1 Answers

ধানের ব্লাস্ট রোগ (Rice Blast) ধানের একটি মারাত্মক রোগ যা গ্লেইভিডিয়াম আয়াবানামের (Magnaporthe oryzae) দ্বারা সৃষ্ট। এটি ধান ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে এবং ধানের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে।

ব্লাস্ট রোগের কারণ:

  • প্যাথোজেন: ব্লাস্ট রোগের মূল কারণ হলো Magnaporthe oryzae নামক ফাঙ্গাস। এটি সাধারণত আর্দ্র ও গরম আবহাওয়ায় দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
  • আবহাওয়া: উচ্চ আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত এবং গরম আবহাওয়া ব্লাস্ট রোগের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
  • বীজ ও মাটি: রোগপ্রবণ বীজ এবং সংক্রামিত মাটিতে ব্লাস্ট রোগের বিস্তার ঘটে।

ব্লাস্ট রোগের লক্ষণ:

পাতা ও কান্ডের ক্ষতি:

  • পাতার কান্ডে গোলাকার দাগ দেখা যায়। পাতার ক্ষতির কারণে গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা শুকিয়ে যায়।

ধানের ফলন ক্ষতি:

  • রোগ সংক্রমিত ধানের কান্ডে বা কাচার ফসলে সাদা বা ধূসর দাগ দেখা যায়। ফসলের গুণমান কমে যায় এবং ফলন হ্রাস পায়।

দমন ব্যবস্থাপনা:

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:

  • বীজ পরিদর্শন: রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করুন। চাষের আগে বীজগুলি বীজ প্যাথোজেন মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করুন।
  • মাটি ব্যবস্থাপনা: মাটির স্বাস্থ্য বজায় রাখুন এবং সঠিক সেচ ব্যবস্থা বজায় রাখুন। মাটি ও জমির সঠিক ড্রেনেজ নিশ্চিত করুন।

বৃক্ষবিজ্ঞানী কৌশল:

  • উন্নত জাতের নির্বাচন: ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী ধানের জাত নির্বাচন করুন, যেমন ব্রি ধান-২৮, ব্রি ধান-৪৯, ইত্যাদি।
  • চাষের ঘূর্ণন: ধানের চাষের আগে এবং পরে অন্যান্য ফসল চাষ করুন যাতে মাটিতে রোগের উপস্থিতি কমে।

রোগ প্রতিরোধক পদার্থ:

  • কীটনাশক ও ফাঙ্গিসাইড ব্যবহার: প্রয়োজনীয় হলে ফাঙ্গিসাইড ব্যবহার করুন, যেমন কার্বেনডাজিম, ফ্লুট্রোইন, টেবিউকোনাজোল ইত্যাদি।
  • ফুলনিরোধক পদার্থ: কিছু প্রাকৃতিক পদার্থ যেমন নিম তেল বা ঘরোয়া কীটনাশক ব্যবহার করে রোগ প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ:

  • কৃষক ও কৃষক সংগঠনগুলোকে ব্লাস্ট রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দিন।
6 views

Related Questions