4934 views

1 Answers

MRI (Magnetic Resonance Imaging) বর্তমান যুগের একটি অসাধারণ ডায়াগনস্টিক টুল। এর মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অংশের নিঁখুত ছবি তোলা যায়। এর মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশের টিউমার, ক্ষত, ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু, ভাংগা হাড় ইত্যাদি সনাক্ত করা যায়। এটি যেভাবে কাজ করে • মানবদেহের শতকরা ৭০% ভাগই পানি আর চর্বি। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোজেন পরমাণু। সাধারণত এই পরমাণুগুলো লাটিমের মত তাদের নিজস্ব চৌম্বক ক্ষেত্রে এদিক ওদিক ইতস্ততভাবে ঘুরতে থাকে। • যদি মানবদেহকে একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখা হয় তবে এই হাইড্রোজেন পরমাণুসমূহ্‌ জোড়ায় জোড়ায় এমনভাবে সজ্জিত হয় যে প্রায় অর্ধেক সংখ্যক পরমাণু চৌম্বকক্ষেত্রের উত্তর মেরুর দিকে এবং বাকী প্রায় অর্ধেক সংখ্যক চৌম্বকক্ষেত্রের দক্ষিণ মেরুর দিকে সজ্জিত হয়ে যায়। • কিন্তু কিছু হাইড্রোজেন পরমাণু বেজোড় থেকে যায় (চিত্রে সবুজ পরমাণুগুলো জোড় গঠন করতে পারেনি)। এমতাবস্থায় যদি রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ওয়েভ (বেতার কম্পাঙ্কের তরঙ্গ) পালস্‌ পাঠানো হয় তবে এই বেজোড় পরমাণুগুলো শক্তি গ্রহণ করে বর্তমান অবস্থান পরিবর্তন করে অপর দিকে ঘুরে যায়। • অতঃপর যদি রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি পালস বন্ধ করে দেয়া হয় তবে এই পরমাণুগুলো আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসে এবং শক্তি নিঃসরণ করে। এই শক্তি কম্পিউটারে সংকেত পাঠায় এবং কম্পিউটার গাণিতিক সূত্র এবং এলগরিদমের সাহায্যে তা দিয়ে সুন্দর চিত্র গঠন করে। • এম,আর,আই মেশিনে যে রেডিও পালস পাঠানো হয় তার কমপাঙ্ক থাকে সাধারণত হাইড্রোজেনের নিজস্ব কম্পাঙ্কের সমান। ফলে হাইড্রোজেন পরমাণুতে অনুরণন (Resonance) সৃষ্টি হয়। এ কারণেই একে রেজোনেন্স ইমেজিং বলা হয়। • এই মেশিনে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরীর জন্য যে চুম্বক ব্যবহার করা হয় তার শক্তি সাধারণত ৫০০০ থেকে ২০০০০ গস (Guass) পর্যন্ত হয়ে থাকে। যেখানে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের মান মাত্র ০.৫ গস (Guass)। হাইড্রোজেন পরমাণুর ম্যাগনেটিক মোমেন্ট তথা চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রতি সংবেদনশীলতা বেশি (কারণ এতে অযুগ্ম ইলেক্ট্রন থাকে) এবং মানবদেহে এদের সংখ্যা অসীম। তাই হাইড্রোজেনকেই বেছে নেয়া হয়

4934 views

Related Questions

What is MRI?
1 Answers 4 Views
What is MRI, endorectal?
1 Answers 4 Views