মাসিক আসার কিছুদিন আগে থেকে প্রচুর পরিমানে যোনি চুলাকায় এবং যারয়ার করও হয় এমন অনেক বার! এত থেকে সুরক্ষাপাওয়ার জন্যকরনীয় কি?     
2963 views

2 Answers

এটি যৌনাঙ্গের চুলকানি বা   হওয়ার অন্যতম কারণ। সাধারণত Candida Albicans, এই ছত্রাকের কারণে যোনিতে চুলকানি হয়। এই ছত্রাক নরমালি মেয়েদের যৌনাঙ্গে পরজীবী হিসেবে থাকে। কিছু ল্যাকলোব্যাসিলাস নামে উপকারী ব্যাকটেরিয়া এই ছত্রাকের বংশবিস্তারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। কিন্তু এন্টিবায়োটিক খেলে, গর্ভাবস্থায়, দুশ্চিন্তাগ্রস্থ থাকলে, হরমোনাল ইমব্যালেন্স থাকলে ও খাদ্যাভাসের কারণে এই উপকারী ব্যাকটেরিয়া মরে যায়, ফলে ঈস্টগুলো তাদের জন্মের জন্য অনুকূল পরিবেশ পায়। এর কারণে যোনিতে ইনফেকশন হয়।

এর জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলবেন যেমন :-পরিষ্কার জলে ২-তিনটি নিমপাতা ফেলে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিন। পাতাগুলি তুলে নিয়ে ওই নিমের জল দিয়ে যোনি, ভালভা ভাল করে ধুয়ে নিন। দিনে একবার করলেই যথেষ্ট কিন্তু টানা বেশ কয়েকদিন করবেন। নিমপাতা না পেলে পরিষ্কার জলে কয়েক ফোঁটা নিম অয়েল ফেলে সেই দিয়ে যোনি ধুয়ে নিন।

যোনিতে জ্বলুনির মূল কারণ মূত্রনালীতে ইনফেকশন। এর জন্য ওষুধ তো খেতেই হবে, পাশাপাশি কিছু খাবার রয়েছে যা ইনফেকশন তাড়াতে সাহায্য করবে। যেমন ক্র্যানবেরি জুস। প্রতিদিন ২ গ্লাস করে এই জুস খান এবং ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল খান বেশি করে। যতদিন না চুলকানি সারছে ততদিন চিনি খাওয়া কমিয়ে দিন।

 যে কোনও ব্যাকটেরিয়া বা ফাংগাল ইনফেকশনের শত্রু হল নুন। বাড়িতে বাথটাব থাকলে তাতে ইষদুষ্ণ জল ভরে আধ কাপ নুন ফেলে দিন। এই নুন-জলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বসে থাকুন। দিনে দু’তিনবার করলে অনেকটা কমে যাবে চুলকানি। কিন্তু যোনির আশপাশে বা নিম্নাঙ্গের কোথাও কোনও ক্ষত থাকে তবে এই টোটকা একেবারেই চলবে না। যাঁদের বাথটাব নেই তাঁরা বালতির জলে নুন দিয়ে আস্তে আস্তে ওয়াশ করবেন।

যেগুলো কাজ অবশ্যই করবেন না তা হলো:-

  • ১. রঙীন ও বেশি সুগন্ধিযুক্ত টয়লেট টিস্যু ও সাবান যৌনাঙ্গে ব্যবহার করবেন না।
  • ২. ফেমিনিন হাইজিন স্প্রে ও ডুশ ব্যবহার করবেন না।
  • ৩. ভেজা কাপড় পরে বেশিক্ষণ থাকবেন না। গোসল বা ব্যায়ামের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভেজা কাপড়টি পাল্টে নিবেন। যারা সুইমিং পুলে সাঁতার কাটেন তাদের ক্লোরিনের কারণেও ইচিং হতে পারে , তাই সাবধান হন।
  • ৪. আপনার যৌনাঙ্গ পরিষ্কার রাখুন সবসময়। আর প্রসাব বা পায়খানা করার সময় হাত দিয়ে সামনে থেকে পেছনে এই নিয়মে পরিষ্কার করতে হবে। খেয়াল রাখবেন পায়খানার রাস্তার জীবাণু যেন যোনিতে না লাগে।
  • ৫. দই খান, এতে ল্যাকটোব্যাসিলাস নামক উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে।
  • ৬. সুতির কাপড় দিয়ে তৈরি অন্তর্বাস বা পেন্টি পরুন। সিনথেটিক পেন্টি পরবেন না।
  • ৭. ওজন কমান।
  • ৮.সহবাসের সময় কনডম ব্যবহার করুন।
  •  ৯. যোনি আর্দ্র ও ভেজা রাখবেন না।
  • ১০ মাসিকের সময় নোংরা কাপড় ব্যবহার করবেন না। পরিষ্কার প্যাড ব্যবহার করুন।
  • ১১ সহবাসের পর যৌনাঙ্গ ভাল ভাবে পরিষ্কার করুন। ধুয়ে ফেলুন।
  • ১২. সহবাসের পর প্রসাব করুন।
  • ১৩ একাধিক ব্যক্তির সাথে যৌন সহবাস পরিত্যাগ করুন।
  • ১৪ নিয়মিত গোসল করুন।
এই   সমস্যার জন্য অবশ্যই  একজন   চর্ম ও  যৌন রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান। অবহেলা করবেন না বা লজ্জা পাবেন না। কারণ এর ফলে পরবর্তীতে আরও খারাপ কিছু হতে পারে।


  • আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি।
2963 views

আপনি যৌন চুলকানি থেকে বাঁচতে হলে  হাত দিয়ে চুলকানি করবেন না আপনি ডাক্তারে দোগান থেকে কিছু চুলকানির মলম কিনুন  

2963 views

Related Questions