1 Answers

সূত্র ও নীতিগাথা

সূত্র: বৌদ্ধ ধর্মে “সূত্র” (Sutra) বলতে বুদ্ধের উপদেশ, ধর্মীয় শিক্ষার ও উপাখ্যানের সংকলন বোঝায়। এই সূত্রগুলো বুদ্ধের জীবন ও teachings-এর বিভিন্ন দিক বর্ণনা করে এবং ভিক্ষু, ভিক্ষুনী ও সাধকদের জন্য নৈতিক ও আধ্যাত্মিক নির্দেশিকা প্রদান করে। মূলত, সূত্রগুলো বৌদ্ধ ধর্মের মৌলিক ধারণা ও শিক্ষাকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

নীতিগাথা: নীতিগাথা (Dhammapada) হলো একটি পুঁথি যা বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষার নীতিমালা সমন্বিত করে। এটি বিভিন্ন গুণাবলী, নীতি ও আধ্যাত্মিক সত্যের উপর ভিত্তি করে রচিত। নীতিগাথার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো মানুষের আচার-ব্যবহার ও মনোভাবের উপর আলোকপাত করে এবং জীবনযাপনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করে।

করণীয় মৈত্রী সূত্রের পটভূমি

করনীয় মৈত্রী সূত্র (Metta Sutta) হলো বুদ্ধের একটি বিশেষ সূত্র যা মৈত্রী বা ভালোবাসার প্রতি গুরুত্ব দেয়। এটি “মৈত্রী” (Metta) বা অশর্ত প্রীতি ও সদিচ্ছার উপর ভিত্তি করে। এই সূত্রের পটভূমি সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

উদ্দেশ্য: করণীয় মৈত্রী সূত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো সকল জীবের প্রতি মৈত্রী ও সদিচ্ছার চেতনাকে জাগ্রত করা। এটি মানবিক সম্পর্ককে মজবুত করে এবং সামগ্রিক শান্তি ও সুখের জন্য পথপ্রদর্শন করে।

প্রেক্ষাপট: এই সূত্রটি সেই সময়ের একটি পরিস্থিতিতে রচিত হয়েছে যখন মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ, শত্রুতা ও অহংকার বাড়ছিল। বুদ্ধ মানবজাতির মধ্যে সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এই সূত্রটি প্রদান করেন।

শিক্ষা: করণীয় মৈত্রী সূত্রে বলা হয়েছে কিভাবে একজন মানুষকে সকল জীবের জন্য মৈত্রী, প্রেম ও সহানুভূতি প্রকাশ করতে হবে। এটি মানুষের মনের মধ্যে অসংলগ্নতা দূর করে এবং ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাজ গড়ার জন্য প্রেরণা দেয়।

অনুশীলন: মৈত্রী সূত্রের মাধ্যমে একজন সাধক তার নিজের ও অন্যের জন্য ভালোবাসা ও সদিচ্ছার বাণী প্রচার করে। এটি ধ্যান ও আত্মউন্নয়ন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করে।

মোটামুটি, করণীয় মৈত্রী সূত্র বুদ্ধের মহৎ শিক্ষার একটি উদাহরণ, যা মানবিক সম্পর্ক ও সামাজিক সহাবস্থানে উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে পাঠকদের উদ্দেশ্যে একটি মহান বার্তা প্রদান করে।

4 views

Related Questions