বিয়ের দিন ওলীমা খাওয়ানোর বিধান ইসলামে আছে।কিন্তু এমন ছেলে যে ওযরবশত একা থাকে এবং আর্থিকভাবে ওলীমা খাওয়ানোর সামর্থ্য নেই,তবে বিয়ের পর স্ত্রীর ভরনপোষনের সামর্থ্য আছে-এমন ছেলের করণীয় কি?বিয়ের পর ওলীমা না খাওয়ালে কি বিয়ে শুদ্ধ হবে?ওলীমা না খাওয়ালে কি সংসারের রহমত বরকতের ঘাটতি হবে?দলিলসহ জানতে চাই।ধন্যবাদ।
2774 views

2 Answers

বিয়ের পর ছেলের পক্ষে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গরিব-মিসকিনদের তৌফিক অনুযায়ী আপ্যায়ন করাকে ‘ওয়ালিমা’ বলে। বাংলায় ওয়ালিমাকে বউভাত বলা হয়ে থাকে। বিয়ের পরদিন বা পরবর্তী সময়ে সুবিধামতো নিকটতম সময়ের মধ্যে ওয়ালিমা করা বিধেয়। তবে তিন দিনের মধ্যে করা উত্তম। যেকোনো প্রকার খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ওয়ালিমা করা যায়৷  ওয়ালিমা করা একটি ইবাদত। এক দিন ওয়ালিমা করা সুন্নত, দুই দিন ওয়ালিমা করা মুস্তাহাব, তিন দিন ওয়ালিমা করা জায়েজ। (মুসলিম: ১৪২৭)।

ওয়ালিমা করা এক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে ওয়ালিমা করেছেন এবং সাহাবিদের করতে বলেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.)-কে বিয়ে করার পরদিন ওয়ালিমা করেছিলেন। (বুখারি, হাদিস নম্বর-৫১৭০)। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছাফিয়াহ (রা.)-কে বিয়ের পর তিন দিন যাবৎ ওয়ালিমা খাইয়েছিলেন। (মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নম্বর-৩৮৩৪)।

হজরত আনাস (রা.) বলেন, নবী (সা.) আবদুর রহমান ইবনে আওফের গায়ে হলুদ রঙের চিহ্ন দেখে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কী? তিনি বললেন, আমি এক খেজুর আঁটির ওজন স্বর্ণ দিয়ে একজন মহিলাকে বিবাহ করেছি। রাসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ তোমার বিবাহে বরকত দান করুক। একটি ছাগল দ্বারা হলেও তুমি ওয়ালিমা করো।’ (বুখারি: ৫১৫৫; মুসলিম ও মিশকাত, হাদিস নম্বর-৩২১০)।

হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) জয়নব (রা.)-কে বিয়ে করার পর যত বড় ওয়ালিমা করেছিলেন, তত বড় ওয়ালিমা তিনি তাঁর অন্য কোনো স্ত্রীর বেলায় করেননি। (বুখারি: ৫১৬৮; মুসলিম: ২৫৬৯; মিশকাত, হাদিস নম্বর-৩২১১)। হজরত আনাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন জয়নব বিনতে জাহাশকে বিবাহ করলেন, তখন ওয়ালিমা করলেন এবং মানুষকে রুটি-গোশত দিয়ে তৃপ্তিসহকারে খাওয়ালেন। (বুখারি: ৪৭৯৪; মিশকাত, খণ্ড: ২, হাদিস নম্বর-৩২১১)।

হজরত আনাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ছাফিয়াহ (রা.)-কে মুক্ত করে বিবাহ করলেন এবং তাঁর মোহর নির্ধারণ করলেন তাঁর মুক্তিপণ। তিনি তাঁর বিবাহের ওয়ালিমা করেছিলেন ‘হায়স’ নামক খাদ্য দিয়ে, যা খেজুর, পনির ও ঘি দ্বারা তৈরি ছিল। (বুখারি: ৫১৬৯; মুসলিম: ২৫৬২; মিশকাত, খণ্ড: ২, হাদিস নম্বর-৩২১৩)।

ওয়ালিমায় অতিরিক্ত ব্যয় করা কিংবা খুব উঁচু মানের খানার ব্যবস্থা করা জরুরি নয়। বরং সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ করাই সুন্নত আদায়ের জন্য যথেষ্ট। যে ওয়ালিমায় শুধু ধনী ও দুনিয়াদার লোকদের দাওয়াত দেওয়া হয়, দ্বীনদার ও গরিব-মিসকিনদের দাওয়াত দেওয়া হয় না, সেই ওয়ালিমাকে হাদিসে নিকৃষ্টতম ওয়ালিমা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। (আবু দাউদ: ৩৭৫৪)।

হজরত আনাস (রা.) বলেন, খায়বার থেকে ফিরে আসার সময় নবী (সা.) খায়বার ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থলে তিন দিন অবস্থান করলেন এবং সেখানে ছাফিয়্যা (রা.)-কে নিয়ে যাওয়া হলো। তিনি ওয়ালিমার ব্যবস্থা করলেন আর আমি মুসলিমদের তাঁর ওয়ালিমার জন্য দাওয়াত করলাম। এই ওয়ালিমায় রুটি বা গোশত কিছুই হলো না। এই ওয়ালিমার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) চামড়ার দস্তরখান বিছানোর আদেশ করলেন। অতঃপর এই দস্তরখানের ওপর খেজুর, পনির ও ঘি ঢেলে দেওয়া হলো। (বুখারি: ৫৩৮৭; মিশকাত, হাদিস নম্বর-৩২১৪)।

ছাফিয়্যা বিনতে শায়বা (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) তাঁর এক স্ত্রীর ওয়ালিমা করেছিলেন মাত্র দুই ‘মুদ’ (বা এক ‘সা’, অর্থাৎ সাড়ে তিন কেজি) যব দ্বারা। (বুখারি: ৫১৭২; মিশকাত, হাদিস নম্বর-৩২১৫)

বিবাহের ক্ষেত্রে ছেলের জন্য ওয়ালিমা করা সুন্নত। 

2774 views

প্রথমে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এরকম খুবই সুন্দর একটি প্রশ্ন করার জন্য।ইসলাম সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো খুবই স্পর্শকাতর।আমার একটি ভুল এ মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।তাই আমি মাদ্রাসার ছাত্র হওয়ার পর ও এই বিষয়টি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি।কিন্তু কিছু প্রশ্ন সামনে আসলে উত্তর না দিয়ে পারি না।তাই এই প্রশ্নটার উত্তর দিলাম।


#মহান আল্লাহ কোরআনে বলেন" তোমরা(স্বামী-স্ত্রী) একে অপরের পোশাকস্বরূপ।"
হাদীসে আছে-"রাসূল সা বলেছেন-"বিবাহ হচ্ছে আমার সুন্নাত" স্বাভাবিক অবস্থায় বিবাহ হচ্ছে সুন্নাত।তবে ক্ষেত্র বিশেষে বিবাহ ফরজ,ওয়াজিব,সুন্নাত,হারাম ইত্যাদি হয়ে থাকে।
শুধু আর্থিক ভরণপোষণের যোগ্যতা হলে হবে না,শারীরিক যোগ্যতাও প্রয়োজন।যেহেতু বিবাহের সাথে শারীরিক সম্পর্কটি অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। স্বল্প পরিসরের জন্য এই যোগ্যতার বিষয়টা লিখা সম্ভব হচ্ছে না।এরকম কোন প্রশ্ন পেলে ইনশাল্লাহ এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করবো।বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্তাবলীগুলো নিচে আলোচনা করলাম।

♦♦বিবাহের শর্ত হ’ল চারটি। (১) পরস্পর বিবাহ বৈধ এমন পাত্র-পাত্রী নির্বাচন (২) উভয়ের সম্মতি (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩১২৬)। (৩) মেয়ের ওলী থাকা (আহমাদ, তিরমিযী; মিশকাত হা/৩১৩০), (৪) দু’জন ন্যায়নিষ্ঠ সাক্ষী থাকা (ত্বাবারাণী, ছহীহুল জামে‘ হা/৭৫৫৮)। বিবাহের দু’টি রুকন হ’ল ঈজাব ও কবুল (নিসা ১৯)। উক্ত শর্তাবলীর কোন একটি পূরণ না হ’লে বিবাহ শুদ্ধ হবে না। উল্লেখ্য যে, যে মেয়ের ওলী নেই, তার ওলী হবেন সরকার (আহমাদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৩১৩১)।তাই এই শর্তাবলী পূরণ হলে এবং ইসলামি নিয়মানুসারে বিবাহ হলে বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যাবে।

♦ ওয়ালিমা হলো রাসূল সা: এর সুন্নাত।বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য ওয়ালীমা কোন শর্ত নয়।যদি আপনার ওয়ালীমা করার সামর্থ্য থাকে তাহলে তা করবেন।যদি না করেন তাহলে কোন সমস্যা নেই।বিবাহ শুদ্ধ হওয়ারর জন্য তাতে কোন সমস্যা হবে না।যদি আদায় করেন তাহলে আপনি রাসূল সা এর সুন্নাত আদায়ের জন্য সাওয়াবের অধিকারী হবেন।যেহেতু আপনি বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার উপরের বর্ণিত শর্তাবলী পূরণ করেছেন এবং ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ করে থাকেন তাহলে আপনি বিবাহের মাধ্যমে অর্জিত পূর্ণ সাওয়াব পাবেন। সুতরাং অনেকের ধারণা ওয়ালিমা না করলে রহমত,বরকত পাবেন না এটা ঠিক নয়।বিবাহের পর আপনার সহধর্মিনীর সাথে আপনি কি রকম ব্যবহার করতেছেন,তার হক আদায় করেছেন কি না,এগুলোর মধ্যে আপনার পরবর্তী জিবনের রহমত বরকত নির্ভর করে।

2774 views

Related Questions