1 Answers

 উদ্দীপকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত চিংড়িতে ফরমালিনের উপস্থিতি শনাক্তকরণের পর বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি ক্রয় করা অর্থাৎ আমদানি করা বন্ধ করে দেয়। ফরমালিন মানুষের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ফরমালিনযুক্ত মাছ খেলে মানবদেহে বিভিন্ন রোগ যেমন- শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, পেট ব্যাথা, চর্মরোগ, বমি, কিডনির ক্ষতি, পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা ছাড়াও ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। ফরমালিনযুক্ত মাছের গন্ধ প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে হাঁচি, কাশি, কণ্ঠনালীতে অম্লীয় অনুভূতি, প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস প্রভৃতি সমস্যার সৃষ্টি হয়। ফরমালিনের বিষাক্ততা দীর্ঘদিন থাকে এবং রান্না করার পরও বিষাক্ততা কমে না।

অন্যদিকে, তাদের এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের চিংড়ি চাষিদের জন্য তো বটেই, সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির জন্যও মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। চিংড়িকে বাংলাদেশের "White gold" বা সাদা সোনা বলা হয়। বাংলাদেশ চিংড়ি রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। চিংড়ি চাষের সাথে আমাদের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান জড়িত। শিক্ষিত বেকার যুবকেরা সরকারি ও বেসরকারিভাবে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষুদ্রায়তন চিংড়ি খামার গড়ে তুলে সহজেই লাভবান হতে পারে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি ক্রয় না করার সিদ্ধান্তের ফলে উপরিউক্ত সুবিধাগুলো থেকে বাংলাদেশের মানুষ বঞ্চিত হয়। সামগ্রিকভাবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর জন্য সিদ্ধান্তটি উপযোগী হলেও তা বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায় এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। 

4 views

Related Questions