কৃমি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়::
- সবসময় বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ খাবার খেতে হবে।
- নিয়মিত গোসল করতে হবে এবং পরিষ্কার জামা কাপড় পরিধান করতে হবে।
- নখ বড় রাখা যাবে না। কারন- অনেক ক্ষেত্রেই বড় নখের কারনে কৃমির ডিম নখের সাহায্যে পেটে প্রবেশ করতে পারে।
- রান্নার পূর্বে ভালোভাবে শাক সবজি, মাছ, মাংস ইত্যাদি ধুয়ে তারপরে রান্না করতে হবে।
- খাবার রান্না ও পরিবেশনের সময় অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালভাবে হাত ধুতে হবে।
- মল ত্যাগের পর অবশ্যই সাবান বা ছাই দিয়ে হাত ভালভাবে পরিস্কার করতে হবে।
- জন্মের প্রথম ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।
- অবশ্যই বাইরে যাওয়ার সময় জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করতে হবে।
- মল নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে।
- পায়খানা বা টয়লেট সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে।
- প্রতি চার মাস অন্তর পরিবারের সবাইকে বয়স অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রার কৃমির ঔষধ খাওয়াতে হবে।
- বাড়িতে কৃমি আক্রান্ত কেউ থাকলে সকলেরই সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এরকম ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শমত সবাইকে কৃমির ঔষধ খেতে হবে।
কৃমিনাশক ওষুধ কখন সেবন করবেন
- দু’বছরের বেশি বয়সী শিশু অথবা বড়রা কৃমিনাশক ওষুধ চার মাস পর পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করতে পারবেন।
- একক মাত্রার ওষুধের ক্ষেত্রে বাতের বেলায় ওষুধটি সেবন করতে হবে।
- অপুষ্টিজনিত রক্তস্বল্পতার ক্ষেত্রে কৃমিনাশক ওষুধ সেবন করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
- কৃমিনাশক ওষুধ সপরিবারে সেবনে কার্যকর ফল পাওয়া যায়।
কৃমিনাশক ওষুধ কখন সেবন করবেন না
- অসুস্থ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে অথবা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতিত কৃমিনাশক ওষুধ সেবন করা যাবে না।
- গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে, কৃমিনাশক ওষুধ সেবন নিষিদ্ধ। তবে অপুষ্টির শিকার হলে এবং চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে গর্ভবতী মাকে শেষ প্রান্তিকে অনেক ক্ষেত্রে কৃমিনাশক ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।
সবশেষে
কৃমি অনেক পুরাতন একটি পেটের সমস্যা। বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে অনেক মানুষই কৃমি নামক সমস্যায় ভুগে থাকে। কৃমির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই সাধারণত আমরা কৃমিনাশক ঔষধ ব্যবহার করে থাকি। কৃমিনাশক ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। সুস্থ্য অবস্থায় কৃমিনাশক ওষুধ কিছুটা নিরাপদ হলেও অসুস্থ্য অবস্থায় বিপজ্জক হতে পারে। তাই অসুস্থ্য অবস্থায় কোনভাবেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কৃমিনাশক ওষুধ সেবন করা যাবে না। আবার কিছু খাবারে কৃমি প্রতিরোধী বা কৃমি নাশক উপাদান আছে। যেমন- গাজর, নারকেল, রসুন, কাঁচা পেঁপে, কাঁচা হলুদ, মিষ্টি কুমড়োর বীচি, লবঙ্গ, হলুদ ইত্যাদি।