2 Answers
সূযের মতো নক্ষত্রগুলো আসলে একেকটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড, যার মূল উপাদান হাইড্রোজেন। এই হাইড্রোজেন গ্যাস নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ায় হিলিয়ামে রূপান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় যে শক্তি নিগত হয়, সেটাই আমরা নক্ষত্র থেকে নিগত আলো হিসেবে দেখতে পাই। এই প্রবল বহিমুখী শক্তির প্রভাবেই নক্ষত্রের নিজের ভরের জন্য তৈরি হওয়া শক্তিশালী মহাকষের প্রভাব প্রশমিত হয় এবং নক্ষত্র স্থিতিশীল কাঠামো বজায় রাখে। কিন্তু এই হাইড্রোজেনের ভান্ডার যখন ফুরিয়ে আসে তখন মহাকষের প্রভাবে নক্ষত্র সংকুচিত হয়। এই ক্রমাগত সংকোচনের ফলে নক্ষত্র তার জীবনকালের শেষে শ্বেতবামন, নিউট্রন তারকায় রূপান্তরিত হতে পারে। এই তারকাকেই ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর বলা হয়। সাধারণত যেসব নক্ষত্রের ভর সূযের ভরের তিনগুণ বা তার চেয়ে বেশি, সেগুলো ব্ল্যাকহোলে রূপান্তরিত হয়।
ব্ল্যাকহোল কী? মহাবিশ্বের এমন কিছু তারকা বা নক্ষত্র আছে, যারা এমন শক্তিশালী মহাকর্ষ বল তৈরি করে যে এটি তার কাছাকাছি চলে আসা যেকোন বস্তুকে একেবারে টেনে নিয়ে যায়, হোক তা কোন গ্রহ, ধুমকেতু বা স্পেসক্রাফট, তা-ই ব্ল্যাক হোল। পদার্থবিজ্ঞানী জন হুইলার এর নাম দেন ‘ব্ল্যাক হোল’। এই তারকাদের অস্বাভাবিক আকার, ভর ও ঘনত্ব থাকে, আর এর জন্যে এই সব তারকা থেকে নির্গত আলো বাইরে আসতে পারে না। সহজ ভাষায় বলতে গেলে- যখন একটি তারকার জীবনকাল শেষ হয়ে যায়, সেই মুহূর্তে তার অভিকর্ষ শক্তি এতই প্রবল হয় যে আলো ওখান থেকে বের হতে পারে না। আর এই ঘটনা তখনই ঘটে যখন একটি তারকার জীবনকাল অর্থাৎ তার নির্দিষ্ট জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। তারকাটি পরিণত হয় ব্ল্যাকহোলে। এভাবেই একটি ব্ল্যাকহোলের সৃষ্টি হয়। ব্ল্যাকহোল-এর জন্ম কীভাবে? কৃষ্ণগহ্বরের জন্ম ইতিহাস অনেকটা কবিতার মতো। একটি তারার মৃত্যু থেকে জন্ম নেয় একটি কৃষ্ণগহ্বর। বিজ্ঞানীদের মতে- সব চেয়ে ছোট ব্ল্যাকহোলটির জন্ম ঠিক এই মহাবিশ্বের জন্মের সময়। একটি নক্ষত্রের নির্দিষ্ট জ্বালানি নিঃশেষ হয়ে গেলে এর মৃত্যু ঘটে। যতক্ষণ পর্যন্ত এর অভ্যন্তরীণ হাইড্রোজেন গ্যাস অবশিষ্ট থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত এর ভিতরে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া চলতে থাকে। হাইড্রোজেন শেষ হয়ে গেলে এর কেন্দ্রীয় মূলবস্তু সংকুচিত হতে থাকে। এভাবে একটি তারার মৃত্যু হয়। ব্ল্যাকহোলে রয়েছে শক্তিশালী মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র। প্রত্যেক ব্ল্যাকহোলের চারদিকে একটি সীমা আছে যেখানে একবার ঢুকলে আর বের হওয়া যায় না। এইভাবেই মহাকাশের মহাবিস্ময় হয়ে বেঁচে আছে ব্ল্যাকহোল। একে নিয়েই চলছে বিজ্ঞানের নিরন্তর চর্চা। আলোকে গিলে খাওয়া এই মহাকাশীয় দানবকে নিয়ে তাই আজও কৌতূহলের শেষ নেই কতো বড় এই ব্ল্যাকহোল? ব্ল্যাকহোল ছোট হতে পারে আবার বড়ও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে ক্ষুদ্রতম ব্ল্যাকহোল একটি পরমাণুর সমান হতে পারে। এই জাতীয় ব্ল্যাকহোলগুলো অনেক ক্ষুদ্র কিন্তু তাদের এক একটার ভর হতে পারে বিশাল কোন পর্বতের সমান। অন্য এক ধরনের ব্ল্যাকহোলকে বলা হয় “স্টেলার” বা “নাক্ষত্রিক”। এর ভর আমাদের সূর্যের ভর এর চেয়েও ২০ গুণ বেশি হতে পারে। খুব সম্ভবত অনেক অনেক বেশি ভরেরও নক্ষত্র রয়েছে পৃথিবীর ছায়াপথে। আর পৃথিবীর এই ছায়াপথকে বলা হয় “মিল্কিওয়ে”। সবচেয়ে বৃহৎ ব্ল্যাকহোলকে বলা হয় “সুপারমেসিভ”। কৃষ্ণবিবরকে ভাগ করা হয় তার মাঝে থাকা ভর, আধান, কৌণিক ভরবেগের উপর ভিত্তি করে। ভরের উপর ভিত্তি করে কৃষ্ণবিবর চার ধরনের। যেমন- ১. Super Massive Blackhole (সুপার মেসিভ ব্ল্যাকহোল) ২. Intermediate Blackhole (ইন্টারমিডিয়েট ব্ল্যাকহোল) ৩. Micro Blackhole (মাইক্রো ব্ল্যাকহোল) ৪. Steller Blackhole (স্টেলার ব্ল্যাকহোল)