2 Answers

মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছে কোনো রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত রাজ্যের সরকার প্রধান। আর প্রধান মন্ত্রী হচ্ছে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার প্রধান।

3794 views

মূখ্যমন্ত্রী হল কোনো দেশের রাজ্যের প্রধান।তার দায়িত্ব রাজ্যকে সঠিকভাবে পরিচালনা/দেখাশোনা করা করা । 


আর প্রধানমন্ত্রী পুরো দেশকে পিরচালনা করবে।


* ‍‍‌*বিস্তারিত**


ভারতের শাসনব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রীয়। কেন্দ্রে এবং রাজ্যগুলিতে আলাদা আলাদা আইনসভা রয়েছে। কেন্দ্রের আইনসভার নাম সংসদ। ভারতীয় সংসদ দুই কক্ষবিশিষ্ট --- লোকসভা ও রাজ্যসভা। লোকসভায় রয়েছে ৫৪৩টি আসন। সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে দেশের জনগণ এই ৫৪৩টি আসনের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নির্বাচন হয়। রাজ্যসভার সদস্যসংখ্যা ২৪৫। এঁদের মধ্যে ২৩৩ জনকে নির্বাচিত করেন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আইনসভার সদস্যরা। রাজ্যসভার সদস্যদের মেয়াদ ছ’ বছর। প্রতি দু’ বছর অন্তর এক-তৃতীয়াংশ সদস্য অবসর নেন। রাজ্যসভার বাকি ১২ জন সদস্যকে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে মনোনয়ন করা হয়।

কোনও কোনও রাজ্যের আইনসভা এক কক্ষবিশিষ্ট, নাম বিধানসভা। কোনও কোনও রাজ্যের আইনসভায় দু’টি কক্ষ রয়েছে --- বিধানসভা ও বিধান পরিষদ। রাজধানী দিল্লিতে ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে বিধানসভা রয়েছে। বিধানসভার সদস্যরা সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন। এবং বিধান পরিষদের সদস্যরা রাজ্যসভার সদস্যদের মতো পরোক্ষ ভাবে নির্বাচিত হন।

এ ছাড়াও রাজ্যগুলিতে স্থানীয় প্রশাসন তথা পুরসভা ও পঞ্চায়তের প্রতিনিধিরাও জনসাধারণের ভোটে নির্বাচিত হন।

ভারতে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভাগুলির নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য নির্বাচন কমিশন রয়েছে। এই কমিশন গঠিত হয়েছে ভারতীয় সংবিধান বলে। এটি স্বশাসিত সংস্থা। এরা দেশের রাষ্ট্রপতি এবং উপ-রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন পরিচালনা করে থাকে। নির্বাচন কমিশনের মাথায় রয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং তাঁর সহযোগী দু’ জন অতিরিক্ত নির্বাচন কমিশনার। ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুসারে ভারতে নির্বাচন পরিচালিত হয়। রাজ্যগুলির পুরসভা ও পঞ্চায়েতের ভোট পরিচালনা করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। যে কোনও ভারতীয় নাগরিক, যাঁর বয়স অন্তত ১৮ বছর, ভোটদানের অধিকারী। নির্বাচন কমিশন ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। আর সে দিন থেকে চালু হয়ে যায় নির্বাচনী আচরণবিধি। লোকসভা ও বিধানসভার ক্ষেত্রে যে কোনও ভারতীয় নাগরিক, যাঁর বয়স অন্তত ২৫ বছর, নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। রাজ্যসভার ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা ৩০ বছর। ভারতে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু। নির্বাচন কমিশন স্বীকৃত যে কোনও রাজনৈতিক দল দেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে।




ভারতীয় প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক প্রধান হলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বময় কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতেই ন্যস্ত থাকে। লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা গোষ্ঠীর নেতাকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। সাধারণত পার্লামেন্টের যেকোনো কক্ষের সদস্য না হলে প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায় না। পার্লামেন্টের সদস্য না হয়েও কোনো ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, সেক্ষেত্রে ছ-মাসের মধ্যেই তাঁকে পার্লামেন্টের সদস্য হতেই হবে। অন্যথায় তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অবিলম্বে অপসারিত করার নিয়ম রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যকালের মেয়াদ পাঁচ বছর ওই সময় তিনি লোকসভার নেতা বা নেতৃরূপে কাজ করে থাকেন।

প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর যোগ্যতাবলী

(ক) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে।

(খ) প্রধানমন্ত্রীকে সংসদের রাজ্যসভা অথবা লোকসভা যেকোনো একটি কক্ষের সদস্য হতে হবে। সংসদের সদস্য না হয়েও কোনো ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, সেক্ষেত্রে ছ-মাসের মধ্যেই তাঁকে সংসদের যেকোনো কক্ষের সদস্য হয়ে আসতে হবে।

খ) লোকসভার সদস্য হলে প্রধানমন্ত্রীর বয়স অন্তত ২৫ বছর বা তার বেশি হতে হবে এবং রাজ্যসভার সদস্য হলে তাঁর বয়স ৩০ বছর বা তার বেশি হতে হবে।

গ) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়ার সময় অর্থ প্রাপ্তি হয় এমন কোনও সরকারি বা বেসরকারি অথবা সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন কোনও সংস্থায় তিনি কোনও পদে নিযুক্ত থাকতে পারবেন না।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ও ক্ষমতা

(১) ভারতের প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী হলেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীপরিষদ যদিও ভারত সরকারের সব ক্ষমতাই রাষ্ট্রপতির নামে পরিচালিত হয় । মন্ত্রিসভা গঠন, ক্যাবিনেটের নেতৃত্বদান, রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শদান, মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বন্টন, মন্ত্রীপরিষদের কর্মসূচি প্রণয়ন এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করা প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। কোন মন্ত্রী কোন দপ্তর পরিচালনা করবেন তা প্রধানমন্ত্রীই স্থির করেন।

(২) প্রধানমন্ত্রী তাঁর ইচ্ছা অনুসারে যে-কোনো মন্ত্রীকে তাঁর মন্ত্রীসভা থেকে বাদ দিতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো মন্ত্রীর মতের মিল না হলে সেই মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। যদি তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন, সেই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং পদত্যাগ করে বর্তমান মন্ত্রীসভা ভেঙে দিয়ে নতুন মন্ত্রীসভা গঠন করতে পারেন এবং নতুন মন্ত্রীসভা থেকে এই মন্ত্রীকে সহজেই বাদ দিতে পারেন। অবশ্য কোনো জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে রাজনৈতিক দিক থেকে অনেক ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তবে এই ঘটনা সাধারণত ঘটে না।

(৩) প্রধানমন্ত্রী হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা এবং রাষ্ট্রপতির মধ্যে যোগসূত্র। ভারতীয় সংবিধান অনুসারে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে জানান এবং রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে জানাতে বাধ্য থাকেন।

3794 views

Related Questions