3 Answers
কি কি খাবেন এই রোগে আক্রান্তকালীন সময়ে: সাধারণ খাবার, যা আপনি নিয়মিত খান। তবে গরুর মাংস, চিংড়ি, ইলিশ ইত্যাদি, এবং তৈলাক্ত খাবার বর্জন করুন। শাকসবজি, পাকা ফল বেশি করে খাবেন। আর পানি প্রচুর পরিমাণে। যতটা সম্ভব তরল খাবার খেতে চেষ্টা করুন ডিহাইড্রেশন থেকে মুক্তি পেতে। আর অনেক সময় মুখের ভেতরের তালুতে এমনকি গলার ভেতরের দিকেও ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। তখন সাধারণ খাবার খাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। স্যুপ বা এজাতীয় খাবার তখন খুবই উপকারী। অন্যান্য সতর্কতাঃ এই ফুসকুড়িগুলো কোন অবস্থাতেই নখ দিয়ে চুলকাবেন না। রোগ সনাক্তের প্রথম দিকেই হাত পায়ের নখ কেটে ফেলুন ছোট করে। সম্ভব হলে চুল ফেলে দিন মাথার। ঠাণ্ডা স্থানে থাকতে চেষ্টা করবেন যতটা সম্ভব। রোদে যাওয়া যাবে না কোনভাবেই। চুলকানি অসহ্য হলে একটি পাতা সহ নিমের ডাল রাখতে পারেন, যা হালকা করে বুলিয়ে নেয়া যাবে আক্রান্ত স্থানে। নিমের ঔষধি গুন এই ক্ষেত্রে সাহায্য করে। গ্রাম্য কিছু কুসংস্কার আছে যেমন, কাঁচা দুধ খাওয়া, বিভিন্ন লতা গুল্মের নির্যাস আক্রান্ত স্থানে লাগানো, সোনা রুপা ভেজানো পানি ইত্যাদি ইত্যাদি পরিহার করুন। ডাক্তারের দেয়া ওষুধেই আপনি সুস্থ হবেন।
পক্স হলে করনীয় সূমহ : ১। চর্বিযুক্ত মাংস ও ফুল-ফ্যাট, গরুর মাংস, চিংড়ি, ইলিশ. লেবু, লবণাক্ত ও ঝাল খাবার চকলেট, বাদাম এবং বীজজাতীয় যে-কোনও খাবার। টক ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ২। হাতের নখ ছোট করা, ৩। ঠান্ডা জায়গায় অবস্থান করা, ৪। ঠাণ্ডা তরল খাবার খেতে দিতে হবে, চিড়ার পানি, ডাবের পানি, Ors ৫। নীচের লক্ষ্মণগুলোর কোনটি দেখা দিলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুনঃ ক. ১০৩ ডিগ্রি বা তার বেশি জ্বর; খ. চোখে ফুসকুড়ি দেখা দিলে; গ. ফুসকুড়ির সংক্রমণ না কমলে
সাবধানে থাকলে এই রোগ কোন চিকিৎসা ছাড়াই আরোগ্য হয়। যা যা কম খাবেনঃ • স্যাচুরেটেড ফ্যাট যুক্ত খাবার যেমন চর্বি যুক্ত মাংস ও ফুল-ফ্যাট দুধ। এতে থাকা ফ্যাট প্রদাহ বারিয়ে সেরে ওঠাকে ধীর করে ফেলে। • লেবু খাবেন না যদি মুখের ভিতর গোটা থাকে। লবনাক্ত ও ঝাল খাবার ও বাদ দিবেন। • আরজিনিন নামক একটি এমাইনো এসিড, পক্স ভাইরাস এর জীবন প্রণালি কে সাহায্য করে। আরজিনিন যুক্ত খাবার যেমন চকোলেট, বাদাম এবং বীজ জাতীয় যে কোন খাবার। যা খাবেনঃ • সাধারণ ভাত, মাছ, মান্দস খেতে পারবেন। • সূপ • ফল (মুখে ঘা থাকলে নরম ফল খাবেন, টক ফল খাবেন না) • দিনে কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি • লাইসিন নামক একটি এমাইনো এসিড, আরজিনিন এর প্রভাব কাটাতে সাহায্য করে। লাইসিন পাবেন ডাল এ। সংক্রমনঃ • আক্রান্ত ব্যক্তির পক্স হতে নির্গত রস বা খোসা • আক্রান্ত ব্যক্তির হাচি-কাশি • আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একই বাথটাব/সুইমিংপুল এ গোসল করলে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাঃ • হালকা গরম পানিতে গোসল করুন • সাবান পানি দিয়ে পক্স ধুতে পারবেন। • বিদেশে পক্সের এর চুলকানি রোধে খুব জনপ্রিয়ী একটি প্রথা হলো গোসলের পানিতে ওটমিল পাউডার এর ব্যবহার। এক বাথ টাব হালকা গরম পানিতে দুই কাপ ওটমিল পাউডার ভিজিয়ে রেখে তা দিয়ে গোসল করতে পারেন। চুলকানি কমবে। ওটমিল এ silicon, avenanthramides এবং beta-glucan থাকে যা চুলকানি কমাতে সাহায্য করে। একই পদ্ধতিতে বেকিং সোডাও ব্যবহার করতে পারেন (এক বাথটাবে এক কাপ)। • গোসল শেষে বেশী চেপে মুছতে যাবেন না। বাতাসে শুকিয়ে নিন। • চুলকানি কমাতে বেবি ওয়েল, ওলিভ অয়েল বা calamine lotion ব্যবহার করতে পারেন। • চুলকালে নখ লাগাবেন না। নিম গাছের পাতা দিয়ে আলতো করে চুলকানো দেশীয় মেডিসিনের একটা অংগ। খুব সম্ভবত নিমের এন্টিব্যাকটেরিয়াল গুনের কারণে এমনটা করতে বলা হয়। চিকিৎসাঃ ডাক্তারের পরামর্শে পেইন কিলার (মাসল পেইন এর জন্য), এন্টিভাইরাল ড্রাগ (ভাইরাস প্রতিরোধে) এবং এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ (চুলকানি রোধে) খেতে পারেন। দাগ মোচনঃ • নিয়মিত ভিটামিন ই ওয়েল এবং এলোভেরা জেল (ঘৃতকুমারি) লাগাতে পারেন। • সিলিকন যুক্ত যে কোন ক্রীম দাগে লাগাতে পারেন। • ওট এর পেস্ট (গরম পানিতে ওট ভিজিয়ে রেখে ডলে নিন) লাগাতে পারেন • তাছাড়া কেউ কেউ বলে ডাবের পানি এবং মধু ও দাগ নির্মূলে সহায়তা করে। প্রতিরোধঃ ১৯৯৫ সালে চিকেন পক্স এর টীকা আবিষ্কৃত হয়য়। বাচ্চারাদের কে প্রথম ডোজটি ১২-১৮ মাসের মধ্যে দিন। দ্বীতিয় ডোজটি ৪-৬ বছরে দিতে হয়। কারো যদি তীকা দেওয়া না থাকে এবং চিকেন পক্স হয়য়। লক্ষন প্রকাশের ৩ দিনের মধ্যে টীকা দিয়ে দিতে পারেন, রোগের প্রকোপ কমে যাবে। কারো একবার চিকেন পক্স হয়ে গেলে আর টীকার প্রয়োজন নেই। কারণ শরীরে তখন এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে অনেক এন্টিবডি তৈরী হয়ে যায় যা ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য শরীরে জমা থাকে। সতর্কতাঃ • গর্ভাবস্থার প্রথম ছয় মাসে চিকেন পক্স হলে গর্ভপাতের আশঙ্গকা থাকে। তাছাড়া বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি (হাত-পায়ে ত্রুটি,ছোট মাথা, চোখে সমস্যা) ও দেখা দিতে পারে। তাছাড়া এই সময়ে আপনি ওষুধ ও খেতে পারবেন না। সুতরাং ডাক্তার এর নিবির তত্ত্ববধানে থাকুন। • বাচ্চাদের চিকেন পক্স হলে কখনোই এসপিরিন খাওয়াবেন না। এটি থেকে অন্য একটি রোগ Reye's Syndrome এর উদ্ভব হতে পারে। এই রোগ থেকে শিশুর লিভার, ব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমনকি মৃত্যু ও হতে পারে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy