এই অপরাধবোধ থেকে কিভাবে মুক্তি পাবো?
প্লীজ, কিছু পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করুন। আমার বয়স উনিশ। কয়েকমাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমেই আমার সাথে এক সিনিয়র ভাইয়ার পরিচয় হয়।অবশ্য ওনি আমাদের এলাকারই,আর ওনি আমাকে চিনতেন আগে থেকেই।চ্যাট হতো,কথা হতো নরমালি। স্পেশালি ওনিই আমার সাথে কথা বলা ও চ্যাটে আগ্রহী ছিলেন।আমাকে অনেক ভালো পরামর্শ দিতেন।অনেক কথা শেয়ারও করতেন। আর আমিও রেসপেক্টের চোখে দেখতাম। আমিও অনেক কিছু শেয়ার করতাম।এককথায় আমারও ওনাকে ভাল্লাগতো। এমনিতেই ভাল্লাগতো। বিরক্তবোধ থাকলে তো আর এতোটা ভালো বিহেভ করতাম না,নিশ্চয়ই ভালোলাগা থেকেই কথা বলতাম।যেমনটা ভাইয়া বলতেন। কিন্তু আমি কিছুটা সময় পর ওনার কথাবার্তায়,স্ট্যাটাসে বুঝতে বাকি ছিলো না যে ওনি আমাকে পছন্দ করেন।কিন্তু আমি বুঝার পরেও ওনার সাথে খারাপ বিহেভ করিনি,আগের মতোই ভালো বিহেভিয়ার ছিলো আমার। ভালো লাগার কারণেই ওনার প্রতি বিরক্তি হতাম না। অনেক কথা বলতাম। লাইফের অনেক ভালোলাগা, মন্দ লাগা,অনেক ঘটনাও শেয়ার করতাম।এটা জাস্ট একটা এক্ট্রাকশন ছিলো বলে আমার মনে হচ্ছে। অনেক অনেক কথা বলতাম।অনেক সময় এমন হতো যে,কথা কথা বলতে বলতে ভোর হয়ে যেতো। এ সময়কালটা ছিলো প্রায় একমাসের মতো। একসময় ওনি ওনার সব মনের কথা বলে দেন যে ওনি আমাকে ভালোবাসেন ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আমি রাজি না।কারণ মন থেকে সাপোর্ট নেই ইভেন আমার ওনার প্রতি এরকম কোনো ফিলিংসই নেই।তারপর থেকেই ওনাকে নানানভাবে বুঝাতাম যে আমি আপনাকে ভালোবাসি না।ভালোভাবেও বুঝাতাম। ওনি বুঝতেন না।অনেকটা মেন্টালি ভেঙে পড়ি ওনার এইসব পাগলামির কারণে। ডিপ্রেশন বেড়ে যায়। আমি তখন ভাবতাম.... যাকে মন থেকে মানতে পারবো না, তার সাথে সিম্পেথি বজায় রাখতে গিয়ে কেনো অভিনয় করবো? আর যাই হোক কাউকে ঠকাতে পারবো না।তাই কখনোই মানতে পারবো না।বলে রাখি,আমি একজনকে অনেক ভালোবাসতাম,রিলেশনটা যেমনি ছিলো আমি সত্যিকার অর্থেই ভালোবেসেছিলাম। কিন্তু যে মানুষটা আমাকে ফিউচারের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সে মানুষটাই ফিউচার নাই বলে এক্সকিউজ দেখিয়েছে।তাই নিজ থেকেই ঐ ঘোরের থেকে বের হয়েছিলাম।নিজেকে অনেক কষ্টে সামলে নিয়েছিলাম।কিন্তু এরপর ঐ ভাইয়ার সাথে কথাবার্তা বলার পর আমার মেন্টাল কন্ডিশন অনেক খারাপ হয়ে যায়।কিছুতেই এসব মানতে পারছি না। এখন আমার ডিপ্রেশন যাচ্ছে না।আর ডিপ্রেশন এর বড় কারণ ঐ ভাইয়াটাই।ওনার জন্য নিজের ভিতর অপরাধবোধ কাজ করে।বারবার মনে হয় আমার জন্য ওনি কষ্ট পেয়েছেন বা পাচ্ছেন।নিজেকে পাপী মনে হয়,অপরাধী মনে হয়।বারবার মনে হয় আমি অভিশপ্ত। আমার দ্বারা আর কিছু হবে না।আমার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি যেকোনো কিছুতে।মনে হয় আমার অপরাধ আমায় সামনে এগুতে দিবে না। এইসব অনুভূতিগুলো আমাকে আত্মহত্যার চিন্তায় মগ্ন করে প্রায়ই। আর এরই মাঝে ওনি আমাকে থ্রেট দেন। যদিও আমি ভয় পাই না। তবুও কেনো যেনো একটা অপরাধবোধ,অনুশোচনা,ভয়,দুশ্চিন্ত া কাজ করে।আবার ওনাকে আমি জাস্ট মানতেই পারছি না।আবার পড়ালেখাও করতে পারছি না। ব্রেইন পুরোপুরি উলটো ভাবে কাজ করছে।মনে হয় আমি কখনই সফল হতে পারবো না, কারণ এগুলো আমার ভুল ছিল। আমার যে ওনাকে ভালো লাগতো, সেটাই মানতে পারছি না। আমি সম্পূর্ণ ডিপ্রেশনে আছি। মনে হয়, আমার কেনো ভালো লেগেছিলো তাকে?? কেনো এতো প্রশ্রয় দিলাম??ছিঃ আমি এত্তো নিচে নামতে পেরেছি? এসব প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে আমি দিনে দিনে অন্ধকারে চলে যাচ্ছি।আমার হার্টবিট বেড়ে যায়। অপরাধবোধ আমাকে শেষ করে দিচ্ছে।শুধু আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় আসে।আবার ঐ লোকটাকেও আমি সহ্য করতে পারছি না।
4128 views
2 Answers
কেউ আপনাকে ভালবাসতেই পারে তবে আপনার অনুভূতি না থাকলে ওনি আপনাকে জোর করতে পারবেন না। আপনি উনাকে বুঝিয়ে বলুন। আর আপনার মানসিক চাপ কমাতে সবসময় ইতিবাচক থাকুন। ভাববেনঃ যা হচ্ছে তাতে ভাল কিছুই রয়েছে এবং একসময় এ অবস্থার পরিবর্তন হবে। নিজেকে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত রাখুন এবং একা একা না থেকে পরিবার/বন্ধুদের সাথে সময় কাটান। আপন কোন বান্ধবীর সাথে বিষয়টি শেয়ার করতে পারেন।(এটা ভাল কাজে দিবে)। কোন ধরনের হুমকি আসলে পরিবারকে জানান।সাহস হারাবেন না,তবে সতর্ক থাকবেন। সমনে দিন আপনারই।
4128 views
Answered
কথা বলতে বলতে কারো সাথে ঘনিষ্ঠতা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়, আপনাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টা পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিলো।
সমস্যাটা বাধে তখনই যখন দুইজন এই 'ঘনিষ্ঠতা'-কে ভিন্ন ভাবে ইন্টারপ্রেট করে। আপনি তাকে শুধুই কথা বলার সঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করেছেন, কিন্তু তিনি বিষয়টা অন্যভাবে নিয়েছেন।
তবুও, ঘটনার এই অংশ পর্যন্ত আপনারা দুজনই নির্দোষ।
উনি যখন তার মনের কথা আপনাকে জানান তখন আপনি তাকে সত্যি কথাটাই বলেন, আপনি তাকে ভালোবাসেননা। ঐ মুহুর্তে ওনার উচিত ছিলো বাস্তবতা মেনে নেয়া। কিন্তু অন্ধ প্রেম মানুষকে সত্যিই অন্ধ করে দেয়... সেই অন্ধত্ব থেকেই তিনি আপনাকে নানান কথা বলে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে একজন সুবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি তার এসব অতিসাহিত্যিক বাক্য উপেক্ষা করতো, আপনি তা না করে তার কথার জালে ধরা দেন। আপনার মতো সেন্টিমেন্টাল মানুষরা এজাতীয় ঘটনায় সহজেই ভেঙ্গে পড়ে। অথচ একটু রিয়ালিস্টিকভাবে চিন্তা করলেই আপনি বুঝতে পারবেন যে উক্ত ব্যক্তি, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বখাটে ছেলেগুলোর চেয়েও নিকৃষ্ট, বিশেষ করে উনি যখন আপনাকে হুমকি দিতে শুরু করেন তখনই এবিষয়ে আপনার নিশ্চিত হওয়া উচিত ছিলো।
তো, এই পর্যন্ত যাচাই করে আমরা যে পয়েন্টগুলো পাই সেগুলো হলো-
- আপনি আপনার এলাকার কোন একজনের সাথে ফেসবুকে কথাবার্তা বলতে শুরু করেন,
- এক পর্যায়ে আপনাদের মধ্যে কিছুটা ঘনিষ্ঠতার উদ্ভব হয়,
- তিনি আপনার বিরক্তিহীন কথা চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতাকে প্রেম করার সবুজ সংকেত হিসেবে গ্রহণ করেন,
- আপনাকে প্রপোজ করেন,
- তার প্রতি এজাতীয় কোনো ফিলিংস না থাকায় আপনি তা প্রত্যাখ্যান করেন,
- ওনার মনে হয় আপনি ওনাকে একটু একটু ভালোবাসেন, পুরোপুরি এক্সপ্রেস করতে সংশয় বোধ করছেন,
- ভাবতে ভাবতে তার মাথায় একটা বুদ্ধি আসে, "আমি যদি ওকে ইমোশনাল কথাবার্তা বলি তাহলে সংশয়টা কেটে যাবে, নারিদের মনতো বরফের মতো"
- শুরু হলো ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল,
- আপনি সেগুলো প্রত্যক্ষভাবে এড়িয়ে গেলেও, পরোক্ষভাবে এগুলোর প্রভাবে আপনার মনের মধ্যে অপরাধবোধ সৃষ্টি হতে থাকে,
- এদিকে উনি যখন দেখলেন "নারীর মন বরফের মত" -এই থিওরিটা ফেইল, তো এবার "নারীরা ভিতু" এই থিওরির এডভান্টেজ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন,
- আপনাকে হুমকি দিলেন,
- আপনি প্রত্যক্ষভাবে ভয় না পাওয়ার ভান করলেন, কিন্তু ঘুরেফিরে সেই ভয় মনের মধ্যে উঁকিঝুঁকি দেয়া শুরু করলো,
- ইতোমধ্যে জন্মানো অপরাধবোধ আর ভয়ের তাড়নায় আপনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়লেন।
এতটুকু পর্যন্ত এসে আপনার চিন্তাধারায় কোনো পরিবর্তন আসলো কি? আপনার মস্তিষ্ক আর স্বাভাবিক মানুষের মস্তিষ্কে তফাত না থাকলে আশা করি এটুকু বুঝতে পেরেছেন যে আপনার অপরাধবোধটা একদমই নিরর্থক।
তাছাড়া, কার জন্য এই অপরাধবোধ? যাত্রাপালার নায়ক চরিত্রে অভিনয় করা ব্যক্তির জন্য?
নিজেকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে কিছুদিন চুপচাপ নাটক দেখে যান... দেখবেন নায়ক ঠিকই নতুন স্টেজে, নতুন কোনো নায়িকা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
আর যদি দ্বিতীয় নাটক দেখার আগেই উল্টাপাল্টা কিছু করে বসেন তাহলে নিজের নাটক আর পরবর্তী নাটক দুইটার সমাপ্তিই মিস করবেন।
আমার প্রতীকী কথাবার্তা বুঝতে কোনো সমস্যা হয়নি আশা করি। এটা একটা লাইফ লেসন, শিক্ষা নিন, তাহলে ভবিষ্যতে এরকম কিছুর পুনরাবৃত্তি ঘটবেনা। আপনি ইউনিক, দ্বিতীয় কোনো মিরা রহমান আপনাকে রিপ্লেস করবেনা, তাই অন্যের খেয়ালিপনায় নিজের সম্ভাবনাময় জীবন অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাবেননা।
মাঝেমধ্যে খারাপ লাগলে ভালোভাবে কাউন্সিলিং করতে পারবে এরকম কারো সাথে কথা বলুন, একদিনে না হলেও শীঘ্রই আপনার মন থেকে সব আজেবাজে চিন্তা দূর হয়ে যাবে।
4128 views
Answered