শরিআত মোতাবেক বিয়ের নিয়ম।কি?
শরিআত মোতাবেক বিয়ের নিয়ম।।।।
জানালে খুশি হব। এর জন্য অনুসন্ধানের
ফলাফল
25546 views
1 Answers
ইসলামে কনে তার নিজের ইচ্ছানুযায়ী বিয়েতে মত বা অমত দিতে পারে| একটি আনুষ্ঠানিক এবং দৃঢ় বৈবাহিক চুক্তিকে ইসলামে বিবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা বর ও কনের পারষ্পারিক অধিকার ও কর্তব্যের সীমারেখা নির্ধারণ করে| বিয়েতে অবশ্যই দুজন মুসলিম স্বাক্ষী উপস্থিত থাকতে হবে| ইসলামে বিয়ে হল একটি সুন্নাহ বা মুহাম্মাদের আদর্শ এবং ইসলামে বিয়ে করার জন্য অত্যন্ত জোরালোভাবে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বিয়ে ইসলামী বিবাহের মৌলিক বিধিবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হয়। পাশাপাশি, ইসলামে সন্ন্যাসজীবন এবং কৌমার্যেরও কঠোর বিরোধিতা করা হয়েছে। ইসলামে তালাক অপছন্দনীয় হলেও এর অনুমতি আছে এবং তা যে কোন পক্ষ হতে দেওয়া যেতে পারে। তবে দেশ অনুযায়ী বিবাহ ও তালাক বিষয়ক আইনের কিছু ভিন্নতা আছে যা সংশ্লিষ্ট দেশের সংষ্কৃতি ও নৈতিকতার দ্বারা প্রণীত হয়।
কুরআনে বলা হয়েছে,
এছাড়াও আরেকটি হাদীসে এসেছে যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন,
[Ahlul Bayt Digital Islamic Library Project ১][৫]
[৬]
ইসলামী বিবাহে বর, কনে এবং কনের অভিভাবকের(ওয়ালী) সম্মতির(কবুল) প্রয়োজন হয়| বৈবাহিক চুক্তিটি অবশ্যই কনের অভিভাবক(ওয়ালী) এবং বরের দ্বারা সম্পাদিত হতে হবে, বর এবং কনের দ্বারা নয়| ওয়ালী সাধারণত কনের পুরুষ অভিভাবক হন, প্রাথমিকভাবে কনের বাবাকেই ওয়ালী হিসেবে গণ্য করা হয়| মুসলিম বিয়েতে ওয়ালীকেও অবশ্যই একজন মুসলিম হতে হবে| বৈবাহিক চুক্তির সময় চাইলে কনেও সে স্থানে উপস্থিত থাকতে পারে, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়| বিয়ের পর ঘোষণা করে বা অন্য যে কোন পন্থায় সামাজিকভাবে তা জানিয়ে দিতে হবে, যাকে "এলান করা" বলা হয়|
পূর্বশর্তসমূহ
[কুরআন 4:24 ]
দাম্পত্য সঙ্গীর অধিকার ও তার প্রতি বাধ্যতামুলকভাবে করণীয়
[কুরআন 4:34 ] [কুরআন 4:128 ]
[কুরআন 4:36 ]
মোহর, যৌতুক এবং উপহার
[কুরআন 4:4 ] [কুরআন 5:5 ]
[কুরআন 60:10 ]
স্ত্রীর ভরণপোষণ এবং মোহর
মূল নিবন্ধ: মোহর
বিয়ে পড়ানোর পর শারীরিক সম্পর্কের আগে মোহরানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে।[ কুরআন 2:241 ]
বৈবাহিক চুক্তি এবং জোরপূর্বক/মতের অমতে বিয়ে
সম্পর্কিত হাদীস
বিশ্লেষণ ও আলেমগণের সিদ্ধান্ত
উপরোক্ত হাদীসটি দ্বারা কনের ক্ষেত্রে মৌনতাই সম্মতির লক্ষণ হিসেবে সমাজে ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তি প্রচলিত থাকলেও বিশ্বের অতীত ও বর্তমানের অধিকাংশ আলেম উপরোক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় একমত যে কুমারী কন্যার বিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত অনুমতি নেয়া আবশ্যক এবং কুমারী কন্যার লাজুকতার ক্ষেত্রে মৌন থাকার পর যদি মানসিক সম্মতি নিশ্চিতরূপে বোঝা যায় তবেই তা সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হবে| এছাড়া একজন অকুমারীকে(বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা বা তালাকদাত্রী) তখনই বিয়ে দেয়া যাবে যখন সে নিজে তা চাইবে বা সেই নির্দেশ দেবে, এ ব্যাপারে তাকে কোনরূপ জোরজবরদস্তি করা যাবে না|
আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সাড়াদান
বিবাহ-বিচ্ছেদ
মূল নিবন্ধ: তালাক (ইসলাম)
ইসলামে তালাক প্রদান অত্যন্ত অপছন্দনীয় তবে এর অনুমতি আছে। কোন কারণে যদি তালাক হয়ে যায় তবে সে সময় থেকে উক্ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের বৈধতা অর্থাৎ যৌনসম্পর্ক ও পারস্পারিক মেলামেশার বৈধতা ও অনুমতি বাতিল ও সমাপ্ত হয়ে যাবে। কোন কারণে যদি তালাক হয়ে যায় তবে সে সময় থেকে উক্ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের বৈধতা অর্থাৎ যৌনসম্পর্ক ও পারস্পারিক মেলামেশার বৈধতা ও অনুমতি বাতিল ও সমাপ্ত হয়ে যাবে।
খোলা
[কুরআন 4:128 ]
যে সকল সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিয়ে নিষিদ্ধ
মূল নিবন্ধ: মাহরাম
রক্তসম্পর্কের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা
নয়টি, যথা: মা, বোন, মেয়ে, দাদী, নানী, খালা, ফুফু, ভাতিজী, ভাগ্নী|
দুগ্ধপানের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা
কোন ছেলেসন্তান জন্মের প্রথম দুবছরের মধ্যে আপন মা ছাড়া রক্তসম্পর্কের বাইরে যদি কোন মহিলার স্তন্যদুগ্ধ পান করে থাকে তবে তাকে ঐ ছেলে সন্তানের দুধমাতা বলা হয়| বিবাহের ক্ষেত্রে আপন মায়ের মত ঐ মহিলার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে| তাই একজন পুরুষের জন্য তার দুধমাতার সঙ্গে এবং দুধমাতার বোন ও মেয়ের সঙ্গে বিবাহ নিষিদ্ধ|
বিবাহের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা
1. সৎ-মা, সৎ-দাদি, সৎ-নানী
2. কোন না কোন সময় সহবাস করেছে এমন স্ত্রীর কন্যা
3. শাশুড়ি, নানী-শাশুড়ি, দাদি-শাশুড়ি
4. ছেলের বউ, নাতির বউ
5. স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা অবস্থায় তার বোন, খালা, ফুফু, স্ত্রীর ভাইয়ের অথবা বোনের কন্যা।[৭]
ধর্মের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা
একজন মুসলিম পুরুষ কোন মুশরিক (মূর্তিপূজারী) বা কাফির (অবিশ্বাসী) নারীকে বিয়ে করতে পারবে না, শুধুমাত্র কোন মুসলিম নারী এবং পাশাপাশি কোন ইহুদি বা খ্রিষ্টান নারীকেও বিয়ে করতে পারবে| অপরদিকে একজন মুসলিম নারী শুধুমাত্র একজন মুসলিম পুরুষকেই বিয়ে করতে পারবে|
যাদের সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ
পুরুষের জন্য:
1. মা
2. সৎমা
3. বোন
4. সৎবোন
5. দাদী, বড়দাদী এবং তাদের মাতৃসম্পকের পূর্বসূরী নারীগণ
6. নানী, বড়নানী এবং তাদের মাতৃসম্পর্কের পূর্বসূরীগণ
7. কন্যাসন্তান
8. নাতনী
9. নাতনীর কন্যাসন্তান এবং জন্মসূত্রে পরবর্তী প্রজন্মসমূহের নারীগুণ (উদাহরণঃ নাতনীর কন্যার কন্যা ও তার কন্যা ইত্যাদি)
10. ফুফু
11. খালা
12. সৎমেয়ে
13. ভাইয়ের মেয়ে
14. বোনের মেয়ে
15. দুধমা
16. দুধবোন
17. দুধমায়ের বোন
18. আপন পুত্রের স্ত্রী
19. শাশুড়ী
20. সমলিঙ্গের সকল ব্যক্তি অর্থাৎ সকল পুরুষ এবং জৈবিকভাবে নারী ব্যতীত অন্য যে কোন লিঙ্গের ব্যক্তি
21. মুর্তিপুজারী বা মুশরিক বা বহুঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী নারী (নারীদের জন্য সকল অমুসলিম পুরুষ)
22. আপন দুই বোনকে একসাথে বিয়ে করা, (নিজ স্ত্রীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদের পর অথবা তাঁর মৃত্যুর পর অপর বোনকে বিয়ে করতে পারবে। ইসলামে নারীদের জন্য বহুবিবাহ অর্থাৎ একই সময়ে একের অধিক পুরুষের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ থাকার অনুমতি না থাকায় বিপরীতভাবে নারীদের জন্য এই নিয়মটি প্রযোজ্য হবে না।)
নারীর জন্যেও লিঙ্গীয় বিবেচনায় বিপরীতভাবে উপরোক্ত নিয়ম প্রযোজ্য হবে|
বহুবিবাহ
মূল নিবন্ধ: ইসলামে বহুবিবাহ
আরও দেখুন
বাংলাদেশে বিবাহপ্রথা#মুসলিম আইন
ইসলামে নারী
তথ্যসূত্র
1. ↑ Chapter: Seeking permission of a previously-married woman in words, and of a virgin by silence
2. ↑ Chapter: The father or the guardian cannot give a virgin or matron in marriage without her consent
3. ↑ http://www.onislam.net/english/ask-about-islam/ethics-and-values/muslim-character/166329-marriage-is-the-prophets-sunnah.html
4. ↑ ৪.০ ৪.১ "Importance of Marriage in Islam" । al-islam.org। সংগৃহীত ১০ জুন ২০১৫।
5. ↑ "Masturbation between husband and wife" । Muhammad Saalih al-Munajjid । islamqa.info । সংগৃহীত ২ আগস্ট ২০১৫।
6. ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ ট্যাগ; importance নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
7. ↑ Malik ibn Anas, Al-Mu’atta’, 341, (no. 1600)
1. ↑ S.H. Rizvi, Syed Athar Husain।
"Islamic Marriage" । World Islamic Network। সংগৃহীত এপ্রিল ২৮, ২০১৩।
বহিঃসংযোগ
(বাংলা) ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব - পারিবারিক ফিকহ : বিবাহ-সম্পর্কিত পূর্ণ নির্দেশিকা
E-Book: Marriage - A form of Ibada
অন্য ভাষায় পড়ুন
২৩:৪২, ১ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে সর্...
উইকিপিডিয়া ® মোবাইল ডেক্সটপ
বিষয়বস্তু CC BY-SA 3.0 -এর আওতায় প্রকাশিত যদি না অন্য কিছু নির্ধারিত থাকে।
ব্যবহারের শর্তাবলী গোপনীয়তা
‘ তিনি তোমাদের (স্বামী-স্ত্রী) একে অন্যের সাথী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া প্রবিষ্ট করে দিয়েছেন।’
—সূরা রুম-২১
“
”
‘ স্ত্রীরা হচ্ছে তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ আর তোমরাও তাদের জন্য পোশাকস্বরূপ।'
—সূরা বাকারাহ-১৮৭
“
”
‘ তোমরা তাদের অভিবাবকদের অনুমতিক্রমে তাদের বিয়ে করো, যথাযথভাবে তাদের মোহর প্রদান করো, যেন তারা বিয়ের দুর্গে সুরক্ষিত হয়ে থাকতে পারে এবং অবাধ যৌনচর্চা ও গোপন বন্ধুত্বে লিপ্ত হয়ে না পড়ে।’
—সূরা নিসা-২৫
ইসলামী বিবাহে বর, কনে এবং কনের অভিভাবকের(ওয়ালী) সম্মতির(কবুল) প্রয়োজন হয়| বৈবাহিক চুক্তিটি অবশ্যই কনের অভিভাবক(ওয়ালী) এবং বরের দ্বারা সম্পাদিত হতে হবে, বর এবং কনের দ্বারা নয়| ওয়ালী সাধারণত কনের পুরুষ অভিভাবক হন, প্রাথমিকভাবে কনের বাবাকেই ওয়ালী হিসেবে গণ্য করা হয়| মুসলিম বিয়েতে ওয়ালীকেও অবশ্যই একজন মুসলিম হতে হবে| বৈবাহিক চুক্তির সময় চাইলে কনেও সে স্থানে উপস্থিত থাকতে পারে, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়| বিয়ের পর ঘোষণা করে বা অন্য যে কোন পন্থায় সামাজিকভাবে তা জানিয়ে দিতে হবে, যাকে "এলান করা" বলা হয়|
25546 views
Answered
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy