1 Answers
শিশুর জন্য বুকের দুধ যে উপকারি তা আমরা জানি। কিন্তু জানলে অবাক হবেন যে সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো সন্তানের জন্য যেমন পুষ্টিকর তেমনি তা মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক উপকারী। আসুন ছোট্ট করে জেনে নিই এই স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো কী কী। স্বাস্থ্য উপকারিতা : - জন্মের পরই শিশুকে বুকের দুধ দিলে মায়ের শরীর থেকে অক্সিটোসিন নিঃসৃত হয়। এই অক্সিটোসিন জরায়ু এবং এর রক্তনালিকে সংকুচিত করতে সাহায্য করে। ফলে সন্তান জন্ম নেয়ার পর মায়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় না। - প্রায় সব নারীরই গর্ভধারণের সময় ওজন বাড়ে। এতে শরীরে বাড়তি মেদও জমে। যেসব মা সন্তানকে বুকের দুধ দেন, তাদের দৈনিক অতিরিক্ত ৫০০ ক্যালরি শক্তির প্রয়োজন হয়। বুকের দুধ খাওয়ালে এই বাড়তি ক্যালরির প্রয়োজন হয় বলে মায়েরা খুব দ্রুতই আগের শারীরিক গঠনে ফিরে যেতে পারেন। - যেসব মা ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীল, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে বুকের দুধ খাওয়ালে আগের চেয়ে কম পরিমাণে ইনসুলিন দরকার হয়। - বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে, বুকের দুধ খাওয়ালে স্তন ক্যান্সারের আশংকা ২৫ শতাংশ কমে এবং ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের আশংকাও ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে। - এছাড়া জরায়ু ও অ্যান্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের ঝুঁকিও কম থাকে। - বুকের দুধ খাওয়ালে তা উৎকৃষ্ট জন্মনিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। এতে দুটি সন্তানের মধ্যে বয়সের ব্যবধান থাকে। ফলে প্রতিটি সন্তানই সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে। - যারা শিশুকে ফর্মুলা বা কৃত্রিম দুধ খাওয়ান, তাদের এ সুবিধা তো থাকেই না, উপরন্তু শেষ বয়সে অস্টিওপোরেসিস (হাড়ের ক্ষয়রোগ) হয় এবং অল্প আঘাতে কোমর ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি চার গুণ বেশি থাকে। বুকের দুধ খাওয়ালে মায়েদের যে শুধু শরীর ভালো থাকে তা-ই নয়, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন্যদায়ী মায়েরা সহজে উত্তেজিত হন না, উদ্বেগ ও হতাশায়ও তাড়াতাড়ি ভেঙে পড়েন না। কর্মজীবী মায়েরা যে ক’মাসই মাতৃত্বকালীন ছুটি পান না কেন, এ সময়ের পুরোটাই শিশুকে শুধু বুকের দুধ দেয়া উচিত। এতে পরবর্তী সময়ে শিশুর ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য রোগ হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। ফলে শিশু যেমন সুস্থ থাকে, তেমনি শিশুর জন্য কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটি নিতে হয় না বলে মায়েরও সুবিধা হয়। তথ্যসূত্র : বেবিসেন্টার