে আসার সমাধান বের করার সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হল, কেন একাকীত্ব অনুভব করছেন সেটা আগে জানা। এক্ষেত্রে আপনার সমাধান যদি কাজ না করে তাহলে অন্য কিছু চেষ্টা করুন।

৮. অপেক্ষা করুন

আমরা জানি যে একাকীত্বের এই অনুভূতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্থায়ী, তাই এটি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হয়তো কাজ করবে। তবে যারা দীর্ঘস্থায়ী একাকীত্বে ভুগছেন তাদের জন্য হয়তো অন্য কোন সমাধান কার্যকর হতে পারে।

  • ৯) প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় কাটিয়ে উঠুন

মানুষকে আপনার সাথে কোন কাজ করতে বলা, বা সাহায্য চাওয়া ভাল অভ্যাস। প্রত্যেকেই এটা ভাবতে চান যে তাদের মতো হয়তো অন্যরাও কোন কাজের প্রতি সাড়া পেলে খুশি হয়। কিন্তু তাদের থেকে কখনও কখনও উত্তর ‘না’ আসতে পারে। আপনাকে এই ‘না’ শোনার ভয় কাটিয়ে উঠতে হবে।


 

  • তথ্যসূত্র: বিবিসি


3016 views

Related Questions