ইসলামের আলোকে তাদের কিভাবে বোঝাবো?
এসকল কথা যে ভিত্তিহীন, অযৌক্তিক এবং বিবেকহীন মানুষের বিশ্বাস তা তাদের (যারা ফরোয়ার্ড, সেয়ার করে) কিভাবে বোঝাবো??? ইসলামের/কুরআন-হাদিসের আলোকে জানতে চাই??
3 Answers
যে ব্যক্তি শুধু মাত্র ধারণা করে কথা সেই কথা মিথ্যা হওয়ার জন্য যথেষ্ট... তাই মাত্র ধারণা করে কথা বলা যাবে নাহ... আপনি যে কথা এখানে উল্লেখ করেছেন এমন কথা কুরআন ও হাদিসের কোথাও বলা নেই... সুতরাং এই কথা বলা গোমরাহির নামান্তর... কোন ব্যক্তি যদি ইসলামে নেই এমন কথা মানুষের মাঝে প্রচার করে তাহলে গোমরাহির মধ্যে রয়েছে... তাই এই ধরনের কথা বলা হতে বিরত থাকতে হবে।।
ভাই,এই একই রকমের ঘটনা আমার সাথে ও ঘটে থাকে মাঝে মাঝে।আমি যেভাবে বোঝায়..... ১. আপনি তাকে বাস্তব জীবনের সাথে মিলিয়ে দেখতে বলতে পারেন। যেমন: আজকের আগে যতোদিন এই লেখা ফরোয়ার্ড করোনি ততোদিন কি তোমার বিপদ ছিলো না ? মানুষ বিপদের মধ্যে থাকবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু একই ভাবে বিপদের সময় ধৈর্য ধরতে হবে, কারণ এই বিপদ দেওয়ার এবং বিপদ থেকে উদ্ধার করার মালিক একমাত্র আল্লাহ।তাই এই লেখা ফরোয়ার্ড করলে বিপদ আসবে না এটা একটা শিরকি কথা, সাবধান শিরকের গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করবেন না ( সূরা আন নিসা ) আর শিরকের ফলাফল জাহান্নাম। তাদের বুঝিয়ে বলুন,যে তোমরা আসলে এই খবর পেয়ে ফেঁসে যাওনি,আসলে ফেঁসে যাচ্ছ শিরকের জালে ,যার পরিনতি পূর্বেই বলা হয়েছে। ২. এই সব ফ্রেন্ডদের বোঝাতে অক্ষম হলে ব্লক করে দিন,কারণ তারাতো শিরক করছে ,আপনাকে ও এর মধ্যে শামিল করছে।
এরকম কিছু এস.এম.এস বিভিন্ন সংখ্যায় অনেক জনকে পাঠাতে বলা হয় আর এটাও বলা হয় যে এতে কিছুদিন কিংবা দুইদিনের মধ্যে সে সুসংবাদ শুনবে কিংবা তার উন্নতি হবে। অথবা তুমি কোনো না কোনো বিষয়ে ফেল করবে। দ্বীন সম্পর্কে পরিস্কার জ্ঞান না থাকার কারণে অনেকে আবেগ প্রবন হয়ে সরল বিশ্বাসে এস.এম.এস গুলো পাঠিয়ে থাকেন কল্যাণ লাভের আশায়। বরং এগুলোতে বিশ্বাস করলে নিম্নোক্ত ভয়ংকর বিষয়গুলো সাব্যস্ত করা হয়ে থাকে যা স্পষ্টত কুফরি। এক কথায় এগুলোর কোন ভিত্তি নেই। এমন বার্তায় ভাগ্য গণনায় বিশ্বাস স্থাপন করা হয়, যা স্পষ্টত কুফরি। আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেনঃ আর তার কাছে রয়েছে গায়েবের চাবি সমূহ, তিনি ছাড়া এ বিষয়ে কেউ জানে না। সমস্ত গায়বের চাবিকাঠি তার কাছে, তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না, জলে-স্থলে যা আছে তা তিনি জানেন, এমন একটা পাতাও পড়ে না যা তিনি জানেন না। যমীনের গহীন অন্ধকারে কোন শস্য দানা নেই, নেই কোন ভেজা ও শুকনো জিনিস যা সুস্পষ্ট কিতাবে 'লিখিত' নেই। (সূরা আনআমঃ ৫৯) আল্লাহ আআলা আরো বলেনঃ আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কি অর্জন করবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। (লুকমানঃ ৩৪ সংক্ষিপ্ত) আগামীকাল কি অর্জন করবে তা কোন ব্যক্তি জানে না। অর্থাৎ, ভাল-মন্দ কি লাভ করবে তা কেউ জানে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ও এমন স্পষ্ট করে ভবিষ্যতের তথ্য ওহী ব্যতীত জানতেন না। কুরআনের বর্ণিত হয়েছেঃ বল! আমি আমার নিজের কোন উপকার ও ক্ষতির ক্ষমতা রাখি না, তবে আল্লাহ যা চান। আর আমি যদি গায়েব জানতাম তাহলে অধিক কল্যাণ লাভ করতাম এবং আমাকে কোন ক্ষতি স্পর্শ করত না। আমিতো একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা এমন কওমের জন্য, যারা বিশ্বাস করে। (সূরা আরাফঃ ১৮৮) হাদিসে এসেছেঃ তোমার নিকট উহূদ পাহাড় পরিমাণ সোনা থাকলেও এবং তুমি তা আল্লাহর পথে ব্যয় করলেও তিনি তা কবূল করবেন না, যাবৎ না তুমি সম্পূর্ণরূপে তাকদীরের উপর ঈমান আনো। অতএব তুমি জেনে রাখো! তোমার উপর যা কিছু আপতিত হওয়ার আছে তা তোমার উপর আপতিত হয়েছে, তা কখনো ভুলেও এড়িয়ে যেত না এবং যা তোমার উপর আপতিত হওয়ার ছিল না, তা তোমার উপর ভুলেও কখনো আপতিত হত না। তুমি যদি এর বিপরীত বিশ্বাস নিয়ে মারা যাও তাহলে তুমি জাহান্নামে যাবে। জনাব! এসব এসএমএসে বেশির ভাগই ইসলামকে ব্যবহার করা হয়! কারন এদেশের মানুষ ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কার মনের আশা কবে পূর্ণ হবে অথবা কার কবে ক্ষতি হবে এর নিশ্চয়তা কোন মানুষই দিতে পারে না। এসব এসএমএসের গোড়া বের করলে হয়ত দেখা যাবে প্রথম এসএমএস শুরু করছে কোন নাস্তিক মজা দেখার জন্য। মুসলিমদের ধোকা দিতে বা ধর্মকে অবিশ্বাস করানোর জন্যই এমন এসএমএস পাঠানো হয়। ইনশাল্লাহ বিষয়টি আমাদের মুসলিম ভাই বোনদের বোধগম্য হবে। আসুন আমরা নিজেরা সতর্ক হই আর অপরকে সতর্ক করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের হক কথা বুঝার তৌফিক দান করুন, আমীন।