1 Answers

উদ্দীপকে সামাজিক বিজ্ঞানের অন্যতম কনিষ্ঠ শাখা সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের বিকাশধারা ফুটে উঠেছে। 

১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বৃহৎ বঙ্গে সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সে সময় স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে নয়, বরং অর্থনীতি বিভাগের এম. এ. কোর্সের একটি পত্র হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের অধ্যয়ন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে বর্তমান বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৯২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে দর্শন বিভাগে এম. এ. কোর্সের পাঠ্যসূচি হিসেবে 'Ethics and Sociology' নামে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৩৯- ৪০ শিক্ষাবর্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের আওতায় 'Elements of Sociology' শিরোনামে সমাজবিজ্ঞান-এর কিছু বিষয় পড়ানো হয়। এরপর ইউনেস্কো ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে ১৯৫৭- ৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান সর্বপ্রথম একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। উল্লেখ্য, স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের আত্মপ্রকাশের ক্ষেত্রে অধ্যাপক অজিত কুমার সেন ও ড. এ. কে. নাজমুল করিমের অবদান অপরিসীম।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক প্রয়োজনে ব্রিটিশদের উদ্যোগে রচিত বিভিন্ন রচনা এবং এ অঞ্চলের বুদ্ধিজীবীদের নানা প্রকাশনার ওপর ভিত্তি করে ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত নতুন একটি বিষয়ের অধ্যয়ন শুরু হয়, যা মূলত সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের বিকাশধারাকেই নির্দেশ করে।

উপরের আলোচনার পরিসমাপ্তিতে বলা যায় যে, সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব হঠাৎ করেই হয়নি, বরং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের একান্ত প্রচেষ্টায় শাস্ত্রটি উপমহাদেশে বিকাশ লাভ করেছে।

4 views

Related Questions