1 Answers

উদ্দীপকের মি. 'ক'-এর মাধ্যমে প্রখ্যাত সমাজ গবেষক অধ্যাপক ড. এ. কে. নাজমুল করিমের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। কেননা এ কে নাজমুল করিম বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং তিনিই ছাত্রজীবনে 'ভূগোল ও ভগবান' শীর্ষক প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন, যা উদ্দীপকে বর্ণিত মি. ক-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ. কে. নাজমুল করিম ছিলেন একজন মানবতাবাদী সমাজবিজ্ঞানী।

একজন মানবতাবাদী সমাজবিজ্ঞানীকে মানবসমাজ অধ্যয়ন করতে হয়। সমাজবিজ্ঞানী নাজমুল করিমও মানবসমাজ নিয়ে গবেষণা করেছেন। তার রচিত 'Changing Society in India and Pakistan' এ অঞ্চলের সমাজ সম্পর্কিত অন্যতম গবেষণা গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি নিজেই শুধু বাংলাদেশের মানুষ, সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গবেষণা করেননি, সেইসাথে তার ছাত্রদেরকেও মানুষ, সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গবেষণা করতে অনুপ্রাণিত করেছেন।

বিগত শতাব্দীর ষাটের দশকে নাজমুল করিম তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নয়নপুর গ্রামের সামাজিক পরিবর্তন ও স্তরবিন্যাসের ওপর ইংরেজ শাসনের প্রভাব পর্যালোচনা করেন। তার এ গবেষণার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের সামাজিক স্তরবিন্যাসের রূপরেখা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে, যা পরবর্তীতে সরকারি উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণির অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করেছে। তিনি মানবতাবাদী ও শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠারও সমর্থক ছিলেন। তার রচনার মধ্য দিয়ে তিনি শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছেন। নাজমুল করিমের এ ধরনের রচনার মধ্যে 'Social and Economic Background of Islam', 'Political Elite and Agrarian Radicalism in East Pakistan' ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। উপরোক্ত আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, অধ্যাপক নাজমুল করিম মেধা, মনন এবং কর্মকাণ্ডে ছিলেন একজন মানবতাবাদী সমাজবিজ্ঞানী।

5 views

Related Questions