1 Answers
বিশিষ্ট সমাজ গবেষক ড. জাকির আহমেদ ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধকে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। ইসলামি আদর্শভিত্তিক ভ্রাতৃত্ব দেশ, কাল, গোত্র, বর্ণ, ভাষা এবং আঞ্চলিকতা ও ভৌগোলিক সীমারেখার ঊর্ধ্বে। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বভ্রাতৃত্ব এবং উদার মানবতা ইসলামি ভ্রাতৃত্বের ভিত্তির ওপরই গড়ে উঠতে পারে। তাছাড়া মহানবি (স)কে কোনো বিশেষ গোত্র বা বিশেষ স্থান ও জাতি গোষ্ঠীর কাছে প্রেরণ করা হয়নি। তাকে প্রেরণ করা হয়েছে গোটা মানবজাতির কাছে। মহানবি (স)কে সম্বোধন করে আল্লাহ বলেন, (হে মুহাম্মদ) তুমি বলো, হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের রাসুল হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। (সুরা আরাফ: ১৫৮)।
উদ্দীপকের ড. জাকির আহমেদ মনে করেন ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধ বিশ্বশান্তির দরজা উন্মুক্ত করবে এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান নিয়ামত। তার এ মতামত অত্যন্ত যুক্তিসংগত। কারণ, বিশ্বের সকল মানুষই আদি পিতা-মাতা হযরত আদম (আ) ও হাওয়া (আ)-এর বংশধর। সুতরাং বিশ্বের সকল মানুষই পরস্পর ভাই ভাই। একে মূলগত ভ্রাতৃত্ব বলে।
সুতরাং মানুষের মধ্যে দেশ, কাল, বর্ণ, বংশ, ভাষা ও 'গোত্রের পার্থক্য দূর করে মানবতার ভিত্তিতে ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য ইসলাম বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানিয়েছে।
তাই বলা যায়, ইসলামি সমাজে প্রচলিত ভ্রাতৃত্ববোধ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অন্যতম নিয়ামক এবং এর মাধ্যমে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।