1 Answers
ইমনের মা কৃষিক্ষেত্রে জলবায়ুর বিরূপ পরিবর্তনের কথা বললেন। বিভিন্ন ধরনের ফসলের জন্য জলবায়ুর বিভিন্ন উপাদান যেমন- বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতার প্রভাব রয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ফসল ধান, পাট, লিচু, পেঁপে, আনারস ইত্যাদির জন্য ৩১-৩৭০ সে. তাপমাত্রা প্রয়োজন। আবার, শীতকালীন ফসলের জন্য সর্বোত্তম গড় তাপমাত্রা হচ্ছে ১৬-৩০° সে.। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই তাপমাত্রার তারতম্য হলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। বীজের অঙ্কুরোদগম ও ফুল ধরার জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা প্রয়োজন। তাপমাত্রা ৩৫° সে. এর বেশি হলে ধানে চিটার পরিমাণ বেড়ে যায়। আমের পুষ্পমঞ্জরি গঠনের সময় তাপমাত্রা কম থাকলে পুরুষ ফুল বেশি হয়, আবার তাপমাত্রা বেশি হলে উভলিঙ্গ ফুল বেশি হয়। শাকসবজির ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ১০° সে. এর নিচে হলে গাছ ঠাণ্ডাজনিত ক্ষতে আক্রান্ত হয়, যার ফলে ফলন কম হয়।
অধিকাংশ ফসল বীজ গজানোর জন্য পরিমিত বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হয়। বেশি বৃষ্টিপাত হলে বপনকৃত বীজ পচে যায়। জলবায়ুর পরিবর্তনের মাধ্যমে ফসল পাকার সময় বেশি বৃষ্টিপাত হলে ফলন কম হয়। বেশ কিছুদিন খরা থাকার পর প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে আম, কলা, টমেটো, লিচু প্রভৃতিতে ফাটল দেখা যায়। তুষারপাত হলে সরিষার জাব পোকা ও আলুর ব্লাইট রোগ বৃদ্ধি পায়। সকল মাঠ ফসলই অতিরিক্ত কুয়াশা, শিলাবৃষ্টি ও তুষারপাত সহ্য করতে পারে না। শিশির ও কুয়াশা বেড়ে গেলে আলুর মড়ক রোগ বেড়ে যায়।
ফসলের দানা গঠন পর্যায়ে আর্দ্রতা কম থাকলে দানার সংকোচন ঘটে। শীতকালে অর্দ্রতা ৭৫-৮৫% এর বেশি হলে ফসলে জাব পোকা ও বিভিন্ন রোগের আক্রমণ ঘটে। গ্রীষ্মকালে আর্দ্রতা ৭৮- ৮৮% এর কম হলে বীজ গজানো ও ফসলের দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শিশির ও কুয়াশা ফসলের রোগ ও পোকার বিস্তার ঘটায়। অতএব বলা যায় যে, জলবায়ুর পরিবর্তন কৃষিক্ষেত্রে অনেক বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে।