1 Answers
বিষয়টা হচ্ছে আপেক্ষিক সুপ্ত তাপ। ধরুন পানি তরল অবস্থায় আছে। এখন আপনি শীতল করা শুরু করলেন। শীতল করতে করতে ০ ডিগ্রীতে নামালেন। যেহেতু পানি ০ ডিগ্রীতে বরফ হয় তাই এখানে একটি বিশেষ ধর্ম প্রদর্শন করে। সেটি হল যতক্ষন না পর্যন্ত সকল পানির অনুর তাপমাত্রা ০ তে না নামছে ততক্ষন পানির তাপমাত্রা ০ এর নচে নামবে না। আর বরফ হতে হলে ০ থেকে সামান্য পরিমান তাপ কমতেই হবে। এই তাপের পরিমান এতই কম যে ১ ডিগ্রী বা হাফ ডিগ্রী বলতে পারবেন না। তাই এই পরিমান তাপ কমলেও পানির তাপমাত্রা ০ তেই থাকে ধরা হয়। আবার ঐ যে একটু বেশী তাপের কথা বললাম এই তাপ বিশেষ ধর্ম মেনে চলে তা হল। সকল পানির অনুর তাপ ০ তে না নামা পর্যন্ত পানির অনু আর কোন তাপ ছেড়ে দেয়না। ফলে ০ ডিগ্রীতে পানি তরলই থাকে। এবার ধরুন তাপ ০ ডিগ্রিতে নেমে এসে এমন এক বিন্দুতে অবস্থান করছে যে বিন্দু থেকে আর কোন প্রকার তাপ অপসারন সম্ভব নয়, কারন তাহলে ঋনাত্মক তাপে পরিণত হবে। ধরুন সেই ক্ষুফ্র তাপ অপসারিত হল তাহলে পানি তখন সেই ঋনাত্মক তাপনাত্রা টুকু সরবরাহ করে বরফে পরিনত হবে। কিন্তু তখন তার তাপমাত্রা ০ তেই থাকবে কারন ঋনাত্মক প্রান্তে ততদুর পর্যন্ত বিন্দুর অপসারন হয়নি যেখানে পানির বাহ্যিক তাপের পরিমান কমে যাবে। অর্থাৎ শেষ বিন্দুতে উপনিত হবার পরও যত টুকু তাপ অপসরন করলে বরফ হবে ততটুকু তাপকে আপেক্ষিক সুপ্ততাপ বলে। এই তাপের কারনেই পানি ০ ডিগ্রিতে বরফ ও তরল উভয় থাকতে পারে। একটু অন্য রকম উদাহরন দেই। ধরুন আপনি বাংলাদেশ - ভারত সীমান্ত দাগে আছেন। অর্থাৎ আপনি না বাংলাদেশে, না ভারতে কারন দাগের উপর আছেন। এখন বাংলাদেশে আসতে গেলে আপনাকে এক পা ফুল দেবার দরকার নাই। দাগের কিনারা থেকে একটু ভেতরে পায়ের অংশ দিলেই বাংলাদেশের বলে গন্য, ঠিক তেমনি ঐটুকু ভারতের দিকে দিলেই ভারতের গন্য হবেন, এক পা পুরা দেবার দরকার পড়ছেনা। তথচ ঐ সামান্য সরনের ফলে কিন্তু আপনি দাগ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন না, কারন ৯৯% আপনি দাগের উপরেই আছেন । এই সামান্য ১% ই অনেকটা সেই আপেক্ষিক তাপের মতই।( বোঝানোর জন্য বললাম। পরীক্ষায় ব্যবহার কইরেন না যেন ভাই) পানির আপেক্ষিক সুপ্ততাপ হচ্ছে ৪২০০ জুল পার মোল।