1 Answers

ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি

জীবনের রূঢ় বাস্তবতার কাছে সৌন্দর্যচেতনা ও কল্পনা বিলাস অর্থহীন। মানব সভ্যতার প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই মানুষ অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করে যাচ্ছে। এই সংগ্রামে জয়ী মানুষের মনেই কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরা পড়ে। জীবন যুদ্ধে পরাজিত সৈনিককে পৃথিবীর রঙ-রূপ- রস-গন্ধ কোনোটাই আকৃষ্ট করতে পারে না। জীবন ধারণের মৌলিক প্রয়োজনকেই তিনি একমাত্র অবলম্বন হিসেবে জানেন। পক্ষান্তরে জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য সাহিত্য ও শিল্পকলার প্রয়োজনীয়তা আছে। মানব মনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুভূতির সন্ধান যদি না পাওয়া যায়, তবে সে মানব জীবন ব্যর্থ। অন্ন মানুষের উদর পূর্তি করে আর শিল্পকলা মানুষের মনন বিকশিত করে। জীবনের যথার্থ বিকাশের জন্য উভয়টিই দরকার। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য পৃথিবীর সিংহভাগ মানুষের নিত্যসঙ্গী। দুবেলা দুমুঠো অন্ন যোগাতে যাদেরকে উদয়াস্ত সংগ্রাম করতে হয়, তাদের জীবনে কাব্য সৌন্দর্যের কোনো দাম নেই। জীবনের রূঢ় বাস্তবতার কথাও কবির কাব্যে তুলে আনা উচিত। তা না হলে সেই কবির শিল্প সাধনাও ব্যর্থ। পেটে ভাত না থাকলে মানুষের পক্ষে শিল্পসৌন্দর্য উপলব্ধি সম্ভব না। পূর্ণিমার চাঁদকে তখন তার কাছে ঝলসানো রুটির মতো মনে হয়। মানবজীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য উদ্ঘাটনে ক্ষুন্নিবৃত্তির সাধনাকেই বিশেষ প্রধান্য দেওয়া উচিত। তবেই জীবন ও সাহিত্য সার্থক হয়ে ওঠবে।

12 views

Related Questions