1 Answers
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংবিধান তথা মদিনা সনদের গুরুত্ব অপরিসীম। মদিনা সনদ পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত সনদ। ইতিপূর্বে রাষ্ট্র পরিচালনায় জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এমন সর্বজনীন সনদ কখনও প্রণীত হয়নি। তাই এ সনদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সনদের মাধ্যমে মহানবি (স) ও মুসলমানদের উদারনীতির বিকাশ ঘটেছে। এ সনদের মাধ্যমে গোত্রে গোত্রে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা হয়। রাসুল (স) বিচক্ষণতার সাথে এর ধারা সন্নিবেশ করলেন যার মাধ্যমে কৌশলে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ তৈরি হলো।
মদিনা সনদের মাধ্যমে সর্বপ্রথম ইসলামি গণতন্ত্রের বীজ বপন করা হয়। এ সম্পর্কে লুইস বলেন- ‘রাজনৈতিক দিক হতে পশ্চাৎপদ আরবদের কাছে ধর্ম ছাড়া অন্যদের রাষ্ট্রের মূলভিত্তি | গ্রহণীয়ও হতো না।’ পি.কে. হিট্টি বলেন- 'মদিনা প্রজাতন্ত্রই পরবর্তীকালে ইসলামি সাম্রাজ্যের ভিত্তিমূল স্থাপন করে।' মদিনায় বসবাসরত অন্য সম্প্রদায় বনু নাজ্জার, বনু আওফ, বনু সাদ, বনু হারিস, নাসারা ও পৌত্তলিক সকল সম্প্রদায় ও গোত্র রাসুল (স) কে নেতা ও শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে মেনে নেন।
মদিনা সনদের মাধ্যমে মহানবি (স) আরবের তৎকালীন অসভ্য ও অশান্ত জাতির মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ সনদে প্রমাণিত হয়েছে নবিজি (স) শুধু একজন ধর্মপ্রচারকই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন নিঃসন্দেহে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ যুগান্তকারী বিপ্লবী মহাপুরুষ। এ সনদের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় রাসুল (স) নবি হিসেবেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেননি বরং অত্যন্ত দূরদৃষ্টিসম্পূর্ণ রাজনীতিবিদ ও সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভার অধিকারী। উক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, বর্তমান সমাজে 'মদিনা সনদের' প্রয়োগ ঘটলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ঘটত না।