1 Answers

 

ধানের আধুনিক চাষ পদ্ধতি সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ধান উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মাটির উর্বরতা রক্ষা করার একটি প্রক্রিয়া। এই পদ্ধতিতে উন্নত জাতের ধান, সার ব্যবহার, সঠিক সময়ে পানি ব্যবস্থাপনা, এবং কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ফলন নিশ্চিত করা হয়। নিচে ধান চাষের আধুনিক পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো বর্ণনা করা হলো:

ধান চাষের আধুনিক পদ্ধতি:

উন্নত জাত নির্বাচন:

  • আধুনিক ধান চাষে উচ্চ ফলনশীল জাত (HYV) বা হাইব্রিড জাতের ধান বীজ ব্যবহার করা হয়, যা রোগ প্রতিরোধী এবং কম সময়ে বেশি ফলন দেয়।
  • বাংলাদেশের জন্য উন্নত জাতের মধ্যে ব্রি ধান-২৮, ব্রি ধান-২৯, ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৭৪ ইত্যাদি জাত বেশ জনপ্রিয়।

জমি প্রস্তুতকরণ:

  • জমি ভালোভাবে প্রস্তুত করতে ৩-৪ বার চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করা হয়।
  • মাটির মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার এবং রাসায়নিক সার মিশ্রণ করে জমি উর্বর করা হয়।

বীজতলা প্রস্তুত ও চারা রোপণ:

  • চারা রোপণের জন্য আলাদা বীজতলা প্রস্তুত করা হয়, যেখানে উন্নত মানের বীজ বপন করা হয়।
  • বীজতলায় ৩০-৩৫ দিনের চারা তৈরি হলে সেগুলো জমিতে রোপণের উপযুক্ত হয়।
  • চারা রোপণের সময় সাধারণত ১৫-২০ সেন্টিমিটার দূরত্বে চারাগুলি সোজা লাইনে রোপণ করা হয়, যাতে ধানের গাছ পর্যাপ্ত আলো ও বায়ু পায়।

সঠিক সময়ে সেচ ব্যবস্থা:

  • ধান চাষে সেচ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক চাষে নির্দিষ্ট সময়ে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।
  • সাধারণত ধান গাছে ২-৩ সেন্টিমিটার পানি রাখতে হয়, বিশেষ করে চারার বয়স ১৫-২০ দিন হলে এবং ফুল আসার সময় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা হয়।

সার ব্যবস্থাপনা:

  • মাটির পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি পূরণের জন্য রাসায়নিক সার যেমন, ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি এবং জৈব সার সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করা হয়।
  • ধান গাছের বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায়ে, যেমন চারা রোপণ, গুচ্ছ অবস্থায় থাকা, এবং ফুল আসার সময় সারের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়।

নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহার:

  • পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে ধানকে সুরক্ষিত রাখতে নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম।
  • আধুনিক চাষ পদ্ধতিতে সমন্বিত পোকা দমন ব্যবস্থা (IPM) ব্যবহার করা হয়, যাতে পরিবেশবান্ধব কীটনাশক এবং জৈব পদ্ধতি ব্যবহার করে ফসল সুরক্ষিত রাখা যায়।

আগাছা নিয়ন্ত্রণ:

  • ধানের জমিতে আগাছা নিয়ন্ত্রণ করতে হার্বিসাইড ব্যবহার করা হয়।
  • মাঝে মাঝে ম্যানুয়ালি আগাছা পরিষ্কার করাও আধুনিক চাষের একটি অংশ।

ফসল সংগ্রহ:

  • ধান পাকার ৩০-৩৫ দিন পর ধান কাটার উপযুক্ত হয়। আধুনিক পদ্ধতিতে ধান কাটার জন্য হারভেস্টার ব্যবহার করা হয়, যা সময় ও শ্রম দুটোই সাশ্রয় করে।
  • ধান কাটা শেষে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মাড়াই ও শুকানোর কাজ করা হয়।

ফসল পরবর্তী ব্যবস্থা:

  • আধুনিক পদ্ধতিতে ধান শুকানোর জন্য যন্ত্রপাতির ব্যবহার করা হয়, যাতে ধানের আর্দ্রতা ১৪% এর নিচে নেমে আসে। এর ফলে ধান বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় এবং চালের মানও ভালো থাকে।
5 views

Related Questions