1 Answers

কৃষিকাজের জন্য লাল মিয়া কৃষি ঋণ গ্রহণ করেন। গৃহীত কৃষি ঋণ নিম্নরূপভাবে কৃষিকাজে ভূমিকা রাখে-

১. কৃষি উপকরণাদি ক্রয়: কৃষকেরা কৃষি উৎপাদন কাজ পরিচালনার জন্য লাঙ্গল, বলদ, 'সার, বীজ, কীটনাশক প্রভৃতি উপকরণাদি ক্রয়ের জন্য ঋণ গ্রহণ করে থাকে। এছাড়া শস্য সংগ্রহ, মাড়াই, ঝাড়াই, শুকানো, সংরক্ষণ প্রভৃতি কাজের জন্য কৃষকদের ক্ষুদ্র ঋণের প্রয়োজন হয়।

২. কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ: উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সুষ্ঠুভাবে বাজারজাতকরণের জন্য কৃষকেরা অনেক সময় ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করে থাকে। ন্যায্যমূল্য পাওয়ার জন্য উৎপাদিত ফসল গুদামজাত করার প্রয়োজনে গুদাম ঘর নির্মাণ, পণ্যের পরিবহন প্রভৃতি কারণে কৃষকদের ঋণ গ্রহণ করতে হয়।

৩. শস্য সংরক্ষণ: আমাদের দেশে উৎপন্ন ফসলাদির সুষ্ঠু সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকেরা বাধ্য হয়ে ফসল তোলা মাত্রই বিক্রি করে দেয়। এর ফলে তারা ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় না। এ সকল উৎপন্ন ফসলাদি সংরক্ষণ করে উপযুক্ত মূল্যে বিক্রি করতে হলে সংরক্ষণাগার আবশ্যক। এজন্য গুদাম ঘর নির্মাণ, কোল্ড স্টোরেজ তৈরি প্রভৃতি প্রয়োজনে কৃষকেরা ঋণ গ্রহণ করে থাকে।

৪. প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় বলতে গেলে এদেশের নিত্য বছরের সাথী। এ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক সময় কৃষকদের আর্থিক অবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়ে। তখন তাদের এ নাজুক অবস্থা কেটে ওঠার জন্য ঋণ গ্রহণ প্রায় অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

৫. পারিবারিক ব্যয় মিটানো: এদেশের কৃষকেরা তাদের পারিবারিক ব্যয় নির্বাহ, বিবাহ, আকিকা, বাড়িঘর নির্মাণ ও মেরামত চিকিৎসা, ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা প্রভৃতি কাজের ব্যয় মেটানোর জন্য ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করে থাকে।

5 views

Related Questions