আমার নাম মো: ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ । আমি ক্লাস ১০ এ পরি।ক্লাস নাইনে যখন ভর্তি হই, তখন অনেকের সাথে পরিচিয় হয়েছিল, তার মধ্যে একজনকে বেছেনিলাম best friend হিসেবে। কিন্তু তার কথা আর আমার কথাবার্তা এক না হওয়ার কারোনে তাকে আমি ত্যাগ করি। এখন আমার এমন বন্ধু দরকার, যতদিন বেচে থাকবো ততদিন আমাদের বন্ধুত্ব থাকবে, সে কোনো দিন আমার সাথে বেইমানি করবেনা, এমন ছেলে বন্ধু কি ভাবে বানাবো দয়াকরে বলবে প্লিজ।
3127 views

5 Answers

সাধারণত স্কুল/কলেজ জীবনের বন্ধু বেশি দিন থাকে না বা টিকে না।আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন দেখবেন অনেক বেস্ট ফ্রেন্ড হবে।যারা আপনার সুখ,দুঃখে সবসময় পাশে থাকবে।আর আপনাকে বন্ধু তৈরি করতে হবে না এমনিতে অনেক ভাল বন্ধু হবে

3127 views

বন্ধু খুঁজে পাওয়া যায় না বরং বন্ধু হঠাৎ করেই হয়ে যায়। আপনি আপনার ক্লাসের সকলের সাথে মিশার চেষ্টা করুন তাহলে দেখবেন তাদের মধ্যেই কেউ একজন আপনার ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছে। তবে বন্ধু খুঁজার জন্য 'ঢাকা এফএম'-এ একটি অনুষ্ঠান দেয় সেটি হলো "মজু এফএম দুস্তি" আপনি সেই অনুষ্ঠানটি শুনতে পারেন। সেখান থেকে হয়তো আপনার ভালো বন্ধুও হয়ে যেতে পারে।

3127 views
পড়া লেখা, খেলাধুলা, ক্লাশে পড়া ঠিক ভাবে শিক্ষকে দেওয়া,
এবং দুষ্ট প্রকৃতি,
 সবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ন অাচারন করা,ইত্যাদ

অাপনার মধ্যে উপুস্থিত থাকলে স্কুল জীবনে 

বন্ধুর অভাব হবেনা।

তবে স্কুল জীবনের বন্ধু তেমন স্থায়ী হয় না,




3127 views


 বন্ধু নির্বাচন করার ক্ষেত্রে  আগ-পর বিচার বিবেচনা করে নেওয়া উচিত। কারো প্রতি মন আকৃষ্ট হলেই তার সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে এমনটা ঠিক নয় বরং প্রথমে পর্যালোচনা করে দেখতে হবে ভালো লাগা বা তার প্রতি আকর্ষণের কারণ কিংবা উৎসটা কী এবং সে আদৌ বন্ধু হবার যোগ্য কি না ইত্যাদি। আমিরুল মুমেনিন হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছেঃ "যে ব্যক্তি চিন্তাভাবনা করে যথাযথ বিচার বিশ্লেষণ করে বন্ধু নির্বাচন করবে, তাদের বন্ধুত্ব বজায় থাকবে এবং তাদের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর হবে।" হঠাৎ করে কারো সাথে পরিচিত হবার মধ্য দিয়ে অর্থাৎ কোনোরকম বিচার বিশ্লেষণ ছাড়া বন্ধুত্ব গড়ে উঠলে অনেক সময় দুঃখজনক পরিণতি ঘটতে পারে।          

  বন্ধুত্ব  নির্বাচনে নিম্নলিখিত   বিষয় গুলো  লক্ষ করবেন    -----   

1.   ভালো বন্ধুর অন্যতম একটা বৈশিষ্ট্য হলো বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন হওয়া এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঐ বুদ্ধি বিবেককে কাজে লাগানো। এই বিবেকবান বন্ধু সদুপদেষ্টা হয় এবং তার ওপর সবসময় আস্থা রাখা যায় কেননা এ ধরনের বন্ধু ভুল ত্রুটি থেকে ফিরিয়ে রাখে। বিবেক-বুদ্ধিমান বন্ধুদের সাথে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বহু বর্ণনা রয়েছে। আলী ( রাঃ) বলেছেন, বিবেকবান বন্ধুর সাহচর্য অন্তরাত্মাকে প্রাণচাঞ্চল্য দান করে। বিবেকবান বন্ধু মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি করে এবং মানুষকে ত্রুটি বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করে। পক্ষান্তরে অজ্ঞ এবং মূর্খ বন্ধু কারো কোনো উপকার তো করেই না বরং তার কথাবার্তা আর আচার আচরণ অন্যদের বিরক্তি আর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়    ।       

     2.   নৈতিক উপযুক্ততা ভালো বন্ধুর অপর একটি গুণ। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী ভালো বন্ধু সেই হতে পারে যে নৈতিক স্খলন থেকে দূরে থাকে। কেননা দুশ্চরিত্রবান আর মন্দ কাজে অভ্যস্ত বন্ধু শেষ পর্যন্ত মানুষকে অবৈধ, অশোভন আর অনৈতিক কাজের দিকে নিয়ে যায়। পবিত্র কোরআনের নূরানী আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, যে বিচ্যুত এবং ফাসেকের সাথে বন্ধুত্ব করে সে আসলে নিজের ওপর নিজেই জুলুম করে। কিয়ামতের দিন তাদের অবস্থা সম্পর্কে কোরআন বলেছেঃ "হায় আমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছিল। শয়তান মানুষকে বিপদকালে ধোঁকা দেয়।" বাংলা ভাষায় একটি প্রবাদ আছেঃ "উত্তম নিশ্চিন্তে চলে অধমের সাথে, সে-ই অধম যে চলে তফাতে।"    ইরানের জগদ্বিখ্যাত মরমী কবি মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি এ সম্পর্কে লিখেছেনঃ অসৎ বন্ধু থেকে দূরে থাকো যতোটা পারো! সে যে বিষধর সাপের চেয়েও ভয়ংকর আরো দুষ্ট সাপ শুধু আঘাত করে তোমার প্রাণের পর অসৎ বন্ধু ছোবল মারে প্রাণের সাথে ঈমানের পর।     

          ইমাম  জাফর সাদেক (রঃ) বন্ধুত্বের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেছেন। যেমন বন্ধু বানাবে তাকে যে , 

প্রথমতঃ ভেতরে- বাইরে তোমার জন্যে একইরকম। অর্থাৎ বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে সততা রক্ষা করে। 

দ্বিতীয়তঃ তোমার ভালোকে নিজের ভালো, তোমার মন্দকে নিজের মন্দ বলে মনে করে। তৃতীয়তঃ যদি সম্পদশালী হয়ে যায় বা উচ্চ পদে আসীন হয়,তাহলে আচরণ পাল্টায় না। চতুর্থতঃ তোমাকে বিপদের মাঝে ছেড়ে চলে যায় না বা একাকী ফেলে যায় না ইত্যাদি।                       বন্ধুত্বের একটা গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো সততা রক্ষা করা।       

    3.  বন্ধুকে সম্মান করা বন্ধুত্বের নীতিমালার আরেকটি বৈশিষ্ট্য। কারণটা হলো বন্ধুত্বের মধ্য দিয়ে যে বন্ধন তৈরি হয়, তারফলে একজনের প্রতি আরেকজনের একটা অধিকার সৃষ্টি হয়, আর সেই অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা অবশ্য কর্তব্য। সর্বোপরি একজন মুসলমান হিসেবে দায়িত্ব হলো অপরের সম্মান রক্ষা করা। চাই তা নীতিকৌশল পরিবর্তনের ব্যাপারেই হোক কিংবা ব্যক্তির আচার আচরণে সংস্কার আনার ব্যাপারেই হোক, অবশ্যই সাহায্য করতে হবে। 

      4.    বন্ধুত্বের নীতিমালার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিষ্টাচার হচ্ছে অসুখ- বিসুখ, বিপদ-আপদেও বন্ধুত্ব অটুট রাখা। যেমনটি কবি সাদি বলেছেনঃ 'বন্ধু হলো সে-ই, যে বন্ধুর হাত ধরে মানসিক অস্থিরতা আর চরম দুরবস্থায়'। লোকমান হাকিম বলেছেনঃ 'প্রয়োজনের মুহূর্ত ছাড়া বন্ধুকে চেনা যায় না।' কেউ যখন অসুস্থতায় ভোগে তখন তার প্রতি সেবাযত্নের প্রয়োজন হয়, সে সময় অসুস্থ ব্যক্তি আশা করে বন্ধুরা তার সেবায় এগিয়ে আসবে।        

     5.   বন্ধুত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিষ্টাচার হলো ব্যক্তিগত অহমিকা বা গর্ব পরিহার করা। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যখন গভীর হয় তখন এক বন্ধু আরেক বন্ধুর কাছ থেকে কেবল যে সম্মানই পায় তা-ই নয় বরং নিজেকে কেউ বড়ো করে দেখারও চেষ্টা করে না, অহংকারও করে বেড়ায় না। পবিত্র কোরআনের সূরা যুমারের ষাট নম্বর আয়াতে বলা হয়েছেঃ 'অহংকারীদের স্থান হচ্ছে দোযখ।' সূরা শুয়ারার ২১৫ নম্বর আয়াতেও বলা হয়েছেঃ 'আপনাকে যারা অনুসরণ করছে সেইসব মুমিনের জন্যে আপনার পাখা বিস্তৃত করুন অর্থাৎ তাদের প্রতি সদয় হোন।' ইসলামের দৃষ্টিতে বন্ধুদের সাথে আচরণ হতে হবে সদয়, আন্তরিক এবং বিনয়ী। তবে গঠনমূলক সমালোচনাও বন্ধুত্বের মাঝে বিদ্যমান অনিবার্য একটি শিষ্টাচার। হাদিসে এসেছে, রাসূল  (সা) বলেছেনঃ 'এক মুমিন আরেক মুমিনের জন্যে আয়নার মতো।' তাই বন্ধুর দোষত্রুটিগুলো শোধরানোর ব্যাপারে সহযোগিতা করা শিষ্টাচারভুক্ত। কেননা এতে মঙ্গল ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে। গঠনমূলকভাবে বন্ধুরর দোষগুলো ধরে দিলে বন্ধু রাগ তো করবেই না বরং ভাববে সেই তো পরম শুভাকাঙ্ক্ষী। তাই তাদের মধ্যকার বন্ধুত্ব আরো দৃঢ় আরো গভীর হবে। তবে কখনো ভুল করলে ক্ষমা চাওয়াটাও একটা শিষ্টাচার। কেননা ভুল স্বীকারের মধ্যেই রয়েছে সংশোধনের বীজ।  আলী ( রাঃ) এর ভাষ্য অনুযায়ী 'সবচেয়ে মন্দ লোক হলো সে-ই যে ভুল স্বীকার করতে রাজি নয়।'

  সর্বোপরি  যার চরিত্র  উত্তম , তাকেই  বন্ধু  নির্বাচন করতে হবে ।


3127 views

আপনি এমন এক বন্ধু খুঁজুন যে খুব ভালো, সৎ, নিষ্ঠাবান, আদর্শ ব্যক্তিত্ব। নীতি কথা বলে। যেমন আপনি। ভালো কাজে সর্বদা এগিয়ে। তাঁকে বন্ধু বানান। দেখবেন সে আপনাকে সারাজীবন মনে রাখবে।

3127 views

Related Questions