1 Answers
রহিমের কাজ 'সদকায়ে জারিয়াহ' হিসেবে পরিগণিত হবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রহিম একজন কৃষক। সে কৃষিকাজ করে, ফসল ফলায়। সে গাছ লাগায়, ফল উৎপাদন করে। উক্ত ফসল ও ফল নিজের প্রয়োজন মতো পরিবারের সবাইকে নিয়ে খায় এবং প্রতিবেশী ও গরিবদের মধ্যে সাধ্যমতো বিতরণ করে। তার এ কাজটি পরিবেশ সংরক্ষণে বিরাট ভূমিকা রাখে। রহিমের কাজগুলো মানুষের জীবিকার চাহিদা পূরণ করে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়ক। গাছ মানুষের নীরব। বন্ধু। গাছ মানুষের বাঁচার জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করে। অপর দিকে মানুষ অক্সিজেন গ্রহণ করে প্রতিটি নিঃশ্বাসে, আর ত্যাগ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড। যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর আর গাছের জন্য খাবার। অর্থাৎ গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন ত্যাগ করে। মহান রাব্বুল আলামিন সৃষ্টিজগতের ভারসাম্য রক্ষার জন্য কত সুন্দর পদ্ধতি তৈরি করে দিয়েছেন। এখন মানুষ যদি শুধু নিজেদের ভোগ-বিলাসের জন্য প্রয়োজনে- অপ্রয়োজনে গাছ কেটে ফেলে অথবা ফসল বিনষ্ট করে তবে পৃথিবীতে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেবে, পরিবেশ সংরক্ষণের পরিবর্তে পরিবেশ ধ্বংস হবে। কেননা মানুষ তখন আর নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো অক্সিজেন পাবে না। সুতরাং এটা প্রমাণিত যে, সুন্দর পৃথিবীর জন্য, বিশুদ্ধ বায়ুর জন্য, পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য, ফসলের আবাদ এবং গাছের কোনো বিকল্প নেই। একটি দেশের জন্য শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা দরকার। এর কম হলে প্রাকৃতিক খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদির মতো দুর্যোগ নেমে আসে।
পরিশেষে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, রহিমের কাজটি পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখবে এবং আল্লাহর নিকটে তা সাদকাহ হিসেবে পরিগণিত হবে।