3 Answers

যাকাত বন্টনের খাত ৮টি।যথা: ১.ফকির। ২.মিসকিন। ৩.যাকাতের জন্য নিয়োজিত কর্মচারীবৃন্দ। ৪.মন জয় করার উদ্দেশ্যে। ৫.মুক্তিকামী দাস। ৬.ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি। ৭.ইসলামের খিদমতে নিয়োজিত ব্যক্তি। ৮.মুসাফির। তথ্যসূত্র:সূরা তাওবা,আয়াত ৬০

4405 views

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ সদাক্বাহ হল ফকীর, মিসকীন ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও যাদের মন জয় করা উদ্দেশ্য তাদের জন্য, দাসমুক্তি ও ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে 'ব্যয়ের জন্' আর মুসাফিরের জন্য। এটা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ফরয। আর আল্লাহ হলেন সর্বজ্ঞ, মহাবিজ্ঞানী। (সুরা আত-তাওবাহঃ ৬০) উক্ত আয়াতে সদাক্বাহ তথা যাকাতের সম্পদ ব্যয় করার আটটি খাত উল্লেখ করা হয়েছে। আটটি খাতের সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ ১. ফকীরঃ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, সদাক্বাহ ধনী ও সুস্থ সবল লোকের জন্য হালাল নয়। (আবূ দাঊদ ১৬৩৪) ২. মিসকীনঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, মিসকীন সেই ব্যক্তি নয় যে এক লোকমা বা দুই লোকমা, একটি খেজুর, দুটি খেজুরের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে চেয়ে বেড়ায়। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) তাহলে মিসকীন কে? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ যার কাছে এমন কিছু নেই যার দ্বারা সে অমুখাপেক্ষী হতে পারে, যার এমন অবস্থা প্রকাশ পায় না যা দেখে তাকে সদাক্বাহ দেয়া হবে এবং মানুষের কাছেও চায় না। (সহীহ বুখারীঃ ১৪৭৯) হাদীস দ্বারা বুঝ গেল যারা ফকীর থেকে একটু স্বচ্ছল তারাই মিসকীন। ৩. তহসীলদার বা যাকাত সংগ্রহকারীঃ এ থেকে উদ্দেশ্য সরকারের সে সব কর্মচারী যারা যাকাত ও সদাক্বাহ আদায় ও বণ্টন এবং হিসাব-নিকাশের কাজে নিয়োজিত থাকে। 'পারিশ্রমিক ও বেতন স্বরূপ এদেরকে যাকাতের মাল থেকে দেয়া যাবে'। ৪. যাদের মনকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা আবশ্যকঃ প্রথমতঃ সে কাফির যে ইসলামের প্রতি অনুরাগী হয়। এমন ব্যক্তিকে সাহায্য করলে আশা করা যায় যে, সে ইসলাম কবূল করবে। দ্বিতীয়তঃ সে সকল নওমুসলিম যাকে ইসলামে দৃঢ় থাকার জন্য সাহায্য করা হয়। তৃতীয়তঃ সে লোকও এতে শামিল যাকে সাহায্য করলে আশা করা যায় যে, সে নিজের এলাকার লোকেদেরকে মুসলিমদের ওপর হামলা করা থেকে বিরত রাখবে এবং অনুরূপভাবে সে নিজের নিকটতম মুসলিমদেরকে রক্ষা করবে। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নাবী (সাঃ)-এর কাছে কিছু জিনিস প্রেরণ করা হল। এরপর তিনি সেগুলো চারজনের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। আর বললেন, তাদেরকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করছি। (সহীহ বুখারীঃ ৪৬৬৭ সংক্ষিপ্ত) ৫. দাসমুক্তিঃ নাবী (সাঃ) বলেন, তিন প্রকার লোকেদের সাহায্য করা আল্লাহ তাআলার ওপর আবশ্যক। ঐ যোদ্ধা যে আল্লাহ তাআলার পথে জিহাদ করে। ঐ চুক্তিবদ্ধ দাস, যে তার চুক্তির টাকা আদায়ের ইচ্ছা করে। এরূপ চুক্তিবদ্ধ দাস যাকাতের সম্পদের হকদার। ঐ ব্যক্তি যে বিবাহ করতে চায় পবিত্র থাকার জন্য। (তিরমিযীঃ ১৬৫৫) ৬. ঋণগ্রস্ত লোকঃ প্রথমতঃ ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি দ্বারা উদ্দেশ্য যে ব্যক্তি নিজ পরিবারের খরচাদি এবং জীবনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতে লোকেদের কাছে ঋণ গ্রহণ করেছে। আর তার কাছে এমন কোন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নেই যা বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে পারে। দ্বিতীয়তঃ এমন যামিনদার ব্যক্তি যে কারো যামিন হয়েছে, অতঃপর যামানতের টাকা তার আসল যিম্মাদার আদায় করতে না পারায় তার ঘাড়ে এসে পড়েছে। তৃতীয়তঃ যার ফসলাদি দুর্যোগ এসে ধ্বংস করে দিয়েছে বা বাণিজ্য ও শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত এবং নিঃস্ব হয়েছে ফলে সে ঋণগ্রস্ত হয়ে গেছে। ৭. আল্লাহর পথঃ অর্থাৎ যারা আল্লাহ তাআলার রাস্তায় জিহাদ করে তাদের সরঞ্জাম, অস্ত্রশস্ত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় বাবদ এবং মুজাহিদদের ব্যয় বাবদ। অন্য একটি হাদীসে হাজ্জ ও উমরাকে ফী সাবীলিল্লাহ’র অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে। কতেক আলিম বলেন, ইসলামী দাওয়াত ও তাবলীগের কাজও ফী সাবিলিল্লাহর অন্তর্ভুক্ত। কারণ এতেও জিহাদের মতই আল্লাহ তাআলার কালেমাকে উঁচু করা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। ৮. মুসাফিরঃ যদি কোন মুসাফির বৈধ সফরে সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে- অথচ সে তার এলাকায় প্রচুর সম্পদের অধিকারী সে ব্যক্তি প্রয়োজন মিটানোর জন্য যাকাতের হকদার।

4405 views

পবিত্র কুরআনের আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, যাকাতের খাত মোট ৮টি। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন, "নিশ্চয় সদাকা হচ্ছে ফকীর ও মিসকীনদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য (তা বণ্টন করা যায়) দাস আযাদ করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের মধ্যে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, আর আল্লাহ  মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।" (সুরা আত-তাওবাহ, আয়াত নং ৬০)।  



একঃ ফকীর তথা দরিদ্রগণ। অর্থাৎ, যার সামান্য পরিমান সম্পদ আছে, তাকেই فقير বা দরিদ্র বলা হয়। 


দুইঃ المسكين তথা, নিঃস্ব ও সর্বহারা। من ليس له شی অর্থাৎ, যার কিছুই নেই, তাকে মিসকিন বলা হয়। 


তিনঃ যাকাত বিভাগের কর্মচারীকে বেতন ও ভাতা বাবদ যাকাতের অর্থ প্রদান করা যাবে। 


চারঃ মন রক্ষার জন্য অমুসলিমকেও দেয়া যাবে। 


পাঁচঃ গোলাম আযাদের জন্য যাকাতের মাল ব্যয় করা যাবে৷ 


ছয়ঃ ঋণ পরিশোধের জন্য ঋনগ্রস্তকে দেয়া যাবে। 


সাতঃ في سبيل الله তথা মুজাহিদ ও طالب العلم -কে দেয়া যাবে৷ কেননা, রাসূল (সঃ) বলেছেন — من خرج في طلب العلم فهو في سبيل الله حتی لم يرجع


আটঃ এমন মুসাফির, যার বাড়িতে পৌঁছানোর মত কোনো অর্থ-করি নেই, তাকে যাকাত দেয়া যাবে।   

4405 views

Related Questions