2 Answers
বুক জ্বালাপোড়া যেভাবে প্রতিরোধ করা যায়:
একটি কথা প্রচলিত আছে যে, Prevention is batter then cure অর্থাৎ রোগ হওয়ার আগেই সচেতন হওয়া ভাল। ওষুধ ব্যতীত বুক জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তি পেতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা আমাদের সবার জন্য দরকার। নিয়ম গুলো হলো:
> যেসব খাবার ও পানীয় খেলে আপনার বুক জ্বালাপোড়া করে সেগুলো চিহ্নিত করুন এবং এড়িয়ে চলুন।
> ধুমপান বর্জন করুন।
> একসাথে বেশি পরিমাণে না খেয়ে কিছুক্ষণ (২ ঘণ্টা) পরপর অল্প অল্প করে খান। তাহলে খাবার দ্রুত হজম হবে। এবং পেটে অতিরিক্ত গ্যাস ও এসিড উৎপন্ন হবে না। এর পরিনামে আপনি বুক জ্বালাপোড়া হতে রেহাই পাবেন।
> খাওয়ার পরপর শুয়ে পড়বেন না, ব্যায়াম করবেন না। ১ ঘন্টা অপেক্ষা করুন, তারপর ঘুমুতে যান।
> ঘুমানোর সময় বিছানা থেকে মাথাকে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি উচুতে রেখে শয়ন করুন।
> শরীরের বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলুন।
> ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। মোটা বেল্টের প্যান্ট পড়বেন না।
> মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে চেষ্টা করুন।
গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালাপোড়া
গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালাপোড়া এবটি সাধারন ও স্বভাবিক শরীরবৃত্তীয় ঘটনা বলা যায়। গর্ভাবস্থার চতুর্থ মাস থেকে বুক জ্বালাপোড়া শুরু হতে থাকে। হরমোনের মাত্রার পরিবর্তনের ফলে বুক জ্বালাপোড়া হয়। যার কারণে সমগ্র খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর পেশীতে খাবারের বিভিন্নতার কারণে প্রতিক্রিয়া হতে পারে। প্রেগনেনসি হরমোনের (HCG) কারণে খাদ্যনালীর ভাল্ব শিথিল হয়ে যায়, যার কারণে পাকস্থলীর খাদ্যবস্তু ও পাকস্থলীতে সৃষ্ট এসিড গলনালীর গিকে ধবিত হয়। ফল স্বরূপ বুক জ্বালাপোড়া হয়। এছড়াও জরায়ুর বৃদ্ধির কারণে পাকস্থলীর উপর চাপ পড়ে। তাই খাদ্যবস্তু ও এসিড গলনালীর দিকে যায় এবং বুব জ্বালাপোড়া হয়।
প্রতিরোধ: গর্ভস্থ শিশু এবং নিজেকে এ থেকে মুক্ত রাখতে হলে নিচের নির্দেশনা সমুহ অনুসরন করতে পারেন।
* এক সাথে বেশি পরিমাণে না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খান। খাবার ধীরে ধীরে ভালভাবে চিবিয়ে খান। এতে খাবার দ্রুত ও ভালভাবে হজম হবে।
* বুক জ্বালাপোড়া বৃদ্ধি করে এমন খাবার বর্জন করুন। যেমন – ভাজাপোড়া, অধিক মসলা যুক্ত খাবার, টক জাতীয় খাবার, সস ইত্যাদি।
* খাওয়া সময় পানি কম পান করবেন। খাওয়ার সময় পানি বেশি খেলে খাবার হজমে সহায়তাকারি হাড্রক্লোরিক এসিড পাতলা হয়ে যায়। ফলে খাবার হজমে সমস্যা হয় এবং এসিডকে উপরের দিকে চাপ দেয় ও বুক জ্বালাপোড়া বৃদ্ধি করে।
* খাওয়া শেষ করে সাথে সাথে শুয়ে পড়বেন না।
* ঘুমানোর সময় বিছানা থেকে মাথাকে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি উচুতে রেখে শয়ন করুন।
* ঢিলেঢালা পোষাক পরম্নন। আঁটসাঁট পোষাক পাকস’লী ও তলপেটে চাপ সৃষ্টি করে সমস্যার বৃদ্ধি ঘটায়।
* কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করুন।
গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালাপোড়া শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়া পরে ভাল হয়ে যায়। এর পরেও কো সমস্যা থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।
সতর্ক বার্তা: গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে কোন ঔষধ খাবেন না।
# ডাঃ মোঃ আশেকুর রহমান খান
বি. এইচ. এম. এস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)