3 Answers
না, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যিনা হয় নি, বরং তা কবিরা গুনাহ হয়েছে৷ আল্লাহ তায়ালার কাছে এ গুনাহের কারণে বেশী বেশী তওবা-ইসতেগফার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ যেন না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে৷আল্লাহ আপনাকে এহেন কর্ম থেকে খালিস দিলে তওবা করার তৌফিক দান করুন। إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِنْ قَرِيبٍ فَأُولَٰئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا [٤:١٧] وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّىٰ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ ۚ أُولَٰئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا [٤:١٨ অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন,যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে,অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী,রহস্যবিদ। আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে,এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়,তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। {সূরা নিসা-১৭-১৮} قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ (30) وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ الخ কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে-“মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের চক্ষুকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। এটাই তাদের জন্য পবিত্রতম পন্থা। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত। আর মুমিন নারীদের বলুন তারা যেন তাদের চক্ষুকে অবনত রাখে ও তাদের লজ্জাস্থানকে হিফাযত করে। {সূরা নূর-৩০,৩১} عن ابن عمر قال : خطبنا عمر بالجابية الخ ألا لا يخلون رجل بامرأة إلا كان ثالثهما الشيطان হযরত ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-যখনই কোন পুরুষ পর নারীর সাথে নির্জনে দেখা করে তখনই শয়তান সেখানে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত হয়। {সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং-২১৬৫, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং-৫৫৮৬} فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ، وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, চোখের জিনা হল [হারাম] দৃষ্টিপাত। কর্ণদ্বয়ের জিনা হল, [গায়রে মাহরামের যৌন উদ্দীপক] কথাবার্তা মনযোগ দিয়ে শোনা। জিহবার জিনা হল, [গায়রে মাহরামের সাথে সুড়সুড়িমূলক] কথোপকথন। হাতের জিনা হল, [গায়রে মাহরামকে] ধরা বা স্পর্শকরণ। পায়ের জিনা হল, [খারাপ উদ্দেশ্যে] চলা। অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় [যদি জিনা করে] এবং মিথ্যা পরিণত করে [যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে]। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৯৩২}
যিনা ব্যপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন: চোখের যিনা কোন পরনারীর দিকে দেখা; হাতের যিনা কোনো পরনারীকে ধরা, মুখের যিনা তার সাথে কথা বলা ইত্যাদি। তাই চরম পর্যায়ের যিনা না হলেও তার সাথে মিলনে জড়িত না হওয়া ছাড়া যা যা করেছেন তা ঐসকল অঙ্গের যিনা এবং কবীরা গুনাহ হিসেবে গণ্য হবে। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এসকল গর্হিত কাজ থেকে হিফাজত করুন। আমীন।
যৌন সংগম আর যেনা অত্যন্ত ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত। যৌনাঙ্গ প্রবেশ করাই কিন্তু শুধু যেনা নয়। চোখ যখন দেখে তা চোখের যেনা, কান যখন শুনে তা কানের যেনা, পা যখন এগিয়ে যায় তা পায়ের যেনা, হাত যখনি স্পর্শকরে তা হাতের যেনা,সবশেষে যখন যৌন সংগম হয় তখন তা শুধু পরিপূর্ণতা লাভ করে। তবে আপনি নিজেকে পরিপূর্ণ যেনা থেকে হেফাজত করতে পেরেছেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিন, তিনি চাইলে আপনি ক্ষমা পাবেন। বিয়ে করে এই কাজটাই কিন্তু আপনার সওয়াবের হবে। সম্ভব হলে বিয়ে করে নিন। আল্লাহ আপনাকে হেফাজত করুন এই কামনা করছি।