1 Answers
শায়খ আব্দুল আজীজ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ। অনুবাদ : মোহাম্মদ রকীবুদ্দীন আহমদ হুসাইন। ভাগ্যের প্রতি ঈমান বলতে নিম্নোক্ত চারটি বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপনকে বুঝায়: প্রথমত: এই বিশ্বাস স্থাপন করা যে, অতীতে যা কিছু ছিল এবং বর্তমান বা ভবিষ্যতে যা কিছু হবে তার সবকিছুই আল্লাহ পাকের জানা আছে। তিনি আপন বান্দাদের যাবতীয় অবস্থা সম্পর্কে অবহিত। তাদের রিজিক, তাদের মৃত্যুক্ষণ, তাদের দৈনন্দিন কার্যাবলীসহ অন্যান্য সব বিষয়াদি সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত, কোন কিছুই তাঁর অগোচরে নেই। তিনি পুত-পবিত্র মহান। এ সম্পর্কে আল্লাহপাক বলেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেকটি বস্তু সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত”। (সূরা আল আনকাবুত: ৬২) মহামহিম আল্লাহ আরো বলেন: “যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান এবং একথাও জানতে পার যে, আল্লাহর জ্ঞান সব কিছুতেই পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে”।(সূরা তালাক-১২) দ্বিতীয়ত: এই বিশ্বাস স্থাপন করা যে, আল্লাহ পাক যা কিছু নির্দ্ধারণ ও সম্পাদন করেছেন সব কিছুই তাঁর লিখা রয়েছে। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: “পৃথিবী তাদের দেহ থেকে যা কিছু ক্ষয় করে তা আমার জানা আছে এবং আমার নিকট একটি সংরক্ষক কিতাব রয়েছে”। (সূরা ক্বাফ:৪) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন: “এবং আমি প্রতিটি বস্তু একটি স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি”। (সূরা ইয়াসিন-১২) আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন: “তোমার কি জানা নেই, আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে আল্লাহ তা অবগত আছেন? নিশ্চয়ই ইহা একটি কিতাবে সংরক্ষিত আছে। ইহা আল্লাহর নিকট অতি সহজ”। (সূরা হজ্জ-৭০) তৃতীয়ত: আল্লাহ তা‘আলার কার্যকরী ইচ্ছার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই হয় এবং যা ইচ্ছা করেন না তা হয় না। এ সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেন: “আল্লাহ যা ইচ্ছা তা করেন” (সূরা হজ্জ-১৮) মহামহীম আল্লাহ আরো বলেন: “বস্তুত: তিনি যখন কোন কিছুর ইচ্ছা করেন তখন তার কাজ শুধু এই হয় যে, তিনি তাকে বলেন ‘হও’ ফলে তা হয়ে যায়” । (সূরা ইয়াসিন-৮২) আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন: “আর, আসলে তোমদের চাওয়ায় কিছু হয় না, যতক্ষণ না আল্লাহ রাব্বুল আলামীন চাহেন”। (সূরা তাকভীর: ২৯) চতুর্থত: এই বিশ্বাস রাখা যে, সমগ্র বস্তুজগত আল্লাহ পাকের সৃষ্টি। তিনি ব্যতীত না আেকান স্রষ্টা, না আছে কোন প্রভু-প্রতিপালক। মহান আল্লাহ বলেন: “আল্লাহ প্রতিটি বস্তুর সৃষ্টিকর্তা এবং তিনিই সবকিছুর কর্মবিধায়ক”। (যুমার: ৬২) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন: “হে মানব মন্ডলী, তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্বরূপ কর। আল্লাহ ব্যতীত কি তোমাদের কোন স্রষ্টা আছে ! যে তোমাদিগকে আকাশ ও পৃথিবী হতে রিজিক দান করে? তিনি ব্যতীত অন্য কোন মা‘বুদ নেই। সুতরাং তোমরা কোন পথে পরিচালিত হচ্ছো”? (সূরা ফাতির: ৩) অতএব, ভাগ্যের উপর ঈমান বলতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মতে উপরোক্ত চারটি বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকেই বুঝায়। পক্ষান্তরে, বিদ্আ‘ত পন্থীরা ইহার কোন কোনটি অস্বীকার করে থাকে। উল্লেখযোগ্য যে, আল্লাহর উপর ঈমানের মধ্যে এ বিশ্বাসও অর্ন্তভুক্ত রয়েছে যে, ঈমান মানে কথা ও কাজ যা পূণ্যে বৃদ্ধি এবং পাপে হ্রাস পায়। একথাও ইমানের অন্তর্ভুক্ত যে, কুফরী ও শিরক ব্যতীত কোন কবীরা গুনাহ-যেমন, ব্যভিচার, চুরি, সুদ গ্রহণ, মদ্যপান, পিতামাতার অবাধ্যতা ইত্যাদির জন্য কোন মুসলিমকে কাফের বলা যাবেনা, যতক্ষণ না সে তা হালাল বলে গণ্য করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এতদ্ব্যতীত সবকিছু যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করেন”। (সূরা নিসা-১১৬) দ্বিতীয় প্রমাণ হলো: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একাধিক মুতাওয়াতির হাদীসে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তা‘আলা পরকালে এমন লোককেও মুক্ত করবেন যার অন্তরে (এ জগতে) শষ্যদানা পরিমাণ ঈমান বিদ্যমান ছিল।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy