1 Answers
সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (Integrated Pest Management - IPM) হলো এক ধরনের পরিবেশ-বান্ধব পদ্ধতি, যার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কৌশল ও পদ্ধতির সমন্বয় করে ফসলের ক্ষতিকারক পোকা-মাকড়, রোগজীবাণু, আগাছা ও অন্যান্য বালাই নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
আলু চাষে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি:
জাত নির্বাচন:
- রোগ প্রতিরোধী বা পোকামাকড় প্রতিরোধী উচ্চ ফলনশীল জাতের আলু বাছাই করা সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে রোগের আক্রমণ কম হয় এবং রাসায়নিক ব্যবহারও কমানো যায়।
ফসল পর্যায় পদ্ধতি (Crop rotation):
- আলু একটানা একই জমিতে চাষ করলে বিভিন্ন ধরনের মাটি-জনিত রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়তে পারে। তাই ফসল পর্যায় পদ্ধতির মাধ্যমে জমিতে ভিন্ন ধরনের ফসল যেমন ধান, গম ইত্যাদি চাষ করা হলে মাটির উর্বরতা বজায় থাকে এবং রোগ-বালাই কমে।
জৈবিক নিয়ন্ত্রণ:
- আলুর ক্ষেত্রে জৈবিক পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক শত্রু যেমন পরজীবী পোকা, রোগজীবাণু নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক ব্যবহার করে ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমন করা হয়।
- Trichogramma নামক পরজীবী কীট বিভিন্ন আলুর ক্ষতিকারক পোকা দমন করতে সহায়তা করে।
যান্ত্রিক ও শারীরিক নিয়ন্ত্রণ:
- আলুর ক্ষেতে ক্ষতিকারক পোকা যেমন আলুর পোকা, বিটল ইত্যাদি দেখা দিলে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হাত দিয়ে পোকা ধরে ধ্বংস করা যেতে পারে।
- ক্ষেতের আশেপাশে ফাঁদ (trap crops) বা আলোর ফাঁদ স্থাপন করে ক্ষতিকারক পোকা ধরার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
সাংস্কৃতিক পদ্ধতি:
- বালাই নিয়ন্ত্রণে আলুর ক্ষেতের পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, সঠিক সময়ের মধ্যে চাষাবাদ, সার প্রয়োগ এবং পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বালাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
- জমিতে আগাছা কমিয়ে রাখলে অনেক পোকামাকড় ও রোগজীবাণু বংশবিস্তার করতে পারে না।
- ক্ষেতে সঠিক দূরত্ব বজায় রেখে আলু রোপণ করলে পোকামাকড় ও রোগের প্রকোপ কমে।
রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ (যদি প্রয়োজন হয়):
- রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার একেবারে শেষ বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত এবং তা করতে হবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী।
- সুনির্দিষ্ট মাত্রায় ও সময় অনুযায়ী কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা উচিত, যাতে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ক্ষতি কম হয়।
4 views
Answered