1 Answers

ইসলামকে একটি গতিশীল জীবন ব্যবস্থা বলা হয় কারণ এটি শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস বা আচার-আচরণের مجموعه নয়; বরং এটি একজন মুসলমানের জীবনের সকল দিককে সংহত ও পরিচালিত করার জন্য একটি ব্যাপক জীবনদর্শন এবং ব্যবস্থাপনা। ইসলামের কিছু বৈশিষ্ট্য যা এটি একটি গতিশীল জীবন ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে:

১. সর্বাত্মক দিকনির্দেশনা:

ইসলাম ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ জীবনের সব ক্ষেত্রের জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এর মাধ্যমে প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য সঠিক ও উপযুক্ত নিয়ম এবং নীতিমালা নির্ধারিত হয়েছে।

২. নৈতিক এবং সামাজিক মূল্যবোধ:

ইসলাম মানুষের নৈতিক ও সামাজিক জীবনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে এবং মানুষের মধ্যে সহযোগিতা, সৎপথে চলা, এবং সাম্যবাদের প্রতি গুরুত্ব দেয়। এটি মানুষের সামাজিক সম্পর্ক, পরিবার ব্যবস্থাপনা, এবং সমাজের জন্য প্রযোজ্য নীতিমালা প্রদান করে।

৩. পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য:

ইসলাম পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সক্ষম। এর মূলনীতিগুলি কালক্রমে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে পারে। ইসলামের মৌলিক বিধি ও নীতির সঙ্গে আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার প্রস্তাবনা রয়েছে।

৪. মানবিক স্বীকৃতি:

ইসলাম মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং মৌলিক মানবিক অধিকারকে গুরুত্ব দেয়। এটি সামগ্রিক মানব জীবনের কল্যাণের জন্য প্রস্তাবিত করে এবং মানবতার উন্নতির জন্য নিয়মিত নির্দেশনা প্রদান করে।

৫. বৈশ্বিক পরিসরে অবদান:

ইসলাম শুধু ব্যক্তিগত জীবনের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে শান্তি, সহযোগিতা, ও সহনশীলতার জন্য পরামর্শ দেয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্ম, জাতি, এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও সৃজনশীল সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।

উপসংহার:

ইসলাম একটি গতিশীল জীবন ব্যবস্থা কারণ এটি মানবজীবনের সব দিককে সংগঠিত ও পরিচালিত করার জন্য একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। এটি সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে চলতে সক্ষম এবং সমাজের উন্নতি ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

7 views

Related Questions

মানুষের জীবনপ্রবাহ গতিশীল ও পরিবর্তনশীল। মানবসমাজে নিরবচ্ছিন্ন সুখ বা নিরবচ্ছিন্ন দুঃখ বিরাজোমান নয় । অথচ মানুষ যখন সুখসাগরে অবগাহন করে অকস্মাৎ দুঃখ এস হানা দেয়, মানুষ অসহায় ও হতাশ হয়ে পড়ে। কিন্তু জীভনের এই ছন্দপতন সহজভাবে মেনে নিতে অভ্যস্ত হলে আরো সহজ এবং সুন্দর হয়ে উঠবে মানুষের জীবন। জীবন সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে অনায়াসে । মন্দ কিংবা ভালো যাই হোক না কেন সত্যকে জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত । ত েসত্যকে রক্ষা করার জন্যে মানসিক দৃঢ়তা প্রয়োজন । দৃঢ় মনোবলের মধ্যে দিয়ে, আদর্শ ও নীতি অক্ষুন্ন রেখে নিখাদ সৎ হয়ে উঠতে পারলেই প্রকৃত গন্তব্যে পৌছানো সম্ভব । ক্নিতু সত্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রকৃত গন্তব্য উপনীত হওয়ার সংগ্রাম খুবই কঠিন। যেসব মনীসী পৃথিবী অমর হয়েছেন। তাঁরা নিষ্ঠূর নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েও সত্যকে বর্জন বা ত্যাগ করেন নি, বরং আরো আঁকড়ড়ে ধরেছেন। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সা) এর শ্রেষ্ঠতম উদাহরণ। (Bangla to English)
1 Answers 12 Views
কর্ম মুখর পৃথিবীতে মানুষ তার কর্মময় জীবন নিয়ে বেঁচে থাকে। এই কর্মের সোনালি ফসল কিছু সে ভোগ করে , আর কিছু জগতের কল্যানের জন্য নিবেদন করে। এ পৃথিবীতে মানুষের জীবন নশ্বর তাই নশ্বর জীবনে যা কিছু ভোগ করা হয় , জীবন অতিবাহিত হওয়ার পথে তা নিঃশেষিত হয়ে যায়। এ জগতে যারা স্বার্থপর তাদের জীবনে ভোগের পরিমান বেশি। কিন্তু যারা কল্যানকামী , যারা ত্যাগ স্বীকার করে মানবকল্যানের জন্য নিজদের জীবনকে উৎসর্গ করে গিয়েছেন , তাদের মৃত্যুর সাথে সাথে সে জীবন নিঃশেষিত হয়ে যায় না। ব্যাক্তিমানুষের মৃত্যু ঘটে, কিন্তু কীর্তি বেঁচে থাকে। তাই যে ব্যাক্তি জনগনের কল্যানে কিছু করে , মানবজীবনে তা অমর হয়ে রয়ে যায়। বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে দৃষ্টি নিবন্ধ করলে দেখা যায় , জগতে যারা মানবকল্যানে কিছু দিয়ে গেছেন তারাইওমর হয়ে আছেন। মহাকালের করাল গ্রাসে সবই চলে যায় , কিন্তু বেঁচে থাকে তার সুকীর্তি। সেই মহৎ কীর্তি জগতে অমর হয়ে থাকে। সকৃতজ্ঞ জনগন তার অবর্তমানে তার দানের ভার বহন করে।
1 Answers 16 Views