আমার ছোট বোনের এই সমস্যাটি রয়েছে। তার বয়স প্রায় ২৪ বছর কিন্তু আচরণ একেবারে ৫ বছরের একটি বাচ্চা মেয়ের মত। বিভিন্ন খেলাম পুতুল আর সামগ্রীর জন্য আবদার করে। কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। হঠাৎ এমন কিছু অঅচরণ করে থাকে যা আশেপাশের সবাইকে অবাক করে তোলে। কিছুদিন হল তার বিয়ে হয়েছে। কিন্তু শ্বশুড় বাড়িতে সে একেবারেই ভালো নেই। শ্বশুড়বাড়ির কেউ তাকে ভালো চোখে দেখে না। তার এই দুরাবস্থায় কী করা যেতে পারে, অনুগ্রহ করে আমাকে জানাবেন প্লিজ?
2783 views

1 Answers

এমনটা অনেক মানুষের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। আপনার বোনের যে অবস্থা তা সিগমুন্ড ফ্রয়েডের ভাষায় বলা হয় রিগ্রেশন। যার অর্থ হল কোনো সংকটময় অবস্থায় প্রাপ্তবয়স্কের মত আচরণ না করে শিশুসুলভ আচরণে লিপ্ত হওয়া। মানসিক চাপ যত বেশি হতে থাকে ততই এই ধরনের আচরণগুলো বেশি হতে থাকে। কখনও এই আচরণ একেবারে সহজ সরল শিশুর মত হয় আবার কখনও প্রচন্ডভাবে নেতিবাচক আবেগ প্রকাশের মাধ্যমেও হতে পারে। শৈশবের অনেক ধরনের ঘটনা অবচেতন মনে স্থান নেয়। ভুলে যাওয়া স্মৃতিগুলো মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। পরবর্তী সময়ে মানসিক চাপমূলক পরিস্থিতি আবার সেই ক্ষতকে উজ্জীবিত করে তোলে।শৈশবে যুক্তিসঙ্গতভাবে চিন্তা করার শক্তি থাকে না বলে শিশুরা ঘটনাগুলেঅ ঠিকমত বিশ্লেষণ করতে পারে না। আপনার বোনটি হয়তবা বিয়ের পর নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে গিয়ে মানসিক চাপ অনুভব করছে। তার পক্ষে সবসময় স্বাভাবিক আচরণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিয়ের আগে তার মানসিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। সেটি না করে তাকে বিয়ের মত বড় চ্যালেঞ্জের দিকে ঠেলে দেয়া উচিত হয় নি। যাইহোক আর সময় নষ্ট না করে আপনাদের উচিত তাকে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দেয়া। সরকারি হাসপাতালগুলোর মনোরোগ বিভাগে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকায় এসব হাসপাতালে কাউন্সেলিংয়েরও সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের চারতলায় নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিটে এবং পাঁচতলায় এডুকেশন ও কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগে সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। যত শীঘ্র সম্ভব এই জায়গগিুলোতে যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ লিখেছেন : মেহতাব খানম ঢাবি এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগ

2783 views

Related Questions