1 Answers
ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ
ভোগে নয়, কর্মসম্পাদনের মাধ্যমে মানুষ নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে পারে। ভোগের লোভ মানুষের মাঝে চিরন্তন। ভোগের জন্য আধুনিক উপকরণ সংগ্রহে মানুষের চেষ্টার বিরাম নেই। ধনী আরও ধনী হতে চায়, সম্পদের পাহাড় গড়তে চায়। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে তাকে সুখী মনে হলেও ভোগের স্পৃহা তাকে ক্রমে বিলাসের সোনার হরিণ হতে দূরে ঠেলে দেয়; সৃষ্টি হয় গভীর অপরিতৃপ্তির। তার মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হয়ে সুখ নামক অদৃশ্য জিনিস তার নাগালের বাইরে চলে যায়। ফলে অতৃপ্ত ভোগের আকাঙ্ক্ষায় সে আরো অস্থির ও পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। ভোগের মোহ ত্যাগ করে যে ব্যক্তি কর্মের মাধ্যমে নিজের জীবনকে অতিবাহিত করে, তার প্রচুর ধন-দৌলত না থাকলেও কর্মগুণে সে অনাবিল আনন্দ উপভোগ করে। মাদার তেরেসা, ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল তাঁদের সেবামূলক কর্মের মাধ্যমে আজও বিশ্ববাসীর মনে জাগরূক। সুখের জন্য অনেকেই বিলাস-ব্যসনে মত্ত হয়ে ওঠে এবং ভোগ-বিলাসের নানারকম আয়োজন করে। কিন্তু কোনোভাবেই ভোগাকীর্ণ জীবন সুখ ও সমৃদ্ধির সন্ধান দেয় না। একমাত্র মহৎ কর্মের মধ্য দিয়েই সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি লাভ করা যায়। দেশব্রতী ও মানব্ৰতী কর্মেই মানুষ লাভ করে জীবনের পরম সার্থকতা। যথার্থ সুখের নাগাল পেতে আমাদের উচিত ভোগের মোহ ত্যাগ করা। মোক্ষম মুক্তির জন্য কর্মই পরম শক্তি।