‘করোনা ভাইরাস’ (কোভিড-১৯) রোগের লক্ষণ ও তার প্রাদুর্ভাব রোধে করণীয় বিষয়টির উপর একটি রচনা লিখুন।
1 Answers
করোনা ভাইরাস বলতে মূলত একটি ভাইরাস পরিবারকে বোঝায় যেখানে অসংখ্য ভাইরাস একসাথে থাকে। এই পরিবারের সর্বশেষ আবিষ্কৃত ভাইরাসটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘নভেল করোনা ভাইরাস’ বা ‘এনসিওভি-১৯'। এই ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগকে বলা হয় ‘কোভিড-১৯’। ‘করোনা' শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ 'Corona' থেকে যার অর্থ 'মুকুট'। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে এই ভাইরাসের বাইরের অংশ দেখতে মুকুটের মতো মনে হয়, তাই এই নামকরণ। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে সর্বপ্রথম এই ভাইরাস ধরা পড়ে। করোনা ভাইরাস মারাত্মক ছোঁয়াচে। ধারণা করা হয়, বাদুড় বা সাপজাতীয় প্রাণী থেকে এ ভাইরাসের উৎপত্তি। করোনা ভাইরাস মূলত ভাইরাস সংক্রমিত প্রাণী থেকে মানবদেহে প্রবেশ করে। এরপর তা হাঁচি ও সর্দি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত ঘটায়। এই ভাইরাস মূলত মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়। এর প্রভাবে জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, স্বাদ ও গন্ধ হারিয়ে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ ছাড়াও এই ভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে। এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক দল নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই অনেক দেশ এতে সফলতাও পেয়েছে। সেখানে মানবশরীরে ভ্যাকসিনের প্রয়োগ শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে আশা করা যায়, সচেতনতা, সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই হবে এই ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় ।
রোগের লক্ষণ কীঃ রেসপিরেটরি লক্ষণ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ। এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে। সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ, পরে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচ দিন সময় নেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাসটির ইনকিউবেশন পিরিয়ড ১৪ দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। তবে কিছু কিছু গবেষকের মতে এর স্থায়িত্ব ২৪ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। মানুষের মধ্যে যখন ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেবে তখন বেশি মানুষকে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকবে তাদের। তবে এমন ধারণাও করা হচ্ছে যে নিজেরা অসুস্থ না থাকার সময়ও সুস্থ মানুষের দেহে ভাইরাস সংক্রমিত করতে পারে মানুষ ।
করোনা ভাইরাসে করণীয়ঃ জনসমাগম পরিহার করা; হাত ধোয়ার জন্য সাবান পানি/ স্যানিটাইজার ব্যবহার করা; হাঁচিকাশি শিষ্টাচার পালন; ব্যবহৃত টিস্যু আবদ্ধ পাত্রে ফেলা; কমপক্ষে ৩ থেকে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা; পাবলিক যানবাহন ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করা।
করোনা ভাইরাসে বর্জনীয়ঃ যেখানে সেখানে থুতু, কফ ফেলা যাবে না; হাত দিয়ে নাক, মুখ, চোখ স্পর্শ করা যাবে না; হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকলে নিজ কক্ষের বাইরে যাওয়া যাবে না; আক্রান্ত সন্দেহভাজনের ব্যবহৃত কিছু অন্যের স্পর্শ করা যাবে না; বিদেশ ভ্রমণ এবং দুরপাল্লার ভ্রমণ না করা ।