1 Answers

উদ্দীপকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বর্ণিত প্রকৃতির সার হলো অণুজীব সার। 

যখন কোনো বৃদ্ধি মাধ্যমে অণুজীব জন্মিয়ে মৃত্তিকায় উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান সরবরাহের উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করা হয়, তখন তাকে অণুজীব সার বলে। অণুজীব সার মাটির উর্বরতা বাড়ায়। অনুর্বর ও বেলে মাটিতে এ সার প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়। একর প্রতি গাছকে ১০-১২ কেজি নাইট্রোজেন যোগান দেয়। যার ফলে ইউরিয়ার ব্যবহার ছাড়াই ভালো ফলন পাওয়া যায়। ফসফরাস অণুজীব সার ব্যবহারে মাটিস্থ ফসফেট দ্রবীভূত হয়ে তা ফসলের জন্য গ্রহণযোগ্য হয়। মাটিতে জৈব পদার্থ যুক্ত করে ফসলের ফলন ও গুণগত মান বৃদ্ধি করে। ডালজাতীয় ফসলের দানায় আমিষের পরিমাণ ৫০-১০০% বৃদ্ধি পায়। মাটি, ফসল, জলাশয়, পশু বা পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটায় না।মাটিতে উন্নত জৈব পদার্থ যুক্ত হয়। এ জাতীয় সার ব্যবহারে ফসলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা ও অন্যান্য ভৌত অবস্থার উন্নতি ঘটায়।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার তুলনায় জমির পরিমাণ অপ্রতুল থাকায় এবং স্বল্প জমিতে অধিক উৎপাদন করায় মাটির গুনগতমান কমে যাচ্ছে। অণুজীব সার প্রয়োগে মাটির উর্বরতা সুসংহত হয় এবং উদ্ভিদকে পুষ্টি সরবরাহের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে। রাসায়নিক সারের মতো উৎপাদনে ব্যয় বেশি হয় না এবং জমির জন্য নিরাপদ বলে বর্তমানে আমাদের দেশে অণুজীব সারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

অতএব বলা যায়, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বর্ণিত অণুজীব সার ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম।

4 views

Related Questions