1 Answers

উদ্দীপকে শিহাবের সংজ্ঞায় অতিব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে এবং মঈনের সংজ্ঞায় চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে। নিচে এই দুই প্রকার অনুপপত্তির মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-

যৌক্তিক সংজ্ঞার একটি অন্যতম ভ্রান্ত রূপ হচ্ছে 'অতিব্যাপক সংজ্ঞা' যার উদ্ভদ্ধ ঘটে সংজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের লঙ্ঘন থেকে। এ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পদের সংজ্ঞাদানের ক্ষেত্রে সেই পদের সংজ্ঞেয় ও সংজ্ঞার্থের ব্যক্তর্থ সমপরিমাণ হতে হবে, কম বা বেশি হতে পারবে না। কিন্তু কোনো পদের সংজ্ঞাদানের ক্ষেত্রে যদি সংশ্লিষ্ট পদের ব্যক্তর্থের চেয়ে বেশি ব্যক্তর্থযুক্ত পদ ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে 'অতিব্যাপক সংজ্ঞা' নামক ত্রুটিপূর্ণ সংজ্ঞার উদ্ভব ঘটে। এরূপ ক্ষেত্রে সংজ্ঞেয়ের ব্যক্তর্থের চেয়ে সংজ্ঞার্থের ব্যক্তর্থ বেশি থাকে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে সংজ্ঞেয় ও সংজ্ঞার্থ সমপরিমাণ হয় না, বরং সংজ্ঞার্থে সংজ্ঞেয়ের চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণ বিষয় বা বস্তু উল্লেখ থাকে। যেমন- 'মানুষ হয় প্রাণী' -এ সংজ্ঞায় মানুষ পদের ব্যক্তর্থের চাইতে 'প্রাণী' পদের ব্যক্তর্থ বেশি। তাই এখানে অতিব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে।

অপরদিকে যৌক্তিক সংজ্ঞার আরেকটি অন্যতম ভ্রান্তরূপ হচ্ছে 'চক্রক সংজ্ঞা', যার উদ্ভদ্ধ ঘটে সংজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের লঙ্ঘন থেকে। এই নিয়মের মূলকথা হচ্ছে, কোনো পদের সংজ্ঞাদানের ক্ষেত্রে ওই পদের কোনো প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। কারণ সংজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সংজ্ঞেয় পদের অর্থ সুস্পষ্ট করা। কিন্তু সংজ্ঞায় সংজ্ঞেয় পদের প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা হলে একই কথার পুনরাবৃত্তি ঘটে। আর এরূপ ক্ষেত্রেই উদ্ভব ঘটে 'চক্রক সংজ্ঞা' নামক ত্রুটিপূর্ণ সংজ্ঞার। 'হাতি হলো হস্তী'-একটি ভ্রান্ত সংজ্ঞা। কারণ এ সংজ্ঞাটিতে একই কথার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। কেননা 'হাতি' এবং 'হস্তী' একই অর্থ প্রকাশ করে ও একই প্রাণীকে নির্দেশ করে। তাই 'হস্তী পদ দ্বারা 'হাতি' পদের সংজ্ঞায় চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে।

সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় 'অতিব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' এবং 'চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' উভয়ই যৌক্তিক সংজ্ঞার অনুপপত্তি হলেও এরা প্রকৃতিগতভাবে একে-অপরের থেকে আলাদা।

5 views

Related Questions