1 Answers

হৃৎপিণ্ড আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এই হৃৎপিণ্ডর কার্যক্রমের জন্যই আমরা বেঁচে আছি। কিন্তু দিন দিন হৃৎপিণ্ডের নানা অসুখ ও হার্ট অ্যাটাকের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

হৃদযন্ত্রের পেশিতে যেসব ধমনি রক্ত সরবরাহ করে তাদের বলে করোনারি আর্টারি। এই করোনারি আর্টারি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে হৃদযন্ত্রের পেশির যে অংশটিতে রক্ত সরবরাহ হচ্ছে সেই পেশিটি নষ্ট হয়ে যায়। আর্টারি বন্ধ হওয়ার জন্য হৃদযন্ত্রের পেশির কিছু অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়াকেই হার্ট অ্যাটাক বলা হয়। নানা কারণে হৃদযন্ত্রের করোনারি আর্টারিতে চর্বি জমা হয়ে আর্টারিতে আংশিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তার সঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধলে কিংবা স্প্যাজম হলে আর্টারি ব্লক সম্পূর্ণ হয়ে যায়। এই ব্লকের সময়সীমা যদি ২০ থেকে ৩০ মিনিটের বেশি থাকে তাহলেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায় এবং রোগী মারা যান। কিন্তু যদি ওই সময়ের মধ্যে ব্লক খুলে যায় তাহলে রোগী তখনকার মতো বেঁচে যান।

হৃৎপিণ্ডের নানা রোগের কারণ হলো উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, রোগের বংশগত ধারা, বয়স এবং ধূমপান। স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করলে হার্টের সমস্যা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। সঠিক খাওয়াদাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোত যাওয়া - এমন কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললেই হৃৎপিণ্ড থাকবে রোগের আওতার বাইরে।

হার্টের অসুখ প্রতিরোধে মেনে চলুন কিছু নিয়ম -

  • ধূমপান হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ। প্রত্যক্ষ ধূমপায়ীরা তো বটেই পরোক্ষ ধূমপায়ীদেরও হৃৎপিণ্ড এবং ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আপনি যদি ধূমপান ত্যাগ করেন তাহলে ২ বছরের মধ্যেই আপনার হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমে যাবে এক-তৃতীয়াংশ।
  • উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করুন। কারণ তা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোদ করে। ওজন কমান, প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং সুষম খাবার খান। এসবে উচ্চ রক্তচাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
  • অতিরিক্ত ওজন হার্ট এবং ধমনীর ওপর চাপ ফেলে। ব্যায়াম এবং পরিমিত খাবার ওজন কমাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ওজনের ফলে নানা রকমের অসুখ শরীরে বাসা বাঁধে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হার্টের অসুখ। আপনার ওজন যদি অতিরিক্ত বেশি হয় তাহলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। তিনিই আপনাকে বলে দেবেন ওজন কমানোর পদ্ধতি।
  • হৃৎপিণ্ড আসলে একটি পেশিবহুল পাম্প। এটি ঠিকঠাক রাখার জন্য প্রয়োজন ব্যায়াম। নিয়মিত ব্যায়াম করুন। দ্রুত হাঁটা, সাঁতার, জগিং ইত্যাদি ব্যায়াম হার্টকে সক্রিয় রাখে।
  • বুক, ঘাড়, চোয়াল বা কাঁধে ব্যথা হলে হেলাফেলা না করে দ্রুত ডাক্তার দেখান। শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট সাথে বমি বমি ভাব হলেও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
  • ডায়াবেটিসের রোগীদের হার্টের রোগের সম্ভাবনা বেশি থাকে। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি থাকে। রক্তে গ্লুকোজ ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • নিয়মিত কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড লেভেল পরীক্ষা করান। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে তা আর্টারিকে ব্লক করে দেয়। ফলে হৃত্‍পিণ্ডে ঠিকমতো রক্ত চলাচল করতে পারে না। এতে হার্ট অ্যাটাক হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • ট্রাইগ্লিসারাইড হলো এক ধরনের চর্বি যা রক্তস্রোতে মিশে যায়। অনেক মানুষের ক্ষেত্রে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বেশি থাকাই হৃৎপিণ্ডের অসুখের কারণ।
  • মদ্যপান করার অভ্যাস থাকলে তা ছেড়ে দিন। নিতান্তই না পারলে তা পরিমাণে কমিয়ে আনুন।
  • আধুনিক জীবনের দ্রুত গতির সাথে তাল মেলাতে গিয়ে অনেকেই প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক চাপে ভোগেন। এ ধরনের লোকজনেরর মধ্যেই হৃদরোগের প্রবণতা বেশি। মানসিক চাপের ফলে হৃত্‍স্পন্দন বেড়ে যায় ফলে রক্তচাপও বাড়তে থাকে। এ রকম নিয়মিত চলতে থাকলে হৃৎপিণ্ডের রক্ত চলাচলে বাধা পায়। ফলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে যায়। হৃদরোগ এড়াতে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকাটা জরুরি। মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান করুন, যোগব্যায়াম করুন, বন্ধুবান্ধবের সাথে কথা বলুন, সৃজনশীল কাজের সাথে যুক্ত থাকুন।
  • রান্নার তেল হিসেবে পলিআনস্যাচিউরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড অর্থাত্‍ সয়াবিনের তেল, সূর্যমুখীর তেল ইত্যাদি ব্যবহার করুন। অনেকের ধারণা সরিষার তেল খেলে হৃদরোগ হয়, এ কথাটি সত্য নয়। খাবারের তালিকায় সামুদ্রিক মাছ রাখতে পারেন। সামুদ্রিক মাছের তেলে আছে ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড যা হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • খাবারের ব্যাপারে সতর্ক হোন। মাখন ও চর্বিজাতীয় খাবার, ফাস্ট ফুড এবং জাঙ্ক ফুড একেবারেই খাবেন না। প্রচুর ফল এবং টাটকা সবজি খান। খাবারের তালিকায় আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ বেশি রাখুন।
3885 views

Related Questions