1 Answers

উদ্দীপকে আদি-অস্ট্রেলীয়, দ্রাবিড় ভাষা-ভাষী জনগোষ্ঠী, আর্য ভাষা-ভাষী জনগোষ্ঠী, তুর্কি, আফগান, মুঘল, আরবি, আবিসিনীয় এবং ইরানিদের ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের অধিবাসীদের মধ্যে আদি-অস্ট্রেলীয় প্রভাব বিদ্যমান যাদের এখন বলা হয় ভেড্ডিড। ধারণা করা হয়, এরাই হচ্ছে এ অঞ্চলের অন্যতম স্থানীয় প্রাচীন জনগোষ্ঠী। এদের প্রভাব বর্তমান সাঁওতাল এবং ওঁরাওদের মধ্যে লক্ষ করা যায়। এমনকি, সমতলবাদী বাংলাদেশীদের একটি অংশের মধ্যে এ ভেড্ডিড উপাদান রয়েছে বলে মনে করা হয়। এদেশের আরেকটি স্থানীয় প্রাচীন জনগোষ্ঠী হচ্ছে দ্রাবিড় ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী। ভেড্ডিড-দ্রাবিড়দের ওপর মঙ্গোলীয় প্রভাব সুস্পষ্ট। এদেশে মঙ্গোলীয়রা উত্তর ও পূর্বাঞ্চল থেকে আগত বস্তুত চীনের হোয়াংহো অঞ্চলের মঙ্গোলীয় ধারা, বাংলাদেশের জনপ্রকৃতিতে সবচেয়ে বেশি ছাপ রেখেছে বলে ধারণা করা হয়। এছাড়াও বাংলাদেশের জনপ্রকৃতিতে আর্যভাষা-ভাষী একটি ধারা প্রভাব ফেলেছে বলে পণ্ডিত মহলের ধারণা এবং বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীতে তুর্কি, আফগান, মুঘল, আরবি, আবিসিনীয় এবং ইরানিদের প্রভাব রয়েছে।

উদ্দীপকের নিয়াজ 'ভলগা থেকে গঙ্গা' গ্রন্থ পড়ে জানতে পারলো আদিকাল থেকে এ অঞ্চলের কৃষ্টি-কালচার ধারাবাহিক বিবর্তনের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। এই বিবর্তনে এই ভূ-খণ্ডের জনগোষ্ঠী যেমন ভূমিকা রেখেছিল তেমনি পরবর্তীকালে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর আগমনের মধ্য দিয়েও তা সমৃদ্ধ হয়েছে। এর মাধ্যমে নিয়াজ যে জনগোষ্ঠীর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তা উপরি- উক্ত আলোচনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বিভিন্ন প্রাচীন জনগোষ্ঠীর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যাদের বিবর্তনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষ্টি-কালচার গড়ে উঠেছে।

5 views

Related Questions