1 Answers
উদ্দীপকের তৌসিফ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র।
বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং এদেশের অধিকাংশ লোকই কৃষক। তা সত্ত্বেও এদেশের কৃষকগণ কৃষিশিক্ষায় শিক্ষিত নন। এজন্য এদেশে উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। এদেশের ক্রমহ্রাসমান জমি থেকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের চাহিদা পূরণ করতে চাইলে কৃষিশিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং গবেষণা কার্যক্রমগুলো সম্প্রসারণের বিকল্প নেই।
কৃষিশিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে দেওয়া যেতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে জনগণ দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। কৃষিশিক্ষার মাধ্যমে ফসল উৎপাদনের কলাকৌশল, অধিক ফলনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত সম্প্রসারণ, উন্নত বীজ ও জাত নির্বাচন, কৃষি সমস্যা দূরীকরণ ইত্যাদি সম্পর্কে জানা যায়। সেচের উন্নত পদ্ধতি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি, গাছের রোপণ ও পোকা দমণের পরিবেশ সম্মত উপায়, অঙ্গজ উপায়ে চারা উৎপাদন কৌশল, ফসল সংরক্ষণ কৌশল ইত্যাদি সম্পর্কে কৃষি শিক্ষার মাধ্যমে জানা যায়। এছাড়াও গবাদিপশু, পোল্ট্রি মৎস্য ইত্যাদির উন্নত চাষপদ্ধতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জন করা যায়। কৃষিশিক্ষার এসব প্রয়োজনীয়তা মেটাতে কাজ করে চলেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তৌসিফ এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন শেষে দেশের সব অঞ্চলে তার অর্জিত এই সকল জ্ঞান ছড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেও শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখছে।
অতএব, মানসম্মত উচ্চতর কৃষি শিক্ষা গ্রহণ করে একজন দক্ষ কৃষিবিদ হিসেবে তৌসিফ তার কৃষি বিষয়ক তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান, কাজে লাগিয়ে এদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমি মনে করি।