1 Answers

উদ্দীপকের আশরাফ খান পাঠ্যপুস্তকের মুহম্মদ হানিফ পাঠান নামক ব্যক্তির সদৃশ। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উয়ারী-বটেশ্বর আবিষ্কারে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

১৯৩৩ সালে মুহম্মদ হানিফ পাঠান নামে একজন স্কুল শিক্ষক সর্বপ্রথম উয়ারী-বটেশ্বরের গুরুত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরেন। এই উয়ারী-বটেশ্বর নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলায় অবস্থিত। এখান থেকে তিনি অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কার করেছেন। ১৯৩৩ সালের ডিসেম্বরে উয়ারী গ্রামে যখন শ্রমিকরা মাটি খননের কাজ করেন তখন তারা একটি পাত্রে সঞ্চিত মুদ্রা ভাণ্ডার পান। তিনি সেখান থেকে ২০-৩০টি মুদ্রা সংগ্রহ করেন। এগুলো ছিল বঙ্গভারতের প্রাচীনতম রৌপ্য মুদ্রা। এটাই ছিল উয়ারী-বটেশ্বরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহের প্রথম চেষ্টা। তিনি তৎকালীন সাপ্তাহিক মোহাম্মাদীতে 'প্রাচীন মুদ্রা প্রাপ্তি' শীর্ষক সংবাদ ছাপেন। তিনি তার ছেলে হাবিবুল্লাহ পাঠানকে এই এলাকার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান সম্পর্কে সচেতন করে তুলেছিলেন। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে বটেশ্বর গ্রামে শ্রমিকরা দুটি লৌহ পিণ্ড পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে গেলে হাবিবুল্লাহ পাঠান তা নিয়ে তার বাবাকে দেখালে তিনি অভিভূত হন এবং ৩০ জানুয়ারি দৈনিক আজাদ পত্রিকায় পূর্ব পাকিস্তানে প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতা শিরোনামে একটি প্রবন্ধ ছাপেন হানিফ পাঠান। এরপর ঐ এলাকায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, আশরাফ খান তার গ্রামের জঙ্গলের ভিতরে প্রাচীন ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপ দেখে কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। পরবর্তী সময়ে তিনি তার সন্তান রফিক খানকে নিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রচুর প্রত্নতাত্ত্বিক দ্রব্য উদ্ধার করেন। আশরাফ খানের এসব কাজের সঙ্গে উয়ারী-বটেশ্বরের আবিষ্কারক হানিফ পাঠানের সাদৃশ্যতা বিদ্যমান।

উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উয়ারী-বটেশ্বর আবিষ্কারে উদ্দীপকের আশরাফ খানের সদৃশ ব্যক্তি হানিফ পাঠানের অবদান ছিল অসামান্য, যা উপরের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।

5 views

Related Questions