2 Answers
কান্নার প্রধান কারণটা মানসিক। মানুষের কান্নার বা চোখের পানি তিন ধরনের- ১.ব্যাসাল টিয়ার্স ( চোখকে ধুলাবালি থেকে রক্ষা করে এই কান্না) ২.রিফ্রেক্স টির্য়াস ( চোখের রিফ্রেসের জন্য এমন কান্না) ৩.ইমোশনাল টির্য়াস ( দু:খ কষ্ট অনুভব করার কান্না) এখন কথা হলো, আমরা কেন কাঁদি? বিজ্ঞানীদের মতে ইমোশনাল টির্য়াসে খুব বেশি থাকে ম্যাঙ্গানিজ নামের এক ধরনের লবণ আর প্রোল্যাক্টিন নামের এক ধরনের প্রোটিন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই দু’টো পদার্থ শরীর থেকে বের হয়ে গেলে মানুষ অনেকটা আরাম বোধ করে। তাই আমাদের খুব মন খারাপ থাকলে, ফলে কাঁদলে, আর তার সঙ্গে এগুলো বের হয়ে আমাদের অনেক হালকা করে দিলো। মন খারাপও কিছুটা কমে যাবে। তাই বলা হয় কাঁদিলে দু:খ মুন্দিভূত হয়- কাঁদলে মন হালকা হয়? এটাই তার কারণ। চোখের জলের স্বাদ নোনতা। তাই হয়তো অনেকেয় সমুদ্রের পানির সাথে তুলনা করে থাকেন। কিন্তু কারণ হল এই সব রাসায়নিক একসাথে করলে নোনতা ছাড়া অন্য কোন স্বাদ পাওয়া যাবে না। যখন আমরা কাঁদি, তখন আমাদের তোমার আশেপাশে যারা থাকবে, সবাই-ই বুঝবে কোনো কারণে আমাদের মন ভালো নেই। হয় মন খারাপ, অথবা ভীষণ হতাশ, কিংবা চরম পরিমাণে দ্বিধান্বিত। আর যদি পাশের মানুষটিকে মনের কষ্টা বা অনুভুতিটি শেয়ার করা যায়, এটাও মনকে অনেকখানি হালকা করে দিবে। খেয়াল করে দেখুন তো-আপনার মন খুব খারাপ হলো আর কোনো প্রিয় মানুষের কাছে কাঁদলেন আপনি। কেমন মনটা হালকা হয়ে যায়? আর একটি বিষয় হল,শারীরিক ব্যাথা- যার কারণে আমরা কাঁদি। এটাও সেই মানসিক বা ইমোশন থেকেয় তৈরি হয়। তবে মানুষের জন্য সুখবর যে, লজ্জা পেলে বা অনেক অবেগ বা মন খারাপ থাকলে প্রাণী জগতের একমাত্র তারাই কাদঁতে পারে! ইমোশনাল কান্না শারীরিক ব্যখার বাইরেও কিছু বলার থাকে। বেশির বাগ সময় আমরা আবেগিয় কান্না কাঁদি- অন্যের সাথে সখ্যতা বাড়ানোর জন্য বা যোগাযোগ রাখার জন্য। যেমন-প্রিয় মানুষটি যখন কাদেঁ তখন আমাদের চোখেও পানি চলে আসে কারণ তার সাথে যোগাযোগ ভাল আমাদের। বাচ্চারা কাঁদে,কারণ কথা শিখার আগে এটাই ভাব প্রকাশের মাধ্যম তাদের কাছে। মানুষের হতাশা,ভালবাসা,ভাললাগা,দু:খ,ভয় আর প্রয়োজনের তাগিদে কান্না চলে আসে। যারা ভালবাসার মায়ায় জড়িয়ে আছেন প্রিয় জনের সাথে-তাদের কান্নাটা হয়ে যায় বন্ধন শক্ত রাখা আর নিজেদের দু:খটাকে প্রকাশের সহজ মাধ্যমের জন্য। আর সাথীর কাছ থেকে সাপোর্ট পাবার জন্য। ভাব প্রকাশের জন্য অনেক ভাষা আছে কিন্তু কান্না সার্বজনীন ভাষা। সবাই এটা বুঝে। সামাজিক ভাব যেমন,বিয়েতে প্রিয় মানুষগুলোকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য চোখে পানি আসে। নাটক-সিনেমাতে অনেক দু:খ্যের কিছু মনে করে শিল্পীরা চোখে পানি আনতে পারেন। যদি সত্যিকারের অভিনয় জানেন। বিস্ময় থেকে সংগৃহীত। আরিফুল ভাইয়ের উত্তর।
মানুষ কষ্ট পায় কেন? মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ কষ্ট পায় না, কষ্ট তৈরি করে। কে কেমন কষ্ট তৈরি করবে, সেটা তার বেড়ে ওঠার পরিবেশ, শিক্ষা কোয়ালিটি অব ইনফরমেশন ও বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে মানুষের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিই নির্ধারণ করে তার কষ্ট। যেমন কোনো ঘটনা কাউকে কতটা কষ্ট দেয়, এর জন্য ঘটনা যতটা না দায়ী, তার চেয়ে বেশি দায়ী ব্যক্তি কীভাবে ঘটনার মূল্যায়ন করছে তা। ধরা যাক অফিসের নির্বাহী কর্মকর্তার কথা। অফিসের তিনজন কর্মী দেরি করে আসায় ডেকে তিনজনকেই তিনি সতর্ক করলেন। একজন বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে (বস তো এমনটা বলতেই পারেন) নিয়ে কাজে মনোযোগ দিলেন। দ্বিতীয়জন মন খারাপ করে বসে রইলেন (হঠাৎ দু- এক দিনের জন্য বস আমাকে এভাবে অপমান করলেন)। তৃতীয়জন হয়তো কিছুটা রাগে, কষ্টে কেঁদে চোখের পানি মুছছেন। আর ভাবছেন, না, এখানে কাজ করা যাবে না। তাহলে ব্যাপারটি কী দাঁড়াল? ঘটনা বা কথা কিন্তু এক। কিন্তু তিনজন এটাকে তিনভাবে নিলেন। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ কষ্ট পায় না, কষ্ট তৈরি করে। কে কেমন কষ্ট তৈরি করবে, সেটা তার বেড়ে ওঠার পরিবেশ, শিক্ষা, কোয়ালিটি অব ইনফরমেশন ও বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে। মানুষ শরীরে আঘাত পেতে পারে, কিন্তু মনে কখনো আঘাত পায় না। মন আঘাত বা কষ্ট তৈরি করে। গবেষকরা বলেন, মানুষ কোনো একটি ঘটনাকে নেতিবাচক চিন্তা করে পাহাড় সমান কষ্ট তৈরি করে। পৃথিবীতে যত আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে, তা কষ্ট তৈরি করার ফলে। মানুষ তাহলে কষ্ট তৈরি করে কেন? বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানুষ চায়, তার মনের মতো করে সবকিছু হোক। কিন্তু এটা কখনই সম্ভব নয়। কারণ কোনো কিছুই আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। নিজের সুখ, খুশি, দুঃখ কারো ওপর নির্ভর করে না। করে নিজের ওপর। সুখ, দুঃখ হচ্ছে ভেতরের অনুভূতি। বাইরের কোনো ঘটনা এটা সৃষ্টি করতে পারে না। ঘটনা শুধু প্রভাবিত করতে পারে। কারণ বস্তু, ব্যক্তি বা ঘটনা— এগুলো প্রভাবক। পৃথিবীতে যত মানুষ মারা যায়, তার ৭৫ শতাংশ কারণ হচ্ছে নিরানন্দ। আর এ নেগেটিভ সাইকিক ইমপ্রেশন নির্ভর করে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাধারার ওপর। আপনার নীতি-নৈতিকতা যদি ঠিক থাকে, তাহলে কে কী সমালোচনা করল, সেটা মোটেও বাধা বা চিন্তার নয়। সবকিছুকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে হবে। যার যেমন চিন্তাচেতনা, তার সমালোচনা বা বক্তব্য ঠিক তেমনই হবে। রাগ করা বা কষ্ট পাওয়া চরম বোকামি। মানুষ কষ্ট পেলে কাঁদে কেন? আমাদের ল্যাক্রিমাল গ্লান্ড থেকে যে নোনা রস নির্গত হয় তাই কান্না। এটা একটি জৈবিক ক্রিয়া। কান্না তিন প্রকার, বাসালঃ যা চোখ ভেজা থাকতে সাহায্য করে, রিফ্লেক্সঃ যা পেঁয়াজ কাটার সময় বের হয় আর ইমোশনালঃ যেটা শারীরিক-মানসিক ব্যাথার কারনে বের হয়। এই ইমোশনাল কান্নার পেছনে প্রো- ল্যাকটিন হরমোন কাজ করে যা যা শরীর ব্যাথা বা কষ্ট পেলে উৎপন্ন করে। এটাই মূল কারন। কিন্তু মজার কারন হলো, আমরা শিশুকালে আমাদের দাবী দাওয়া বোঝাতে কেঁদে উঠি কারন তখন এটাই আমাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম যতদিন পর্যন্ত কথা বলতে না শিখি। কিন্তু তারপরও আমাদের শরীর-মন সে কথা ভোলে না। সময়-অসময়ে সে যোগাযোগের মাধ্যম বা রেসপন্স হিসেবে বা এটেনশন কেড়ে নিতে কান্নাকে ব্যাবহার করে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy