1 Answers

আ: রহিম পূর্ণবয়স্ক হাঁস পালনের ক্ষেত্রে মুক্ত পালন পদ্ধতি এবং বাচ্চা হাঁস পালনের ক্ষেত্রে আবদ্ধ পালন পদ্ধতি অবলম্বন করেন।

মুক্তপালন পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে হাঁসকে কেবলমাত্র রাতের বেলায় ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। দিনের বেলায় হাঁস বিভিন্ন জায়গায় যেমন- পুকুর, নদী-নালা, হাওর, বিল প্রভৃতি জায়গায় চরে বেড়ায়। হাঁস সকালের দিকে ডিম পাড়ে। মুক্ত অবস্থায় হাঁস পালন পদ্ধতিতে হাঁসগুলোকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘরের মধ্যে আবদ্ধ রেখে তারপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে ডিম সংগ্রহ করা সুবিধাজনক হয়। এই পদ্ধতিতে হাঁসগুলোকে বাইরে থেকে কোনো খাবার সরবরাহ করার প্রয়োজন হয় না। কারণ সারাদিন প্রাকৃতিক উৎস থেকে এরা বিভিন্ন খাদ্য, যেমন শামুক, ছোট মাছ, জলজ উদ্ভিদসহ বিভিন্ন দানাশস্য ও কীটপতঙ্গ সংগ্রহ করে খায়। ফলে খাদ্য বাবদ খরচ কম লাগে। এছাড়াও বাসস্থানের জন্য খুব অল্প পরিমাণ জায়গার এবং ব্যবস্থাপনায় কম শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।

আবদ্ধ পদ্ধতি; এ পদ্ধতিতে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে হাঁসকে সব সময় আবদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়। বাচ্চা হাঁস পালনের জন্য এ পদ্ধতি বেশি উপযোগী। আবদ্ধ হাঁস পালন পদ্ধতি আবার দু ধরনের হয়ে থাকে। যেমন-

(ক) মেঝে পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে আবদ্ধ অবস্থায় হাঁসের বাচ্চা মেঝেতে পালন করা হয়। এ ধরনের মেঝেতে বিছানা হিসাবে খড়ের লিটার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ পদ্ধতিতে খাবার এবং পানি দিয়ে বিছানা যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

(খ) ব্যাটারি বা খাঁচা পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে হাঁসের বাচ্চাকে খাঁচায় পালন করা হয়ে থাকে। প্রতিটি বাচ্চার জন্য খাঁচার ০.০৭ বর্গমিটার জায়গার প্রয়োজন হয়। বাচ্চা পালনের জন্য এ পদ্ধতি অত্যন্ত উপযোগী।

এ পদ্ধতিতে খাদ্য গ্রহণ সমভাবে হয়, শ্রমিক ও জায়গা কম লাগে, সহজে রোগ প্রতিরোধ করা যায়, বন্য পশুপাখি হাঁসের ক্ষতি করতে পারে না। কিন্তু ঘর নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি বাবদ খরচ বেশি হয়, বেশি পরিমাণ খাবার সরবরাহ করতে হয়, হাঁসের মুক্ত আলো বাতাসের অভাব হয় এবং নিবিড় যত্ন নিতে হয়। 

5 views

Related Questions