1 Answers
শফিক কৃষি বনায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে লাভবান হয়।
মাঠ ফসলের মাঝে মাঝে কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির গাছ লাগিয়ে যে বনায়ন করা হয় তাকে কৃষি বন বলে। এধরনের বনায়নে ফসলের বা খামারের উৎপাদনের উপর কোনোরূপ নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। কৃষি বন আমাদের জীবনের বহুমুখী সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের বনায়নের মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ও আসবাবপত্রের জন্য কাঠ যোগান ও জ্বালানি কাঠের ঘাটতি পূরণ করা যায়। প্রাপ্ত কাঠ এবং এ থেকে তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। পতিত জমি, বসত ভিটায় এ ধরনের কৃষি বন সৃজনের ফলে পরিবেশের সংরক্ষণ হয়। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, পরিবেশ দূষণ, মরুবিস্তার ও ভূমিক্ষয় রোধে এ বন ভূমিকা রাখে। দূষণ মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার ফলে রোগব্যাধির প্রকোপ কমে যায়। ভূমির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে অধিক উৎপাদন হয় যা অধিক লাভের সৃষ্টি করে। এ ধরনের বনের গাছ প্রস্বেদন হার বাড়িয়ে বৃষ্টিপাত বাড়ায়। বন সংলগ্ন এলাকার বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্প থাকে বলে সেখানে বৃষ্টিপাত বেশি হয়। বায়ুমন্ডলের অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে ও অক্সিজেন সরবরাহ করে। এধরনের বনায়নের প্রধান সুবিধা হলো- কৃষকের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ে এবং ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
উপরের আলোচনা হতে দেখা যাচ্ছে, কৃষি বনায়নের সব উপাদান সমন্বিতভাবে পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে ও আয় বৃদ্ধি করে যার মাধ্যমে শফিক উপকৃত হচ্ছে।