বাজার সম্ভাবনা : আমাদের দেশে সারাবছরই রজনীগন্ধা ফুলের চাহিদা থাকে। কাটা ফুল হিসেবে রজনীগন্ধার ব্যবহার হয়ে থাকে। ঘরে সাজিয়ে রাখলে এ ফুলের মিষ্টি গন্ধ ঘরকে ভরিয়ে দেয়। তাই সৌখিন মানুষেরা ঘর সাজানোর জন্য এই ফুল ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়া বিয়ে, গায়ে হলুদ, বিভিন্ন সভা, সমাবেশে, অনুষ্ঠানের স্থান ফুল দিয়ে সাজানো হয়ে থাকে। তাই ফুলের চাহিদা প্রায় সারাবছরই থাকে। আমাদের দেশের প্রায় সব জেলা শহরে ফুলের দোকান দেখা যায়। এসব ফুলের দোকানে ফুল সরবরাহ করে আয় করা সম্ভব। এছাড়া রজনীগন্ধা ফুল চাষ করে দেশীয় বাজারে বিক্রয়ের পাশাপাশি ফুল বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। এক্ষেত্রে বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সহায়তা দিয়ে থাকে। রজনীগন্ধা ফুল বিদেশে রপ্তানি করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
রজনীগন্ধা ফুল উৎপাদন কৌশল : চাষের উপযোগী পরিবেশ ও মাটি
জলবায়ু মাটির প্রকৃতিঃ মার্চ থেকে এপ্রিল মাস রজনীগন্ধার চারা লাগানোর জন্য উপযুক্ত সময়। প্রায় সব রকম মাটিতে রজনীগন্ধার চাষ করা যেতে পারে। তবে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি এ ফুল চাষের জন্য ভালো। মাটির পিএইচ ৬.৫-৭.৫ হওয়া উচিত।
জাত : আমাদের দেশে দুই ধরণের রজনীগন্ধার জাত দেখা যায়। যেমন: সিংগেল ও ডাবল জাত। সুগন্ধ ও ফুলের সংখ্যা বেশি তাই সিংগেল জাতের চাহিদা বেশি। ডাবল ফুলের পাপড়ি অনেক কিন্তু ফুলের সংখ্যা কম। এতে গন্ধ নেই বললেই চলে।
বংশবিস্তার : কন্দ দিয়ে রজনীগন্ধার বংশবিস্তার করা হয়। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ফুল ফোটা শেষ হলে মাটির নিচ থেকে রজনীগন্ধার কন্দ তুলে নিতে হবে। এরপর রোপণের জন্য বড় মাপের কন্দ বাছাই করে বেশ কয়েক দিন ছায়াতে রেখে শুকিয়ে নিতে হবে।
জমি তৈরি :
১. জমি গভীরভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে ও সমান করে নিতে হবে।
২. বর্ষার পানি নিকাশের সুবিধার জন্য বেড তৈরি করে নিয়ে তাতে কন্দ লাগাতে হবে। তাহলে বেশি ফুল ধরবে।
কন্দ রোপণ :
১. ২৫-৩০ সে.মি. দূরে দূরে সারি তৈরি করে তাতে কন্দ রোপণ করতে হবে।
২. প্রতি সারিতে ১০-১৫ সে.মি. দূরে দূরে কন্দ রোপণ করতে হবে।
৩. রজনীগন্ধার কন্দ ৭ সে.মি. মাটির গভীরতায় পুঁতে লাগাতে হবে।
সার প্রয়োগ : কৃষকদের মতে গুণগত মানসম্পন্ন ভালো ফলন পেতে হলে রজনীগন্ধা ফুল চাষের জমিতে যতটুকু সম্ভব জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরণ অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। তবে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ উভয়ই ভালো থাকবে। বাড়িতে গবাদি পশু থাকলে সেখান থেকে গোবর সংগ্রহ করা যাবে। নিজের গবাদি পশু না থাকলে পাড়া-প্রতিবেশি যারা গবাদি পশু পালন করে তাদের কাছ থেকে গোবর সংগ্রহ করা যেতে পারে। এছাড়া ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে আবর্জনা পচা সার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়ির আশে-পাশে গর্ত করে সেখানে আবর্জনা, ঝরা পাতা ইত্যাদি স্তুপ করে রেখে আবর্জনা পচা সার তৈরি করা সম্ভব।
সেচ ও নিষ্কাশন : ১. কন্দ লাগানোর পরপরই জমিতে সেচ দিতে হবে।
২. মাটির অবস্থা বুঝে ৭-১০ দিন পরপর সেচ দেওয়া ভালো।
৩. বর্ষাকালে জমিতে যেন পানি না জমে সেজন্য নিকাশের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
রোগবালাই ও তার প্রতিকার :রজনীগন্ধা ফুলের বাগানে পোকার আক্রমণ হলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পোকা দমন না হলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে।
চাষের সময় পরিচর্যা :১. জমিতে আগাছা থাকলে পোকামাকড়, রোগজীবাণু ও ইঁদুরের আক্রমণ বেশি হয়। তাই সময়মতো নিড়ানির সাহায্যে আগাছা তুলে ফেলতে হবে।
২. মাটির ঢেলা ভেঙ্গে দিতে হবে এবং মাটি ঝরঝরে রাখতে হবে।
ফুল সংগ্রহ : এক জমিতে একবার কন্দ লাগানোর পর এক নাগাড়ে তিনবছর রজনীগন্ধার চাষ করা যায়। এরপর জমি পরিবর্তন করতে হয়। সকাল বেলায় ফুল আধাফোটা অবস্থায় থাকাকালীন ডাঁটা কেটে রজনীগন্ধা সংগ্রহ করতে হয়।