2 Answers
চাকরি সন্ধানের ক্ষেত্রে অনেক আবেদনকারীই সাক্ষাৎকারের ডাক পান না। এমনও আছেন অনেকবার অনেক প্রতিষ্ঠানে সিভি জমা দিয়েছেন কিন্তু সাক্ষাৎকারের ডাক পাননি। অনেক কারণেই এমন ঘটতে পারে। আপনি যে চাকরি চাচ্ছেন, সিভি হয়তো তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; অথবা সিভিতে আপনার তথ্যাদি উপস্থাপনে কোথাও ত্রুটি রয়ে গেছে কিংবা সিভিতে সব ধরনের তথ্যই উল্লেখ করেছেন কিন্তু উপস্থাপন কৌশলে কোথাও ভুল হয়েছে। আবার এমনও হতে পারে, আপনার যোগ্যতা প্রমাণে সবচেয়ে উপযুক্ত তথ্যটিই অন্য সব তথ্যের আড়ালে পড়ে গেছে এবং নিয়োগদাতার দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। সিভিতে এমন অজস্র কৌশলগত দুর্বলতা থেকে যেতে পারে, যা কাম্য নয়। সিভি দেখতে ক্ষুদ্র।
এর পাঠক হয়তো মাত্র কয়েকজন, কিন্তু চাকরি সন্ধানীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে বেশির ভাগ চাকরিপ্রার্থী ব্যক্তিগত পরিচয়টাই সিভিতে উপস্থাপন করেন। অনেকেই মনে করেন, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পরিচয় এবং কী কী শিক্ষাগত সনদ অর্জন করেছেন সিভিতে সেগুলো উপস্থাপন করাই যথেষ্ট। নিজের গুণ এবং দক্ষতা তারা উপস্থাপন করেন না বা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন না। অথচ আধুনিক নিয়োগকর্তারা প্রার্থীর প্রায়োগিক গুণ ও দক্ষতাকেই গুরুত্ব দেন। নিয়োগকর্তা জানতে চান প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সাফল্য সম্পর্কে। সুতরাং বর্তমান সময়ের বায়োডাটা বা সিভিতে এর প্রতিটি বিষয়ই উপস্থাপন জরুরি।

বর্তমানে বায়োডাটা শব্দটির পরিবর্তে আরও দুটি শব্দ ব্যবহার করা হয়। একটি রেজুমে (Resume) আরেকটি সিভি (CV) অর্থাৎ কারিকুলাম ভিটা (Curiculum Vitae)। সিভির পরিবর্তে রেজুমে শব্দটি প্রয়োগ করা হলেও কারিকুলাম ভিটা কিন্তু প্রায়োগিক অর্থে রেজুমে বা সিভি নয়। যদিও সিভি এবং রেজুমে শব্দ দুটি একই উদ্দেশ্য সাধন করে, দুটোই নিয়োগকর্তার কাছে একজন আদর্শ প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। এদের পার্থক্য মূলত গঠন, বিবরণ, দৈর্ঘ্য এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে।
প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উচিত নিজ নিজ সিভি তৈরি করতে শেখা। তৈরি করা সিভিতে প্রকারভেদ হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে সিভি তৈরির ফরমেট ৩টি : ক্রনোলজিক্যাল, ফাংশনাল এবং কম্বাইন্ড।
ক্রনোলজিক্যাল সিভি : ক্রনোলজিক্যাল ফরমেট সবচেয়ে প্রচলিত সিভি ফরমেট। চাকরির পদবি, চাকরির স্থান এবং চাকরির কার্যকালকে হেডিং হিসেবে এতে হাইলাইট করা হয়। ক্রনোলজিক্যাল ফরমেট তখনই উপযোগী হবে যখন আপনি একই ধরনের পেশায় বহুদিন কর্মরত ছিলেন। এবং আপনার কাজের ধারা হল ক্রমোন্নতি। এই ফরমেটে সর্বশেষ পেশাগত অবস্থান, প্রতিষ্ঠান, দায়িত্ব ও দায়িত্বকাল অভিজ্ঞতার অংশে প্রথমে চলে আসে। নিয়োগদাতারা এ ধরনের ক্রনোলজি পছন্দ করেন। কারণ তারা প্রার্থীর সর্বশেষ পেশাগত অবস্থা পলকেই জানতে পারেন এ ধরনের সিভি থেকে।
ফাংশনাল সিভি : এ ধরনের সিভিতে দক্ষতাভিত্তিক হেডিং ব্যবহৃত হয়। যে ক্ষেত্রে আপনি সর্বোত্তম দক্ষতা এবং সাফল্য দেখিয়েছেন তা আগে আসে। ফলে তা সময়ানুক্রমিক হয় না। এ ফরমেটে আপনার অর্জনগুলোর তালিকা থেকে আলাদা একটা সংক্ষিপ্ত অংশে কর্মধারাক্রম (work history) সতর্কভাবে উল্লেখ করতে হবে। ফাংশনাল ফরমেট তখনই উপযোগী হবে যখন আপনি কেরিয়ার পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন বা গ্যাপ দিয়ে পুনরায় জব মার্কেটে ঢুকতে যাচ্ছেন।
কম্বাইন্ড সিভি : ক্রনোলজিক্যাল এবং ফাংশনাল সিভির সমন্বিত রূপই হল কম্বাইন্ড সিভি। কম্বাইন্ড ফরমেটে সিভি দুভাবে তৈরি করা যায়। প্রথমে দক্ষতা ও সফলতার বিবরণ দিয়ে তারপর অভিজ্ঞতার ক্রনোলজিক্যাল বিবরণ দিতে পারেন। অথবা ক্রনোলজিক্যাল ফরমেটে অভিজ্ঞতা সাজিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কী কাজ করেছেন তা উল্লেখ করতে পারেন। কম্বাইন্ড ফরমেট উপযোগী হবে যখন আপনার অতীত পেশাগত ইতিহাস সমৃদ্ধ থাকবে এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ অভিজ্ঞতার ফলে আপনি ভালো দক্ষতা অর্জন করেছেন। এই দক্ষতাকেই আপনি কাঙ্খিত চাকরি পাওয়ার মূল চাবিকাঠি ভাবছেন।
সিভিতে কী কী থাকবে : সিভির প্রথমেই থাকবে হেডিং। এ অংশে আপনার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ই-মেইল এড্রেস, এমনকি ওয়েব এড্রেস থাকলে সেটিও উল্লেখ করুন। সিভির শুরুতে এ অংশটুকু পৃষ্ঠার ওপরের মধ্য অংশে বা ডান কোনায় লিখতে হবে। এরপর জব অবজেক্টিভ। কোন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনে আপনি সক্ষম এবং সিভির যাবতীয় তথ্য কোন দৃষ্টিকোণ থেকে পড়তে হবে সেটা জব অবজেক্টভ নিয়োগ দাতাকে বলে দেবে। সে কারণে জব অবজেক্টিভ হবে সংক্ষিপ্ত।
এরপর অভিজ্ঞতার সারসংক্ষেপ অংশ। যে পেশা ও পদের নাম আপনি জব অবজেক্টিভ অংশে উল্লেখ করেছেন সে পেশার জন্য কেন আপনি আদর্শ প্রার্থী এখানে সে কথাই লেখা থাকবে। এটি আপনার যোগ্যতার সারসংক্ষেপ অংশ। এখানে আপনার অভিজ্ঞতা, পদবি, আপনার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন, বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতা, পার্সনাল ভেল্যুজ, ওয়ার্ক এথিকস, ব্যাকগ্রাউন্ড এবং যা আপনার কাঙ্খিত পেশার অনুকূলে বিবেচিত হয় লিখুন।
এরপর শিক্ষাগত যোগ্যতা। এ অংশটিকে Educational Qualification, Educational History শিরোনামেও দেওয়া যায়। অনেক সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার অংশটি সিভির শুরুতে Objective বা সামারি অংশের নিচেও উপস্থাপন করা হয়। এটা তখনই করবে যখন আপনি নতুন গ্রাজুয়েট। অথবা আপনার পেশা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কোনো প্রশিক্ষণ বা ডিগ্রি থাকে। আবার অনেক সময় দরখাস্তের সঙ্গে একাডেমিক তথ্যাদিসহ সিভি চাওয়া হয়। তখনও আপনি এটি করতে পারেন।
সিভিতে ব্যক্তিগত কিছু তথ্যের পর সবশেষে আপনার সম্পর্কে ভালো বলবে এমন ৩ থেকে ৫ জন ব্যক্তির রেফারেন্স সংগ্রহ করে সিভিতে সংযুক্ত করুন। যার রেফারেন্স আপনি ব্যবহার করতে চাচ্ছেন আগে থেকেই তার কাছ থেকে অনুমতি নিন। তালিকায় প্রত্যেকের ক্রমিক নম্বর, নাম ও পদবি, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ই-মেইল অ্যাড্রেস লিখুন। তবে চাকরিদাতা যদি রেফারেন্স না চায় সে ক্ষেত্রে সিভিতে রেফারেন্স উল্লেখ না করাই ভালো।
সিভিতে অনাবশ্যক তথ্য : সিভিতে কী ধরনের তথ্য উল্লেখ করবেন সে ব্যাপারে সতর্ক হোন। অত্যন্ত ব্যক্তিগত তথ্যাদি দিয়ে সিভি অযথা ভারি করতে যাবেন না। এমন অনেক তথ্য আছে যা দরকারি চাকরি এবং কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে চাইলে উল্লেখ করার প্রয়োজন হতে পারে। একটি সঠিক, আধুনিক ও দৃষ্টি আকর্ষণকারী সিভি তৈরি করার ক্ষেত্রে যেসব তথ্য বাদ দেওয়া যেতে পারে :
সিভি বা সিভির ওপরে CV, Resume, Biodata এমন শব্দ, বেতন সংক্রান্ত তথ্য, পূর্বতন চাকরিদাতা বা প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ ঠিকানা, ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান (বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় না হলে), বয়স জাতিগত পরিচয়, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ, ধর্মগত পরিচয়, শখ, বৈবাহিক অবস্থা, জন্মস্থান, উচ্চতা, ওজন, এবং স্বাস্থ্য। প্রয়োজনে এসব তথ্য প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
আরও কিছু বিষয় : সিভি লেখার সময় যে কোনো প্যারা বা অনুচ্ছেদে অনূর্ধ্ব ৬ লাইনের মধ্যে বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখাই হচ্ছে আদর্শ নিয়ম। এবার জেনে নিন সিভির বাহ্যিক কিছু বিষয়ে কী কী লক্ষ্য রাখতে হবে এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে সে বিষয়ে। যেমন এমনভাবে সিভি তৈরি করবেন যাতে এর দৈর্ঘ্য ২ পৃষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। নতুন গ্রাজুয়েটদের ক্ষেত্রে সিভি ১ পৃষ্ঠার বেশি হওয়া উচিত নয়।
সিভি তৈরিতে স্ট্যান্ডার্ড এ-ফোর অথবা লেটার সাইজের অফসেট কাগজ ব্যবহার করতে হবে। সিভি এবং কভার লেটারের জন্য কেবল সাদা এবং আইভরি রংয়ের কাগজই গ্রহণযোগ্য। সিভি ফটোকপি মেশিনে কপি না করে কম্পিউটারের মাধ্যমে যাতে ভালো মানের অফসেট প্রিন্ট নেওয়া যায় সে দিকটা খেয়াল রাখুন। ফটোকপিতে লেখা অস্পষ্ট ও দৃষ্টিকটূ হতে পারে।
সামান্য ব্যাকরণ ও বানানগত ভুলের কারণে সিভি বাতিল হিসেবে গণ্য হতে পারে। মনে রাখতে হবে, সিভিতে সঠিক ব্যাকরণ ও বানানগত উপস্থাপন আপনার ভাষার দক্ষতা ও সচেতনতার প্রমাণ। সুতরাং সিভি লেখার পর চূড়ান্ত প্রিন্ট নেওয়ার আগে বেশ কয়েকবার প্রুফ দেখে নিন।
সিভি টাইপের ক্ষেত্রে সহজসাধ্য ফন্ট নির্বাচন করুন। শিরোনাম ও বুলেট পয়েন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এগুলো এমনভাবে ফরমেটিং করুন যাতে বোল্ড করা এবং বড় হাতের অক্ষর ব্যবহারের পরও সিভির প্রতি অংশের মাঝে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফাঁকা স্থান থাকে। সর্বাধিক প্রাসঙ্গিক, গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য বা শব্দকে হাইলাইট করার জন্য Bold, Italic ফন্ট ব্যবহার করুন। টাইপিংয়ে সাধারণভাবে ১০ থেকে ১২ সাইজের ফন্ট ব্যবহার করুন। শিরোনাম টাইপ করার ক্ষেত্রে ১৪ থেকে ১৬ সাইজের ফন্ট ব্যবহার করুন।
আপনার জীবনবৃত্তান্ত (CV) হচ্ছে একজন সম্ভাব্য চাকুরীদাতার কাছে একজন চাকুরীপ্রার্থী হিসাবে উপস্থাপন করার প্রাথমিক মাধ্যম ৷ কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় চাকুরীপ্রার্থীরা তাদের জীবনবৃত্তান্ত সুন্দর এবং সঠিকভাবে তৈরী করার ব্যপারে গুরুত্ব প্রদান করে না ৷ ফলশ্রুতিতে অনেক যোগ্য প্রার্থীই Job Interview তে ডাক পায় না এবং যোগ্যতা প্রমানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় ৷ আপনার জীবনবৃত্তান্ত (CV) তৈরীর আগে যে সকল বাস্তবতার দিকে নজর রাখবেন--- § একজন চাকুরীদাতা গড়ে একটি জীবনবৃত্তান্ত (CV)-এর উপর ৩০ সেকেন্ডের বেশী সময় দেয় না ৷ সুতরাং এটি হতে হবে সংক্ষিপ্ত ৷ তথ্যগুলোর উপস্থাপন হতে হবে সুস্পষ্ট ৷ অপ্রয়োজনীয় বা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিহার করতে হবে ৷ § একজন অনভিজ্ঞ/সদ্য পাস করা চাকুরীপ্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত এক থেকে দুই পাতার বেশী হওয়া কোনভাবেই উচিত্ নয় ৷ § আপনার জীবনবৃত্তান্ত হচ্ছে আপনার নিজেকে বিপণন করার মাধ্যম ৷ সুতরাং এটি হতে হবে আকর্ষণীয় ৷ তবে চটকদার কোন কিছু যেমন রঙিন কাগজ বা রঙিন কালি ব্যবহার করবেন না ৷ কোন কিছু Highlight করতে হলে সেটিকে Bold, italic বা underline করতে পারেন ৷ § মনে রাখবেন, আপনার জীবনবৃত্তান্তের মধ্যে যদি কোন বানান ভুল বা ভাষাগত/ Grammatical ভুল থাকে তবে সম্ভাব্য চাকুরীদাতার আপনার সম্বন্ধে নেতিবাচক ধারণা হবে ৷ এটি প্রকাশ পাবে যে আপনি কোন কাজই নির্ভুল ভাবে করতে সক্ষম নন ৷ সুতরাং একটি CV তৈরীর পর সেটি নিজে ভাল করে পড়ুন এবং শুদ্ধ ইংরেজী জানেন এমন ব্যক্তিকে দেখিয়ে নিন ৷ § যখন আপনি কোন নির্দিষ্ট চাকুরী বিজ্ঞপ্তির (job announcement)-এর বিপরীতে আবেদন করার জন্য জীবনবৃত্তান্ত পাঠাবেন, তখন চেষ্টা করুন আপনার CV সেই চাকুরীর চাহিদা অনুযায়ী তৈরী করতে (Customize your CV) ৷ এর জন্য প্রয়োজন চাকুরী বিজ্ঞপ্তি ভাল করে পড়া এবং প্রতিষ্ঠানটি সম্বন্ধে কিছু গবেষণা (Research) করা ৷ উদাহরণ স্বরুপ আপনি যদি জানেন যে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের যে কোন স্থানে নিয়োগ দিতে পারে, তাহলে আপনি আপনার CV-তে উল্লেখ করতে পারেন আপনি বাংলাদেশের কোন কোন স্থানে পূর্বে অবস্থান করেছেন ৷ অথবা কোন নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এমন কোন লোক খুঁজছে যার একজন ‘ সংগঠকের (organizer’) ভূমিকা পালন করতে হবে, সেই ক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার ছাত্রজীবনের কোন সাংগঠনকারীর ভূমিকা উল্লেখ করেন তবে আপনার CV নিয়োগকারীর কাছে আলাদা মূল্য পাবে ৷ § এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি আপনার CV তে সঠিক তথ্য দিবেন ৷ এমন কোন তথ্য দিবেন না যা আপনার Job interview-তে ভুল প্রমানিত হতে পারে ৷ জীবনবৃত্তান্তের (CV) বিভিন্ন অংশ একটি জীবনবৃত্তান্তে (CV) যে তথ্যগুলো আপনি সুবিন্যস্ত ভাবে উপস্থাপন করবেন সেগুলো হচ্ছে-- * শিরোনাম (Title) * সার সংক্ষেপ (Career Summary) --> অভিজ্ঞতা সম্পন্নদের জন্য বেশী প্রয়োজন ৷ * ক্যারিয়ার উদ্দেশ্য (Career objective)-->সদ্য পাশ করা চাকুরী প্রার্থীদের জন্য বেশী প্রয়োজন ৷ * চাকুরির অভিজ্ঞতা (Experience) * শিক্ষাগত যোগ্যতা (Education) * অতিরিক্ত তথ্য (Additional Information) * ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Information) * রেফারেন্স (Reference) শিরোনাম: (Title) জীবনবৃত্তান্তের শুরুতেই থাকবে আপনার পুরো নাম ৷ এটা বোল্ড (bold) হবে এবং একটু বড় ফন্টে লিখতে হবে (ডাক নাম পরিহার করুন) ৷ তার পর থাকবে আপনার ঠিকানা (বর্তমান ঠিকানা যেখানে আপনাকে চিঠি দিলে আপনি পাবেন), ফোন নম্বর ও ই-মেইল এড্রেস ৷ এই অংশটুকু পৃষ্ঠার উপরে মধ্যখানে থাকবে, যাতে তা প্রথমেই চোখে পরে ৷ Career Summary( সার সংক্ষেপ ) যে সকল ব্যক্তিদের ৪-৫ বছরের বেশী চাকরীর অভিজ্ঞতা আছে তাদের জন্য এটি বেশী প্রযোজ্য ৷ এই অংশে আপনি সর্বোচ্চ ৬-৭ লাইনে উল্লেখ করুন আপনার পূর্ব চাকরীর অভিজ্ঞতার কর্মক্ষেত্রগুলো ৷ আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতার সাফল্যগুলো (Achievement) সংক্ষেপে তুলে ধরুন (যদি থাকে) ৷ Career Objective এটি বেশী প্রযোজ্য সদ্য পাশ করা চাকুরী প্রার্থী বা অল্প অভিজ্ঞ (১ / ২ বছর) চাকুরী প্রার্থীদের জন্য ৷ এই অংশে আপনি আপনার চাকুরীক্ষেত্রে বর্তমান লক্ষ্য (Immediate goal) উল্লেখ করুন এবং আপনার যোগ্যতা কিভাবে বিজ্ঞপ্তির (Advertised) চাকুরী বা যে প্রতিষ্ঠানে পাঠাচ্ছেন, তার প্রয়োজন মেটাতে পারে তার প্রেক্ষিতে উপস্থাপন করুন ৷ চাকুরীর জন্য উপযুক্ত ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো সংক্ষিপ্তভাবে উলেখ করুন ৷ চাকুরী বিজ্ঞপ্তি বা কোম্পানির প্রয়োজনের সাথে খাপ খাইয়ে Career Objective লেখা জরুরী ৷ আপনি কোম্পানিকে কি দিতে পারবেন তার ওপর গুরুত্বারোপ করুন, কোম্পানির কাছ থেকে আপনি কি আশা করছেন তার ওপর নয় ৷ Experience: (কর্ম অভিজ্ঞতা) অভিজ্ঞ পেশাজীবিদের জন্য এই অংশটি শিক্ষাগত যোগ্যতার আগেই আসা উচিত ৷ সদ্য পাশ করা বা অল্প অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে আগে শিক্ষাগত যোগ্যতা (Education) এবং তার পরে experience আসা উচিত ৷ যে সকল তথ্য আপনার প্রতিটি পূর্ব অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে উল্লেখ করবেন সেগুলো হচ্ছে, * Organization name (প্রতিষ্ঠানের নাম) * Designation (পদবী) * Time period- From & To (সময়কাল) * Job responsibility (দায়িত্ব) * Special achievement (উল্লেখযোগ্য সাফল্য) আপনি যদি একই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদে কাজ করে থাকেন, তাহলে আলাদা আলাদা ভাবে তা উল্লেখ করুন ৷ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আপনি প্রথমেই উল্লেখ করবেন আপনার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা (most recent experience), তার পরে এক এক করে Resume Chronological Order-এ একটির পর একটি অভিজ্ঞতা উল্লেখ করবেন যা শেষ হবে আপনার সর্বপ্রথম অভিজ্ঞতা দিয়ে ৷ আপনার খুব কম গুরুত্বপূর্ণ বা কম সময়ের অভিজ্ঞতা উল্লেখ না করাই ভাল ৷ তবে লক্ষ্য রাখবেন যে আপনার List of experience এর মধ্যে যাতে খুব বেশী Time gap না থাকে ৷ Education & Training (শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ) আগেই বলা হয়েছে যে এই অংশটি সদ্য পাশ করা বা অল্প অভিজ্ঞদের জন্য Experience অংশের আগেই আসা উচিত্ ৷ Education অংশে আপনি আপনার ডিগ্রিগুলোর নাম উল্লেখ করবেন এবং নিম্নেবর্ণিত তথ্য প্রদান করবেন ৷ * ডিগ্রির নাম (যেমন: SSC, HSC, BCom) * কোর্স সময়কাল (কবে থেকে কবে) * শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বোর্ডের নাম ৷ * পরীক্ষার বছর এবং প্রয়োজনে ফলাফল প্রকাশের সময় ৷ * ফলাফল/Result এবং যদি উল্লেখযোগ্য সাফল্য (যেমন: মেধাতালিকায় স্থান) থাকে তবে তার উল্লেখ করতে হবে ৷ Experience-এর মতো এক্ষেত্রেও আপনি আপনার সবচেয়ে সাম্প্রতিক ডিগ্রির উল্লেখ আগে করবেন এবং তার পর পর্যায়ক্রমিক ভাবে বাকিগুলো উল্লেখ করবেন ৷ লক্ষ্য রাখবেন আপনার কোন ডিগ্রির চূড়ান্ত ফলাফল এখনও প্রকাশ না হয়ে থাকলে সেই ডিগ্রির উল্লেখ করার সময় ব্র্যাকেটে ‘Appeared’ উল্লেখ করবেন ৷ কোন কোর্সে অধ্যায়নরত থাকলে ‘Ongoing’ উল্লেখ করুন ৷ কোন ডিগ্রির ক্ষেত্রে আপনার Result যদি খুব খারাপ হয়ে থাকে তবে কোন Result-ই উল্লেখ করার দরকার নেই ৷ মনে রাখবেন একটি ডিগ্রির ফলাফল উল্লেখ করা ও অন্যটি উল্লেখ না করা দৃষ্টিকটু ৷ আপনি যদি কোন বিশেষ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে থাকেন এবং যদি তা আপনার কাজের যোগ্যতার সহায়ক বলে মনে করেন তবে তা উল্লেখ করবেন ৷ সেক্ষেত্রেও প্রশিক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, Topics, প্রতিষ্ঠানের সময় (Duration) তারিখ উল্লেখ করবেন ৷ প্রশিক্ষণের তালিকা আপনি Education অংশের নীচে দিতে পারেন ৷ অতিরিক্ত তথ্য / Additional Information যে সকল তথ্য উপরে উল্লেখিত অংশগুলোর মধ্যে পড়ে না কিন্তু চাকরির সাথে সম্পর্কিত তা এ বিভাগে বর্ণনা করুন ৷ * পেশাগত অর্জন / Professional Achievement * পদক/ সম্মাননা/ Award. * ভাষাগত দক্ষতা / Language Literacy * কম্পিউটারে দক্ষতা / Computer Skills. * লাইসেন্স,সরকারি পরিচয়পত্র, প্রকাশিত লেখা ও সত্বাধিকার * স্বেচ্ছাসেবী কর্মকান্ড ইত্যাদি ব্যক্তিগত তথ্য / Personal Information এই অংশে পিতামাতা, বর্তমান/স্থায়ী ঠিকানা, ধর্ম, যে সকল দেশ আপনি ভ্রমণ করেছেন, শখ ইত্যাদি এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ৷ রেফারেন্স (Reference) খেয়াল রাখবেন Reference অংশে আপনি আপনার নিকট আত্মীয়দের নাম উল্লেখ করবেন না ৷ আপনাকে আপনার ছাত্র জীবনে বা কর্মজীবনে কাছ থেকে দেখেছে এমন ব্যক্তিকেই আপনি Reference হিসাবে উল্লেখ করবেন ৷ অবশ্যই যাদেরকে Reference দিবেন তাদের ফোন নাম্বার, ঠিকানা এবং ই-মেইল (যদি থাকে) উল্লেখ করবেন ৷ সাধারণত Reference হিসাবে সর্বোচ্চ ২-৩ জনের নাম উল্লেখ করাই শ্রেয় ৷ তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ব্যাপারের দিকে খেয়াল রাখতে হবে তা হচ্ছে আপনি যাদেরকে Reference হিসাবে উল্লেখ করেছেন সে সকল ব্যাক্তিকে আপনার আগে থেকে জানাতে হবে যে আপনি তাদের Reference হিসাবে আপনার জীবনবৃত্তান্ত (CV)- তে উল্লেখ করেছেন ৷